এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়'। কবি হেলাল হাফিজ শহিদ আসাদের স্মরণে এ কবিতাটি লিখেছিলেন। প্রবল ছাত্র আন্দোলনে পুলিশ গুলি করে আসাদকে হত্যা করে। আসাদের মতো আরও অনেকের আত্মত্যাগের কারণে উক্ত আন্দোলনটি সফল হয়। পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে যে পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু করেন, তা-ই মৌলিক গণতন্ত্র নামে পরিচিত।

মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করার কথা বলা হয়। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়। এটি ছিল পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিমূলক ব্যবস্থা।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে যে আন্দোলনকে ইঙ্গিত করা হয়েছে তা হলো ৬৯-এর গণআন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থান। কারণ ৬৯-এর গণআন্দোলনেই আসাদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। কবি হেলাল হাফিজ তাঁর স্মরণে উদ্দীপকে উল্লিখিত এ কবিতাটি রচনা করেছিলেন।

'৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান তথা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক মুক্তি সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি একটি মাত্র ঘটনা থেকে সংঘটিত হয়নি। নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল। মূলত ১৯৬৬ সালের ৬ দফা দাবি যখন পশ্চিম পাকিস্তানিরা মেনে না নিয়ে উল্টো দমনপীড়ন শুরু করে তখন আন্দোলন অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। পরবর্তীতে আগরতলা মামলা দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামি করে কারাগারে প্রেরণ করে, বাঙালি তখন আর দমে থাকতে চায়নি। শুরু হয় সাধারণ জনগণসহ ছাত্র সমাজের ১১ দফা আন্দোলন। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরশাসনকে কেন্দ্র করে ১৯৬৮ সালে ছাত্র অসন্তোষ দেখা দেয়। এ অসন্তোষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শহর ও গ্রামের শ্রমিক কৃষক ও নিম্ন আয়ের পেশাজীবীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের নিকট। আইয়ুব খানের পদত্যাগের দাবি তুলে সাধারণ মানুষ একযোগে পথে নামেন। ছাত্রসমাজসহ জনগণের এই ক্রোধ থামাতে আইয়ুব সরকার হত্যার পথ বেছে নেয়। একে একে হত্যা করা হয় আসাদসহ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহাকে। পাশাপাশি আরও অনেককেই হত্যা করা হয়। অর্থাৎ পূর্ব বাংলার জনগণের ওপর নিপীড়ন ও বঞ্চনা এবং তার বিপরীতে ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বায়ত্তশাসনের সংগ্রামসহ পরবর্তী বিভিন্ন পর্যায়ে গড়ে ওঠা আন্দোলন '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ প্রভাব রেখেছিল। এ আন্দোলনের মাধ্যমে আইয়ুব খান সরকারের পতন ঘটে। অতএব নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, উপরিউক্ত ঘটনাপ্রবাহের আলোকেই '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল।

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন বলতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনকেই বোঝায়। আর এ নির্বাচনের ফলাফলে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রভাব পরে। কথাটি যৌক্তিক।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করেন এবং এর পূর্বেই তিনি 'ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা, তুলে নেন। আর জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সামরিক সরকার বাধ্য হয় ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন দিতে। গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মাঝে জাতীয়তাবাদী চিন্তা-চেতনার বিকাশ ঘটে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রয়োজনীয়তা তাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অবশেষে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম এক ব্যক্তির এক ভোটের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে ৬ দফার পক্ষে গণভোট হিসেবে অভিহিত করে। নির্বাচনে ৫ কোটি ৬৪ লাখ ভোটারের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে ছিল ৩ কোটি ২২ লাখ। আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি আসন লাভ করে। সংরক্ষিত মহিলা আসন ৭টিসহ ১৬৭টি আসন লাভ করে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আবার পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত ১০টি মহিলা আসনসহ ৩১০টি আসনের আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ বিজয় ছিল নজিরবিহীন।

পরিশেষে বলা যায় যে, ১৯৭০-এর নির্বাচনে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সুস্পষ্ট প্রভাব পড়েছিল। তাই প্রশ্নোক্ত কথাটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
166
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

৬ দফা দাবিনামায় পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরা হয় বলে একে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।

ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এ ছয় দফা দাবির পথ ধরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। এ কারণে ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
323
উত্তরঃ

সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।

পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে অগ্রসর ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনশোষণ প্রতিষ্ঠার ফলে পূর্ব পাকিস্তান দ্রুত পিছিয়ে যেতে থাকে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেতে থাকে দুই অঞ্চলের মধ্যকার বৈষম্য। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র অন্যতম। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করছিল। মোট অফিসারের মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকদের 'মাত্র ৪%, নৌবাহিনীর উচ্চপদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমানবাহিনীর পাইলটদের ১১% এবং টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিল বাঙালি।

উদ্দীপকের সারণি-ক থেকে উপরোল্লিখিত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্যের চিত্রই দেখতে পাই। অতএব বলা যায়, সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্য ফুটে উঠেছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.3k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে সারণি-খ এ প্রদর্শিত বৈষম্যের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা ছিল ভয়াবহ বৈষম্যমূলক।

পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব বাংলার চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করেছিল। ১৯৫৫-৫৬ থেকে ১৯৫৯-৬০ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেটের বরাদ্দের মাত্র ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে ১৯৬০-৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৪৮০ মিলিয়ন টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ মিলিয়ন টাকা। পূর্ব বাংলার পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকগুণ পিছিয়ে পড়ে।

পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রদর্শিত সারণি-খ এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। এ বৈষম্য ছিল ভয়াবহ ও হতাশাব্যঞ্জক।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1k
উত্তরঃ

বাংলা ভাষা-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালির জাতিগত পরিচয়ে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে, সে জাতীয় ঐক্যকে বলা হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ। মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে যে জাতীয় চেতনার জন্ম হয়, তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
2.5k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews