জনসংখ্যা সম্পর্কে বর্তমানে বাংলাদেশের স্লোগানটি হলো- 'দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়'।
একটি দেশের জনসংখ্যা বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে 'পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্য যে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয় তাকেই বলে জনসংখ্যা নীতি। জনসংখ্যা সম্পর্কিত নীতির লক্ষ্য হলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে দেশের জীবনমানের উন্নতি এবং দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তাই একটি দেশের জন্য জনসংখ্যা নীতির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
উদ্দীপকের তথ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সরকারি উদ্যোগকে নির্দেশ করছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যা যেকোনো দেশের জন্যই হুমকিস্বরূপ। তাই জনসংখ্যার নিয়ন্ত্রণে সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। আমাদের দেশেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। যেমন- নিরক্ষরতা দূরীকরণ, নারীশিক্ষার প্রসার, চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা প্রভৃতি। উদ্দীপকের তথ্যে এ কার্যক্রমের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সরকারের উল্লেখযোগ্য একটি উদ্যোগ হলো কাজি অফিসে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা। উদ্দীপকের বস্তি এলাকায় কর্মকর্তারা দেখতে পান, অনেক দম্পতিরই বিয়ের বৈধ কাগজ নেই। অর্থাৎ তারা কাজি অফিসে তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশন করেনি। তাই সরকার বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের উপর জোর দিচ্ছে। কারণ প্রতিটি বিবাহ সরকারিভাবে রেজিস্ট্রি হলে তা যেমন সরকারি নিয়মনীতি মেনে করতে হবে তেমনি বাল্যবিবাহের হার কমবে। ফলে অতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনাও অনেকাংশে কমে যাবে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের তথ্য সরকারের বিয়ে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগটি নির্দেশ করছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য উদ্দীপকে উল্লিখিত কর্মকর্তাদ্বয়ের দ্বিতীয় কার্যক্রম তথা জনগণকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে সরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরামর্শ প্রদান যথার্থ এবং যুক্তিযুক্ত বলে আমি মনে করি।
দক্ষ জনগোষ্ঠী দক্ষ জনসম্পদে নির্দেশ করে। অর্থাৎ জনসম্পদ বলতে সাধারণত দক্ষতাসম্পন্ন মানুষকে বোঝায়। উদ্দীপকে কর্মকর্তাদ্বয় বস্তি এলাকার মানুষদের পরামর্শ দিয়েছেন। তাদেরকে কাজ শিখে তাদের আয় বাড়ানোর জন্য সুযোগ করে দিতে সরকারি সেবা গ্রহণের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। এভাবে জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা যায়। বিশ্বে অনেক দেশ ইতোমধ্যে তাদের বিশাল জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করেছে। এ ব্যাপারে চীনের উদাহরণ দেওয়া যায়।
একটি দেশের জনসংখ্যা তখনই সম্পদে পরিণত হয় যখন তারা কাজ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। দেশের অশিক্ষিত ও কর্মহীন জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে তরুণদের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে জনসংখ্যাকে অনায়াসে জনসম্পদে পরিণত করা সম্ভব।
তাই বলা যায়, জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য কর্মকর্তাদ্বয়ের কার্যক্রম যথার্থ হয়েছে।
Related Question
View Allউন্নয়ন শব্দটি অগ্রগতি বা বৃদ্ধির একটি নির্দিষ্ট অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ উন্নয়ন এমন একটি প্রক্রিয়া যা বৃদ্ধি সৃষ্টি করে, অগ্রগতি এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। সাধারণত, উন্নয়ন শব্দটি ইতিবাচক পরিবর্তনকে বর্ণনা করে।
মানবিক ভূগোলের একটি প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো জনসংখ্যা। কোনো দেশের নারী-পুরুষ মিলে যে মোট লোকসংখ্যা হয় তাকে ওই দেশের জনসংখ্যা বলে। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট ভূখন্ডের একক জনগোষ্ঠীকে ওই ভূখণ্ডের জনসংখ্যা বলে।
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়।
অর্থাৎ মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয়/মোট জনসংখ্যা
বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১৭১ জন লোক বাস করে এবং মাথাপিছু আয় ২৭৮৪ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪)।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৬ জন লোক বাস করে এবং তাদের মাথাপিছু আয় ৮১,৬৯৫ মার্কিন ডলার (ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, ২০২৩)।
একটি দেশ ভবিষ্যতে কতটা উন্নতি করবে তা দেশটির অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও তার জনসংখ্যানীতির কার্যকর প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল এবং উন্নয়নশীল দেশের বেলায় কথাটা আরও বেশি সত্যি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!