'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পের ছেলেটিকে স্বার্থপর মনে হলেও জীবনের প্রয়োজনে তাকে আমগাছরূপী বিশ্বস্ত বন্ধুর সাহায্য নিতে হয়েছিল। যদিও আমগাছটি তাকে সাহায্য করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ছেলেটি সে বিষয়ে উদাসীন থাকায় তাকে আত্মমগ্ন হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
'একটি সুখী গাছের গল্প' গল্পটি অসম বন্ধুত্বের। একটি ছেলের শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত তার জীবন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িয়ে থাকা একটি আমগাছের মহত্ত্ব প্রকাশ পেয়েছে গল্পটিতে। ছেলেটির শৈশবে সে আমগাছের ছায়ায় খেলাধুলা করতে করতে বড়ো হয়ে ওঠে। নিঃসঙ্গ আমগাছটি ছেলেটির সংস্পর্শ ভালোবাসত। কিন্তু বড়ো হয়ে ওঠার সাথে সাথে ছেলেটির আমগাছের কাছে যাতায়াত কমে যেতে থাকে। একসময় আর তার খেলাধুলার বয়স থাকে না। তার অর্থের প্রয়োজন হয়, গৃহের প্রয়োজন হয়, জীবনের নানাবিধ চাহিদা তাকে ঘিরে ধরে। এসব প্রয়োজন মিটাতে গিয়ে কখনো কখনো তাকে তার পুরোনো বন্ধু আমগাছটির শরণাপন্ন হতে হয়। আমগাছ ছেলেটির প্রয়োজনে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে থাকে। ছেলেটি আমগাছের সাহায্য নিলেও সে গাছটির ব্যাপারে উদাসীন থেকেছে। গাছটি যখন নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছে বন্ধুর জন্য, ছেলেটি তখন আত্মচিন্তায় বিভোর। সেক্ষেত্রে ছেলেটিকে স্বার্থপর মনে হলেও আমগাছের উদারতা ও বন্ধুর জন্য আত্মবিসর্জনে ছেলেটির আত্মমগ্ন চরিত্রের ত্রুটি ঢাকা পড়ে যায়।
আমগাছের থেকে ক্রমাগত সহযোগিতা লাভ করলেও তার নিঃস্ব হওয়ার ব্যাপারে উদাসীন থাকায় ছেলেটিকে স্বার্থপর মনে হলেও গল্পে আমগাছের মহত্ত্বকেই প্রধান করে দেখানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে ছেলেটির আত্মমগ্ন চরিত্রকে জীবনযাপনের জটিলতায় বিপর্যস্ত হিসেবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
Related Question
View Allবেশ কিছুদিন পর ছেলেটিকে পেয়ে আমগাছের সারা শরীর খুশিতে নেচে উঠেছিল।
ছেলেটি বড়ো হয়ে যাওয়ার ফলে আমগাছের থেকে সাহায্যস্বরূপ একদিন আম নিয়ে যাওয়ার পর অনেকদিন আর গাছের কাছে আসেনি। ছেলেটিকে দেখতে না পাওয়ায় আমগাছটি বিষণ্ণ হয়ে থাকে। অনেকদিন পর ছেলেটি যখন পুনরায় গাছের কাছে সাহায্যের জন্য আসে তখন আমগাছটির সারা শরীর খুশিতে নেচে ওঠে।
ছেলেটির সংস্পর্শ পছন্দ করত বলেই আমগাছটি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকত ছেলেটির জন্য। ছেলেটির আগমনে গাছটি আনন্দিত হয়ে উঠত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!