যেসব খামারে মূলত মাছের ডিম বা পোনা উৎপাদিত হয় সেগুলো হলো হ্যাচারি খামার।
কৃষি উপকরণ বলতে সার, বীজ, কীটনাশক, খাদ্য প্রভৃতিকে বোঝায়।
কৃষকরা স্বতন্ত্রভাবে এসকল কৃষি উপকরণাদি সংগ্রহ করতে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অধিক অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে এবং শ্রমও বেশি লাগে। সমবায় সমিতিগুলো তাদের আওতাধীন সদস্যদের কৃষি উপকরণের চাহিদা জেনে একসঙ্গে কিনে দিলে খরচ এবং শ্রম বহুলাংশে হ্রাস পায়। ফলে কৃষক উচ্চ মুনাফা অর্জন নিশ্চিত করতে পারে। এভাবে কৃষি উপকরণাদি সংগ্রহে সমবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠান সমবায় সমিতি পরিচালনায় রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধি বা আইন।
সমবায় প্রতিষ্ঠা করা, নিবন্ধন করা, পরিচালনা করা ও সমবায়ের সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণের আইনকে সমবায় আইন বলে। সমবায় আইন প্রণয়ন ও সংশোধন করা হয় সদস্যদের ও দেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের জন্য। সমবায়ের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধি রয়েছে। যেমন-
বিধি-১: সমবায়ের সংক্ষিপ্ত নাম থাকবে।
বিধি-২: সমবায় অর্থবহ ও সংজ্ঞায়িত হবে।
বিধি-৩: বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সমবায় সমিতি গঠন করা যাবে।
বিধি-৪: সমবায় অধিদপ্তরের প্রধান ও শাখা কার্যালয় থাকবে।
বিধি-৫: অধিদপ্তরের একজন নিবন্ধক থাকবেন। নিবন্ধককে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা ও কর্মচারি থাকবেন।
বিধি-৬: ক. প্রাথমিক সমিতির সদস্য ২০ জন হবেন, খ. কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতিতে দশটি প্রাথমিক সমবায় সমিতি থাকবে। জাতীয় সমবায় সমিতিতে দশটি কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সদস্য থাকবেন।
বিবিধ-৭: ১. নিবন্ধন জাতীয় সমবায় শব্দ ব্যবহার নিষেধ, ২. প্রচার করা যাবে না, এ বিধি লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড (৭ বছর) ও জরিমানা (১০ লক্ষ টাকা) বা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে।
সমবায়ের উপরিউক্ত বিধি লঙ্ঘন করলে জেল জরিমানা ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
শ্রেণিশিক্ষকের উক্তিটি ছিল, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সমবায় আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
সমবায় একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা। সমবায় প্রতিষ্ঠা, নিবন্ধন, পরিচালনা ও সমবায় সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য প্রণীত আইনকে সমবায় আইন বলে। সমবায় আইন রচনা বা প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদ ও রাষ্ট্রপতি বা প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। সমবায় আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সমিতির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। সমবায় আইনের উদ্দেশ্য হচ্ছে-
১. দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমবায়ের স্বেচ্ছাসেবী তৎপরতাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি ও উৎসাহ দেওয়া।
২. সমিতি গঠন, তহবিল সৃষ্টি ও বিনিয়োগ, সমিতি পরিচালনা, হিসাব সংরক্ষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তদারক ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
৩. দেশে সমবায়ভিত্তিক অর্থনৈতিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ক্ষুদ্র, দরিদ্র ও নিরীহ লোকদের শরিকানা ও অধিকার নিশ্চিত করা।
৪. সমবায়ের মাঝে দুর্নীতি, সম্পদের অপচয় ও বিশ্বাস ভঙ্গকরণ থেকে সাধারণ সদস্যদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা।
উপরে বর্ণিত উদ্দেশ্যসমূহ থেকে বোঝা যায় যে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সমবায় আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
Related Question
View Allএকটি জমিতে এক বছরে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফসল চাষের পরিকল্পনাই হলো ফসল বিন্যাস।
শস্য-পর্যায় হলো কোনো জমিতে প্রতি বছর একই ফসল চাষ না করে বছর ভিত্তিক নির্দিষ্ট কিছু ফসল ধারাবাহিকভাবে চাষ করা। একই জমিতে বার বার একই ফসলের চাষ করলে মাটিতে জৈব পদার্থের অভাব পরিলক্ষিত হয়। এতে মাটি অনুর্বর হয়ে যায়। শস্য- পর্যায় অবলম্বন করলে জমির পুষ্টি উপাদান পরিশোধণে সামঞ্জস্য থাকে। মাটিতে বায়বীয় নাইট্রোজেন যোগ হয়ে এর উর্বরতা বৃদ্ধি পায়।
মাটির পানি ধারণক্ষমতা বাড়ে ও ভূমিক্ষয়ের পরিমাণ কমে যায়। তাছাড়া পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হ্রাস পেয়ে ফসলের মান ও ফলন বৃদ্ধি পায়। তাই ফসলের জমিতে শস্য পর্যায় অবলম্বন করা হয়।
উদ্দীপকে কৃষকদের সমবায়ের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ নিয়ে ফসল চাষের কথা বলা হয়েছে।
ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করার জন্যে যে সকল ব্যক্তি, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষক মূলধন সংগ্রহ করে থাকে সেগুলোই কৃষি ঋণের উৎস। কৃষি ঋণের উৎস দুই ধরনের। যেমন- প্রাতিষ্ঠানিক উৎস ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস। প্রাতিষ্ঠানিক উৎসের মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, সমবায় ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ভূমি বন্ধকী ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিলে কৃষকের প্রতারিত হবার সম্ভাবনা কম থাকে। কৃষক তার চাহিদা মাফিক ঋণ পেতে পারে। অনেক সময় কোনো বন্ধকীও দেওয়া লাগে না। দুর্যোগকালীন সময়ে বিশেষ সুবিধা বা কম সুদে ঋণ পাওয়া যায়। তবে কিছু সমস্যাও রয়েছে। যেমন- অনেক কৃষকের বন্ধকী দেওয়ার মতো জমি বা অন্যান্য স্থায়ী সম্পদও থাকে না। এ উৎসের ঋণ নেবার ক্ষেত্রে দালালদের দ্বারা প্রতারিত হবার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি দালালেরাও সংস্থা দ্বারা অনেক' সময় প্রতারিত হতে পারে। এই ঋণ নিতে প্রচুর আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে। যার কারনে অনেক সময় ঋণ পেতে দেরি হয়। কৃষি ঋণের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসের মধ্যে রয়েছে আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব, দালাল ও ব্যাপারী, গ্রাম্য মহাজন, গ্রাম্য ব্যবসায়ী ও দোকানদার, ধনী কৃষক ইত্যাদি। এই ঋণ পেতে জামানত লাগে না এবং অতি দ্রুত টাকা হাতে পাওয়া যায়। প্রাতিষ্ঠানিক উৎসের তুলনায় এই ঋণে সুদের হার কম থাকে বলে বর্তমানে এর চাহিদা বেশি। এই ধরনের ঋণেরও বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে। যেমন- সুদের হার বেশি, স্বল্পমেয়াদি এবং ঋণ পরিশোধে কিস্তি সুবিধা কম। ঋণগ্রহীতা অনেক সময় তার সর্বস্ব হারায়। উল্লিখিত প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক উভয় উৎস থেকে কৃষক ঋণ নিতে পারে।
উদ্দীপকের সংগঠনটি হলো কৃষি সমবায়। কৃষি উন্নয়নে কৃষি সমবায়ের ভূমিকা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি তথা কৃষি কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুরূপে পরিচালনার জন্য যে সমবায় সমিতি করা হয় তাকে কৃষি সমবায় বলে। আমাদের দেশের কৃষকরা খুব দরিদ্র। কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য বীজ, সার, সেচের পানি, জ্বালানী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রচুর টাকা খরচ হয়। এছাড়া কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাত খাতেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। আবার উৎপাদিত কৃষি পণ্যের দাম কম হলে কৃষকরা মূলধন ফিরে পায় না। পরবর্তী কৃষিপণ্য উৎপাদনের সময় কৃষকদের আর্থিক সংকট থাকে চরমে, ফলে কৃষিপণ্য ক্রয়সহ উৎপাদন কর্মকাণ্ড, পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হয়।
এসকল কৃষকের একার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। কিন্তু সমবায় গঠনের মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। সমবায়ের সদস্যদের সঞ্চিত অর্থ দিয়ে বড় আকারের পুঁজি গঠন করে উপকরণ সংগ্রহ এবং উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষিতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও কারিগরি ক্ষেত্রে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন সম্ভব হয়। সমবায়ের মাধ্যমে খন্ড খন্ড জমিগুলোকে একত্রিত করে যৌথভাবে উৎপাদন করার মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করা যায়। সমবায়ের মাধ্যমেই একমাত্র গ্রামীণ যোগাযোগ, উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ সুবিধা সৃষ্টি করা সম্ভব। তাছাড়া, রেজিস্ট্রিকৃত কৃষি সমবায় হলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ দিতে আগ্রহী হয়। অতএব বলা যায়, কৃষকরা কৃষি সমবায় সমিতির মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে সহজেই কৃষিঋণ লাভ করে, যা বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়, ভূমিতে স্থায়ী উন্নতি সাধন, পণ্যের সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ইত্যাদি কাজে সহায়তা করে।
যে প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে উৎপাদিত কৃষি পণ্য কৃষক বা উৎপাদকের কাছ থেকে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায় তাকেই বলে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ।
পল্লির ভূমিহীন, স্বল্পবিত্ত বা দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে উৎপাদন ধারায় আনতে জামানতবিহীন অল্প পরিমাণ যে ঋণ দেওয়া হয় তাকে ক্ষুদ্রঋণ বলা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে এনজিও থেকে সহজে ক্ষুদ্রঋণ পাওয়া যায়। যেমন- গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, আশা প্রভৃতি। ক্ষুদ্রঋণ অনেকগুলো কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য। এনজিওগুলো প্রথমে গ্রুপ/সংগঠন তৈরি করে এবং পরবর্তীতে গ্রুপের সদস্যদের চাহিদার ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করে থাকে। গ্রুপ বা দল ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করে। ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহার করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের দারিদ্র্য বিমোচনে সক্ষম হচ্ছে। কাজেই, জামানতবিহীন, সহজলভ্য ও স্বল্প সময়ে পাওয়া যায় এবং ঋণের সদ্ব্যবহার ও আদায় নিশ্চিত করা হয় বলে ক্ষুদ্রঋণ জনপ্রিয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!