প্রতিদিন ভোরে লেখকরা তিন ভাইবোন রাজবাড়ির মন্দিরের চাতালে বসে গায়ে রোদ মাখতেন।
কী আশ্চর্য অনুভূতি!- এই উক্তিটিতে লেখক ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
'নিয়তি' গল্পে লেখকের বাবাকে চাকরি সূত্রে জগদলের পুরনো এক জমিদারবাড়িতে থাকতে হয়। সেই বাড়িটি ছিল জঙ্গলের ভিতর। সেখানে মশার উৎপাত ছিল অত্যন্ত বেশি। ফলে সেই এলাকায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেড়ে যায়। সেই সময় লেখক জ্বরে আক্রান্ত হন। সেই জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন- জ্বর যখন বাড়তে থাকে তখন চোখের সামনের প্রতিটি জিনিস আকৃতিতে ছোট হতে থাকে। দেখতে অদ্ভুত লাগে। একসময় নিজেকে বিশাল দৈত্যের মতো মনে হয়। এমন বোধ হওয়ার কারণ হিসেবে এই জ্বরে প্রচণ্ড শীত লাগায় শরীরে এক ধরনের আবেশকে তিনি চিহ্নিত করেছেন। লেখকের এই অনুভূতিই এক আশ্চর্য অনুভূতি।
উদ্দীপকের লালুর সঙ্গে 'নিয়তি' গল্পের কুকুটির সাদৃশ্য রয়েছে।
আমাদের চারপাশের পশু-পাখির মাঝে বিচিত্র আচরণ পরিলক্ষিত হয়। গৃহপালিত পশু-পাখি প্রভুভক্ত হয়। এগুলো বিপদে-আপদে প্রভুকে রক্ষা করতে সদা সচেষ্ট থাকে এবং মনিবের প্রতি ভক্তিপূর্ণ মনোভাব প্রদর্শন করে থাকে।
'নিয়তি' গল্পের কুকুরটি মানুষের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। মন্দিরের চাতালে লেখকের ভাই ছোট্ট শাহীন সাপের মুখোমুখি হলে রাজবাড়ির পোষা কুকুরটি সাপের ফণা কামড়ে ছিঁড়ে ফেলে তাকে রক্ষা করে। উদ্দীপকেও লালু নিজের জীবনের পরোয়া না করে, সামনের দিকে ছুটে যায়। হিংস্র প্রাণীর ধারালো দাঁতের অন্ধ আদিম আক্রমণ থেকে সে উদ্দীপকের লেখককে রক্ষা করে। এভাবে উদ্দীপকের লালু এবং 'নিয়তি' গল্পের কুকুরটি জীবনের পরোয়া না করে প্রভুভক্তির চরম নিদর্শন স্থাপন করেছে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্দীপকের লালুর সঙ্গে 'নিয়তি' গল্পের কুকুরটির সাদৃশ্য রয়েছে।
"উদ্দীপকে সৃষ্ট রস এবং গল্পের ঘটনার পরম্পরা বালক লেখকের মনে যে প্রভাব ফেলেছিল তারই সার্থক রূপায়ণ 'নিয়তি' গল্পটি"- মন্তব্যটি যথার্থ।
শৈশব-কৈশোরের নানা স্মৃতি মানুষের মনে জাগরুক থাকে। অনেক সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনার স্মৃতি নিয়ে মানুষ জীবনযাপন করে। কিশোর বয়সের অনেক ঘটনা মানুষকে ইতিবাচক জীবনযাপনে সহায়তা করে। আবার তার নেতিবাচক প্রভাব মানুষের জীবনকে বিক্ষিপ্ত করে তোলে।
উদ্দীপকের বর্ণনায় করুণ রসের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকের সৃষ্ট এই করুণ রসের সঙ্গে 'নিয়তি' গল্পের সাপের বিষে আক্রান্ত কুকুরটির পরিণতি সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ এখানেও করুণ রসের প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকের গদ্যাংশের লেখককে বাঁচানোর জন্য লালুর প্রাণপণ চেষ্টা 'নিয়তি' গল্পের লেখকের ছোট ভাইকে বিষধর সাপের ছোবল থেকে বাঁচানোর জন্য বেঙ্গল টাইগারের চেষ্টা একসূত্রে গাঁথা। উভয় ক্ষেত্রে করুণ ও মর্মস্পর্শী অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে।
'নিয়তি' গল্পে মহারাজার বাড়ির কুকুরটি কীভাবে কেউটে সাপের ছোবল থেকে লেখকের ছোট ভাইকে রক্ষা করেছিল তার বর্ণনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাণরক্ষাকারী সেই কুকুরটির করুণ পরিণতিও এখানে তুলে ধরা হয়েছে। গল্পের এই ঘটনাটি যখন ঘটে তখন লেখকের বয়স কম। বালক বয়সের সেই ঘটনাটি তাঁর হৃদয়ে দাগ কাটে। কারণ লেখকের বাবা সাপের বিষে যন্ত্রণাকাতর কুকুরটিকে গুলি করে হত্যা করে তাকে যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। এই বিষয়টি লেখক তখন অনুধাবন করতে পারেননি। পরে বড় হয়ে তিনি তা অনুভব করেছেন। উদ্দীপকের ঘটনাটিও অনুরূপ করুণ কাহিনি। উভয় ক্ষেত্রেই করুণ রস ঘনিয়ে উঠেছে। তাই বলা হয়েছে যে, উদ্দীপক সৃষ্ট রস এবং গল্পের ঘটনার পরম্পরা বালক লেখকের মনে যে প্রভাব ফেলেছিল তারই সার্থক রূপায়ণ 'নিয়তি' গল্পটি।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!