ইসলামি রাষ্ট্রের প্রথম রাজধানী মদিনায় স্থাপিত হয়।
জিজিয়া হচ্ছে মুসলিম রাষ্ট্রে অমুসলিমদের ওপর ধার্যকৃত নিরাপত্তা কর।
জিজিয়া মাথাপিছু হারে নির্ধারিত হয়ে থাকে। অমুসলিম নাগরিকরা জিজিয়া প্রদানের মাধ্যমে যুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে অব্যাহতি পেত। জিজিয়া দেওয়ার বদৌলতে মুসলিম শাসকগণ অমুসলিম নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে অঙ্গীকারাবদ্ধ ছিল। তবে নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধ, উন্মাদ ও ধর্মীয় পুরোহিতরা এ কর হতে অব্যাহতি পেত।
উদ্দীপকের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে হযরত ওমর (রা)-এর মজলিশ উস-শূরার নীতি অনুসৃত হয়েছে।
হযরত মুহাম্মদ (স) ও হযরত আবু বকর (রা)-এর অনুকরণে হযরত ওমর (রা) মজলিস-উস-শুরা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কারণ তিনি সব সময় বলতেন পরামর্শ ব্যতীত খিলাফত চলতে পারে না। এ গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি জনগণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছভাবে শাসনকার্যে পরিচালনার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রণা পরিষদ গঠন করেন, যা মজলিস-উস-শূরা বা মন্ত্রণা পরিষদ নামে পরিচিত। এটি মজলিস-উস-খাস ও মজলিস-উস-আম এ দুটো ভাগে বিভক্ত ছিল। উদ্দীপকেও এ ধরনের পরিচালনা নীতি দেখা যায়।
এটলাস সমবায় সমিতির কলেবর বৃদ্ধি পেলে কর্তৃপক্ষ সম্পদ সংরক্ষণ ও বণ্টনের জন্য আলাদা বিভাগ গঠন করে। তাদের এ কাজটি ওমর (রা)-এর প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে মজলিস-উস-শুরা গঠনের মতোই। সময়ের সাথে সাথে ওমর (রা)-এর খিলাফত অর্ধজাহান পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এত বড় খিলাফত পরিচালনার তাগিদেই তিনি আলাদাভাবে শক্তিশালী বিচার বিভাগ গঠন করেন। ভিন্ন ক্ষেত্র হলেও 'এটলাস সমিতি ওমর (রা)-এর ন্যায় নীতি গ্রহণ করেছে। সুতরাং, উদ্দীপকে ওমর (রা)-এর মজলিস-উস-শুরা গঠনের নীতি অনুসৃত হয়েছে।
উদ্দীপকে সমিতির সংরক্ষণ ও বিলি-বণ্টনে হযরত ওমর (রা) প্রতিষ্ঠিত দিওয়ান ও বায়তুল মাল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য লক্ষণীয়।
বায়তুল মাল (রাষ্ট্রীয় কোষাগার) এর পুনর্গঠন খলিফা হযরত ওমরের (রা) একটি শ্রেষ্ঠ কৃতিত্ব। ওমর (রা) আব্দুল্লাহ বিন আকরামকে প্রধান কোষাধ্যক্ষরূপে নিযুক্ত করে মদিনায় বায়তুল মালের সংস্কার ও পুনগঠন করেন। সেখানে প্রদেশ হতে প্রেরিত উদ্বৃত্ত অর্থ জমা থাকত। ঐ কোষাগার পাহারার জন্য অস্ত্র সজ্জিত প্রহরীও নিযুক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া খিলাফতের আয় বৃদ্ধি করার সাথে সাথে খলিফা দিওয়ান-উল খারাজ নামে একটি নতুন রাজস্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন। এর কাজ ছিল রাজ্যের আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ রক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় খরচ নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত অর্থ মুসলিম জনসাধারণের মধ্যে বণ্টনের ব্যবস্থা করা।
উদ্দীপকেও এ ধরনের অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি অর্থ বিভাগ রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটলাস সমিতি এ বিভাগ সংস্কারের মাধ্যমে সমিতিকে আর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এটি ওমর (রা)-এর দিওয়ান উল খারাজ ও বাইতুল মাল প্রতিষ্ঠার অনুরূপ। ওমর (রা)-এর এ ব্যবস্থা রাষ্ট্র সম্পদের অপচয়ের হাত থেকে যেমন রক্ষা পেত, তেমনি সঠিক বণ্টন নিশ্চিত হতো। একইভাবে এটলাস সমিতিও সম্পদ সংরক্ষণ ও বিলি বণ্টনের নিশ্চয়তার জন্য আলাদা বিভাগ ও ক্যাশ কাউন্টার চালু করে।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, এটলাস সমিতি ওমর (রা)-এর দিওয়ান ও বাইতুল মাল গঠনের নীতিই অনুসরণ করেছে।
Related Question
View Allহযরত ওমর (রা) ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন।
দক্ষ ও সুকৌশলী বীর সেনাপতি হিসেবে খালিদ বিন ওয়ালিদ ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
প্রাথমিক জীবনে কুরাইশদের সেনাপতি হিসেবে যুদ্ধ করলেও হুদায়বিয়ার সন্ধির পর (৬২৮ খ্রি.) খালিদ বিন ওয়ালিদ ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর রাসুল (স)-এর সময়ে হুনায়ুনের যুদ্ধ, তায়েফ বিজয়, তাবুক অভিযানে দক্ষতার সাথে যুদ্ধ করে তিনি ইসলামের বিজয় ত্বরান্বিত করেন। তাছাড়া রাসুল (স)-এর মৃত্যুর পর ইয়ামামার যুদ্ধে বীরবিক্রমে যুদ্ধ করে তিনি ভণ্ডনবিদের শায়েস্তা করেন। এরপর জীবিত থাকা পর্যন্ত তিনি ইসলামের সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে ইসলামের বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। ইসলামের খেদমতে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্যই তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত ব্যবস্থার সাথে হযরত ওমর (রা)-এর প্রশাসনিক ব্যবস্থার অন্যতম দিক মজলিস-উশ-শুরা বা পরামর্শসভা গঠনের মিল রয়েছে।
হযরত ওমর (রা) ছিলেন গণতন্ত্রমনা। তার প্রশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল গণতান্ত্রিক শাসন। আর এ আদর্শ দ্বারাই তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ইসলামি গণতন্ত্রের পূর্ণ বিকাশ সাধন করেন। কুরআন-হাদিসের আলোকে জনগণের ইচ্ছার প্রতি খেয়াল রেখে তিনি পরামর্শভিত্তিক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলেন। আর তার এ বৈশিষ্ট্যেরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত ব্যবস্থার মধ্যে।
কলেজের নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে জনাব 'ক' সকল বিষয়ে শিক্ষক পরিষদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। হযরত ওমর (রা)ও শাসনকার্য পরিচালনার জন্য মজলিস-উশ-শুরা বা পরামর্শসভা গঠন করেছিলেন। যেকোনো সমস্যা তিনি কুরআন-সুন্নাহ মোতাবেক মজলিস-উশ-শূরার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে সমাধান করতেন। তিনি দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'পরামর্শ ব্যতীত কোনো খিলাফত চলতে পারে না।' তার গঠিত পরামর্শসভা দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল। যেমন-ক. মজলিস-উল-আম এবং খ. মজলিস-উল-খাস। মহানবি (স)-এর ঘনিষ্ঠ ও বয়োজ্যেষ্ঠ সাহাবা এবং মদিনার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মজলিস-উল-আম গঠিত ছিল। এরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। অন্যদিকে দৈনন্দিন কার্যাদি সম্পাদনের জন্য অল্প সংখ্যক মুহাজিরিন নিয়ে মজলিস-উল-খাস গঠিত ছিল। হযরত ওমর (রা) মজলিস-উশ-শুরা ছাড়াও রাজ্য শাসনের ব্যাপারে সাধারণ জনগণের মতামত গ্রহণ করতেন। হযরত ওমর (রা)-এর উল্লিখিত আদর্শেরই প্রতিফলন ঘটেছে নতুন অধ্যক্ষের গৃহীত কর্মকাণ্ডে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'উদ্বৃত্ত অর্থ' বিষয়ে অধ্যক্ষের গৃহীত পদক্ষেপে হযরত ওমর (রা)-এর রাষ্ট্রীয় কোষাগার হিসেবে বায়তুল মাল পুনর্গঠন নীতির প্রতিফলন লক্ষণীয়।
হযরত ওমর (রা) ছিলেন জনকল্যাণকামী ও ন্যায়ের উজ্জ্বল আদর্শ। খলিফা হিসেবে তিনি ইসলামের আদর্শকে ধারণ করে সর্বদা জনকল্যাণে ব্রতী হয়েছেন। তাই খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি যাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলেন। তিনি ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার সরকারি কোষাগার হিসেবে বায়তুল মালকে পুনর্গঠন করেন। বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রাষ্ট্রীয় খরচ বাদে উদ্বৃত্ত অর্থ বায়তুল মাল বা কেন্দ্রীয় অর্থ তহবিলে জমা করা হতো। এ অর্থই বিভিন্ন খাতে সরকারিভাবে বণ্টন করা হতো। উল্লিখিত নীতিরই প্রতিফলন লক্ষ করা যায় উদ্বৃত্ত অর্থ বিষয়ে অধ্যক্ষের নেওয়া পদক্ষেপে।
কলেজের নতুন অধ্যক্ষ কলেজের ব্যয়ভার বহনের জন্য একটি আর্থিক ফান্ড গড়ে তোলেন। এ ফান্ডে তিনি কলেজের যাবতীয় ব্যয় নির্বাহের পর উদ্বৃত্ত অর্থ জমা রাখেন এবং এ অর্থ কলেজের উন্নয়ন ও বৃত্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বণ্টন করেন। একইভাবে হযরত ওমর (রা) বায়তুল মাল সংস্কার ও পুনর্গঠন করে সকল প্রদেশে এর শাখা প্রতিষ্ঠা করেন। বায়তুল মাল প্রধানত তিন প্রকারের ছিল। ক. বায়তুল মাল আল খাস-এটি ছিল শাসক ও অভিজাতদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। খ. বায়তুল মাল আল আম-এটি খিলাফতের রাষ্ট্রীয় বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। গ. বায়তুল মাল আল মুসলেমিন- এটি ছিল ইসলামি রাষ্ট্রের দ্বিতীয় রাজকোষাগার। বায়তুল মালের এ শাখা সমাজকল্যাণমূলক কাজ, যেমন-রাস্তাঘাট, সেতু, মসজিদ, মাদ্রাসা নির্মাণ, এতিম ও দরিদ্রের সাহায্যদান ইত্যাদি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত।
পরিশেষে বলা যায়, জনকল্যাণকামী চিন্তা-চেতনা ও কর্মকান্ডের দিক দিয়ে অধ্যক্ষের গৃহীত 'উদ্বৃত্ত অর্থ' বিষয়ক পদক্ষেপটি হযরত ওমর (রা)-এর বায়তুল মাল নীতির আংশিক প্রতিফলন।
যুন্নুরাইন' অর্থ দুই জ্যোতি বা নুরের অধিকারী।
সাহাবিদের দ্বারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ওসমান (রা) খলিফা নির্বাচিত হন।
খলিফা নির্বাচনের জটিলতা এড়াতে হযরত ওমর (রা) মৃত্যুর পূর্বে একটি নির্বাচনি পরিষদ গঠন করেন। যার সদস্য ছিলেন হযরত ওসমান (রা), হযরত আলী (রা), তালহা, যুবাইর, সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস ও আবদুর রহমান। হযরত ওমর (রা)-এর মৃত্যুর পর (৬৪৪ খ্রি.) খলিফা নির্বাচন নিয়ে একটি বৈঠক বসে। তালহা এ সময় মদিনায় উপস্থিত ছিলেন না এবং আব্দুর রহমান খিলাফতের গুরুভার নিতে সম্মত ছিলেন না। আব্দুর রহমান, যুবাইর, ওসমান ও আলীকে সমর্থন করেন। অন্যদিকে, সাদ ওসমানকে, ওসমান আলীকে এবং আলী ওসমানকে সমর্থন করেন। ফলে এক ভোট বেশি পেয়ে হযরত ওসমান ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় খলিফা নির্বাচিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!