যে শব্দ শুনতে ভালো লাগে, সুখকর, মধুর ও আনন্দদায়ক সে শব্দই সুশ্রাব্য শব্দ।
শব্দের যে বৈশিষ্ট্য দ্বারা কোন সুর চড়া ও কোন সুর মোটা বুঝা যায় তাকে তীক্ষ্ণতা বলে। শব্দের তীক্ষ্ণতা শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পাঙ্ক ও দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে। দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেলে তীক্ষ্ণতা কমে এবং দৈর্ঘ্য কমলে তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। 'কাজেই বাঁশের বাঁশির দৈর্ঘ্য কম হলে শব্দের তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পাবে।
আমরা জানি, কম্পনশীল বস্তু শব্দ সৃষ্টি করে। তাই আমরা বলতে পারি, তপনের স্কুলের ঘণ্টায় আঘাত করলে সেই ঘণ্টায় কম্পনের সৃষ্টি হয়, যা শব্দ উৎপন্ন করে। এই শব্দ বায়ু মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়ে তপনের কানে পৌছায়। প্রথমে কম্পনশীল ঘণ্টাটি এর চারপাশের বায়ুর কণাগুলোকে কম্পিত করে। বায়ুর এ কম্পিত অণুগুলো এদের কম্পনকে পার্শ্ববর্তী বায়ুর অণুগুলোতে স্থানান্তর করে দেয়। পর্যায়ক্রমে এভাবেই শব্দ তরঙ্গ বা ঢেউয়ের মতো ঘণ্টা থেকে তপনের কানে পৌঁছায়।
ঘণ্টার পুরুত্ব ও আকৃতি পরিবর্তনের কারণে তপন বাসা থেকেই এখন ঘণ্টার শব্দ শুনতে পায়।
বিশ্লেষণ: আমরা জানি, কোনো শব্দ কতদূর পর্যন্ত শোনা যাবে, তা শব্দের তীব্রতার উপর নির্ভর করে। শব্দের তীব্রতা যত বেশি হবে শব্দ তত জোরালোভাবে এবং অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যাবে। আবার শব্দের তীব্রতা কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে যেমন মাধ্যমের ঘনত্ব, উৎসের বিস্তার, উৎসের কম্পাঙ্ক, মাধ্যমের গতি, উৎসের আকার প্রভৃতি। যেহেতু তপনের স্কুলের ঘণ্টার আকার পরিবর্তন করা হয়েছে, সেহেতু আমরা বলতে পারি ঘণ্টাটির আকার বড় এবং পাতলা করা হয়েছে। কারণ শব্দ সৃষ্টিকারী উৎসের আকার বড় এবং পাতলা হলে শব্দ তরঙ্গ বেশি পরিমাণে শক্তি সঞ্চালিত করে ফলে শব্দের তীব্রতা ও তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পায় এবং বহুদূর পর্যন্ত শব্দ শোনা যায়। এ কারণেই তপন পূর্বে স্কুলের ঘণ্টাধ্বনি না শুনলেও এখন শুনতে পায়।
Related Question
View Allযে শক্তি আমাদের কানে প্রবেশ করে শ্রবণের অনুভূতি জাগায় তাই শব্দ।
আমরা জানি, শব্দ মাধ্যম ছাড়া চলাচল করতে পারে না। আবার বিভিন্ন মাধ্যমে শব্দের বেগও বিভিন্ন। যেমন- শব্দ সবচেয়ে দ্রুত চলে কঠিন মাধ্যমে, তারপর তরল মাধ্যমে, এরপর বায়ুমাধ্যমে। রেলপাত লোহার তৈরি অর্থাৎ রেলপাত একটি কঠিন মাধ্যম। সুতরাং রেলপাতের মধ্য দিয়ে শব্দ খুব দ্রুত চলাচল করে। তাই রেলপাতে কান রাখলে দূর থেকে রেলগাড়ি চলার শব্দ রেল পাতের মধ্য দিয়ে খুব দ্রুত কানে পৌছায় বলে ঐ শব্দ শোনা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত,
বায়ুতে শব্দের বেগ ৩৩০ মি./সে.
শব্দ শোনার সময় = ?
বোমা ফাটার স্থান ও তীরে অবস্থিত লোকটির দূরত্ব ৩৩০০ মিটার
আমরা জানি,
শব্দের বেগ = দূরত্ব / সময়
বা, সময় = দূরত্ব / শব্দের বেগ = ৩৩০০ মিটার / ৩৩০ মি./সে. = ১০ সেকেন্ড
অতএব, বোমা ফাটার স্থান থেকে তীরে অবস্থিত 'লোকটি ১০ সেকেন্ড পর শব্দ শুনবে।
উদ্দীপক অনুযায়ী, ডুবুরি বোমা ফাটার স্থান থেকে ৩৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত।
সমুদ্রের পানিতে শব্দের বেগ ১৫০০ মি./সে.
শব্দ শোনার সময় = ?
আমরা জানি,
শব্দের বেগ = দূরত্ব / সময়
বা, সময় = দূরত্ব / শব্দের বেগ = ৩৩০০ মিটার / ১৫০০ মি./সে. = ২.২ সেকেন্ড
'গ' হতে পাই, তীরে অবস্থিত লোকটি বোমা ফাটার শব্দ শুনে ১০ সেকেন্ড পর।
অতএব, ডুবুরি ও লোকটি একই সময়ে বোমা ফাটার শব্দ শুনতে পাবে না, ডুবুরি আগে শুনতে পাবে।
যে শব্দ শুনতে ভালো লাগে, সুখকর, মধুর ও আনন্দদায়ক সে শব্দই সুশ্রাব্য শব্দ।
শব্দের যে বৈশিষ্ট্য দ্বারা কোন সুর চড়া ও কোন সুর মোটা বুঝা যায় তাকে তীক্ষ্ণতা বলে। শব্দের তীক্ষ্ণতা শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর কম্পাঙ্ক ও দৈর্ঘ্যের উপর নির্ভর করে। দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেলে তীক্ষ্ণতা কমে এবং দৈর্ঘ্য কমলে তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। 'কাজেই বাঁশের বাঁশির দৈর্ঘ্য কম হলে শব্দের তীক্ষ্ণতা বৃদ্ধি পাবে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
