একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে নির্দেশিত বিজ্ঞান তথা সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ। এখনও এদেশে সমাজের নানা স্তরে বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা লক্ষ করা যায়। এ সমস্যাগুলোর মধ্যে জনসংখ্যাস্ফীতি, বাল্যবিবাহ, বেকারত্ব, মাদকাসক্তি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ সব সমস্যার সমাধান ছাড়া সুখী ও সমৃদ্ধশালী সমাজ গঠন কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। যদিও এসব সমস্যা সমূলে ধ্বংস করা যাবে না, তবুও যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মধ্য দিয়ে এর মাত্রা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। আর এ ক্ষেত্রে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান সবচেয়ে বেশি সহায়তা করতে পারে। কারণ একটি তাত্ত্বিক বিষয় হিসেবে সমাজবিজ্ঞান সামাজিক সমস্যাগুলোকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করে এবং এর সমাধানে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা চালায়। বিশেষ করে সমস্যার উৎস কোথায়, সমাজের ওপর এর প্রভাব কীরূপ, সমাধানের জন্য কোন ব্যবস্থা অধিকতর উপযোগী ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে সমাজবিজ্ঞান গবেষণা করে। ফলে দেখা যায়, সামাজিক সমস্যা সমাধানে সমাজবিজ্ঞানীর পরিচালিত গবেষণা বেশি ফলপ্রসু হয়। সামাজিক সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বাংলাদেশের সমাজজীবনকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করতে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয়। সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান ছাড়া এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। কার্যত বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী করতে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান না থাকলে তার বাস্তব রূপ দেওয়া সম্ভব না।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাংলাদেশের সমাজজীবনে যেসব সমস্যা লক্ষ করা যায় সেগুলোর সমাধানে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সুষ্ঠু উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠন করতে হলে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য।
Related Question
View Allচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে সমাজের মানুষের অবদান ও অধিকার সম্পর্কে জানা যায়। শুধু সামাজিক অধিকারই নয়, সামাজিক দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কেও সমাজবিজ্ঞান আমাদের জ্ঞান দান করে। আর সে কারণেই বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা যেমন জনসংখ্যা সমস্যা, নিরক্ষরতা, অপরাধ ইত্যাদি মোকাবিলায় সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান অপরিহার্য। বস্তুত সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করা ও সমাধানের দিক নির্দেশনা দেওয়া আমাদের সামাজিক কর্তব্যের মধ্যে পড়ে। এসব কর্তব্য পালনের জন্য অর্থাৎ সমাজ সংস্কারের জন্য সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান একান্ত প্রয়োজন।
উদ্দীপকে বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারার পরিচয় ফুটে উঠেছে। কেননা ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান পাঠ শুরুর মাধ্যমে বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান শিক্ষা ও গবেষণা শুরু হয়। ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম সমাজবিজ্ঞান নামে একটি নতুন বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয় এবং উক্ত বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞান চর্চা শুরু হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের জনক এ কে নাজমুল করিম ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন যা উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উত্ত দেশের অর্থাৎ বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা একটিমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে- বক্তব্যটি আমি সমর্থন করি না। এর সপক্ষের যুক্তিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হলেও পরবর্তীতে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও এটি ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৪ সালের ২৪ আগস্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের পঠন-পাঠন শুরু হয়। ১৯৭০ সালে এখানে সম্মান কোর্স চালু হয়। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৭০ সালে সমাজতত্ত্ব নামক আলাদা একটি বিভাগের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালে সিলেটে অবস্থিত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়। এর পরবর্তী দশকে ২০০২ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের কার্যক্রম শুরু হয়। এছাড়া ২০১২ সাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কিছু কলেজে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর স্তরে সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হচ্ছে।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এ বিষয়ে দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরও অবদান রয়েছে।
সমাজবিজ্ঞান মানবতাবাদী বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃত।
পঠন পরিসর ও উদ্দেশ্যের কারণে সমাজবিজ্ঞানকে মানবতাবাদী প্রায়োগিক বিজ্ঞান বলা হয়।
সামাজিক প্রয়োজন ও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার আলোকেই সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা প্রবাহিত হয়। উদাহরণস্বরূপ পরিবারের কথা বলা যায়, পরিবার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- একক পরিবার, যৌথ পরিবার, পিতৃতান্ত্রিক পরিবার, মাতৃতান্ত্রিক পরিবার ইত্যাদি। সমাজবিজ্ঞান সবধরনের পরিবারকেই স্বীকৃতি দেয়। আর এ কারণেই সমাজবিজ্ঞান মানবতাবাদী প্রায়োগিক বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!