নাজাসাত আরবি শব্দ। এর অর্থ অপবিত্রতা। কতিপয় বস্তুর কারণে পবিত্র বস্তুও অপবিত্র হয়। যেমন- প্রস্রাব-পায়খানা।
প্রস্রাব-পায়খানা নাজাসাতে হাকিকি বা প্রকৃত অপবিত্রতা। নাজাসাতে হাকিকি বলতে আমরা ঐ নাজাসাতকে বুঝি- যা থেকে মানুষ নিজে দূরে থাকতে চায় এবং নিজের শরীর, পোশাক-পরিচ্ছদ ও অন্যান্য ব্যবহারের বস্তু বাঁচিয়ে রাখতে চায়। প্রস্রাব ও পায়খানা এমন বস্তু হওয়ায় এগুলো নাজাসাতে হাকিকি।
জাকারিয়া প্রস্রাব করতে গেলে তার কাপড়ে প্রস্রাব লেগে যায়। এতে তার কাপড় অপবিত্র হয়ে যায়। আর অপবিত্র কাপড়ে সালাত আদায় হয় না। তাই জাকারিয়ার জুমআর সালাত আদায় হয়নি। এমতাবস্থায় জাকারিয়ার উচিত পবিত্র কাপড় পরিধান করে জোহরের সালাত আদায় করা। কেননা জুমআর কাযা না থাকায় বা অন্য কোথাও জুমআর সালাত ধরার সুযোগ না থাকায় জোহরের নামাযই তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা বাঞ্ছনীয়।
নাজাসাত থেকে দূরে থাকা একজন মুসলমানের জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। কেননা অপবিত্রতার ব্যাপারে সতর্ক না থাকলে কবরে শাস্তি ভোগ করতে হবে। মহানবি (স.) একদিন দুটি কবরের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন, এ কবর দুটিতে যাদের দাফন করা হয়েছে, তাদের ওপর শাস্তি হচ্ছে। তাদের একজনের গুনাহ তো এই যে, সে প্রস্রাবের অপবিত্রতা হতে পবিত্র থাকার চেষ্টা করত না। আর অপরজন চোগলখোরি (দুর্নাম) করে বেড়াত। তারপর মহানবি খেজুরের একটি কাঁচা ডাল ভেঙে দুই টুকরা করে দুই কবরে গেড়ে দিলেন। সাহাবিগণ (রা.) নিবেদন করলেন, হে আল্লাহ রাসুল! কী উদ্দেশ্যে আপনি এ কাজ করলেন? তিনি উত্তরে বললেন, আশা করা যায় ডালের এ টুকরো শুকিয়ে না যাওয়া পর্যন্ত উভয়ের কবর আযাব (শাস্তি) কম করে দেওয়া হবে। (বুখারি ও মুসলিম) উক্ত হাদিস হতে প্রতীয়মান হয়, নাজাসাত বা অপবিত্রতাই কবরের আযাব হওয়ার অন্যতম কারণ। তাই কবরের ভয়াবহ শাস্তি হতে বাঁচতে হলে এবং সঠিকভাবে ইবাদত-বন্দেগি করতে হলে অবশ্যই নাজাসাত থেকে মুসলিমকে দূরে থাকতে হবে।
Related Question
View Allইবাদত শব্দের অর্থ হলো- আল্লাহর আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান মেনে চলা।
আমাদের পবিত্র থাকা প্রয়োজন। কেননা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বলেন, "আর উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন” (সূরা আত-তাওবা : ১০৮)। সালাত ও তিলাওয়াতের জন্য পবিত্রতা প্রয়োজন। এছাড়া পবিত্রতা ইমানের অঙ্গস্বরূপ। তাই আমাদের পবিত্র থাকা প্রয়োজন।
শরীফ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযসহ সকল প্রকার ইবাদত করার চেষ্টা. করে। সে তার বন্ধু আরিফকেও সালাতের জন্য আহ্বান করে। এসব কাজের দ্বারা বোঝা যায়, শরীফ একজন মুমিন মুসলমান।
মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য। আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বলেন, “আর আমি জিন ও মানবজাতিকে শুধু আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি” (সূরা আয যারিআত : ৫৬)। এজন্য কোনো মানুষ ইমান আনার সাথে সাথে সালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করে।
এছাড়া সে ইসলামের অন্যান্য মৌলিক বিধান যথা: সাওম, যাকাত, হজ ইত্যাদি পালন করে। ব্যক্তিজীবনে সততা অবলম্বন করে, অন্যায় ও পাপাচার থেকে বিরত থাকে। সবার কল্যাণে কাজ করে। এগুলোই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকের শরীফের মাঝে এসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। বস্তুত সে নামায আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করার চেষ্টা করে বিধায় তাকে মুমিন হিসেবে গণ্য করা হবে।
আরিফ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নামায পড়া হতে বিরত থাকে, সে আরও বলে- শুধু যে আমি একা ইবাদত করি না তাতো নয়। অনেকেই তো আছে যারা কোনো প্রকার ইবাদত করে না। তাদের যা হবে আমারও তাই হবে। আরিফের এরূপ আচরণ ও কর্মকাণ্ডের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করা কুফরি। রাসুল (স.) বলেছেন, "মুমিন ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো- সালাত পরিত্যাগ করা।” তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।" আর কুফরির পরিণাম জাহান্নাম। আরিফ শুধু নামাযই পরিত্যাগ করেনি, সে তার কথায় আল্লাহর প্রতি চরম ঔদ্ধত্যও প্রকাশ করেছে। এ ধরনের ঔদ্ধত্য প্রকাশের জন্যও সে জাহান্নামে যাবে। কারণ ইবলিশ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করার কারণে আল্লাহর অভিশাপে নিপতিত হয় এবং চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামি হয়। মানুষকে সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত করা। কেউ যদি ইবাদত না করে ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি ইবাদত না করে এবং বলে অন্যদের যা হবে আমারও তা হবে, তাহলে আল্লাহর শাস্তি হতে সে রেহাই পাবে না। কারণ আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা কুফরি কর, তাহলে জেনে রাখ আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।
সালাত আদায়ের অন্যতম কারণ হলো- এটি ইসলামের দ্বিতীয় রুকন। এজন্য আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুমিনকে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'এবং তোমরা নামায কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর' (সূরা আল বাকারা : ৪৩)। তাছাড়া সালাত মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরতি রাখে। এ মর্মে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখে। (সূরা আনকাবুত : ৩৫)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!