"এদের অভ্যাস আছে- অতি দ্রুত সবকিছু গুছিয়ে সরে পড়তে পারে" কথাটি '১৯৭১' উপন্যাসে বর্ণিত কৈবর্তপাড়ার মানুষদের সম্পর্কে বলা হয়েছে। উপন্যাসে দেখা যায়, পাকিস্তানি মিলিটারি অফিসার নীলগঞ্জ গ্রামে আক্রমণ করে। অফিসার এজাজের ধারণা, কৈবর্তপাড়ায় মুক্তিবাহিনীর একটি দল লুকিয়ে আছে। তাই তার যত রোষ সব কৈবর্তপাড়াকে ঘিরে। কৈবর্তপাড়ার মানুষ এটা বুঝতে পেরে চলে যেতে চায়। তাদের জীবনধারা অন্যরকম। তারা গ্রায় থেকে সরে পড়ে নিঃশব্দে। অন্ধকারেই তারা কাজ করে। ওদের শিশুরা চোখ বড় বড় করে দেখে, হইচই করে না, কিছুই করে না। মেয়েরা জিনিসপত্র নৌকায় তুলতে থাকে। হাঁস, মুরগি, ছাগল সবই উঠানো হয়, কোনো কিছু বাদ পড়ে না। প্রবীণরা হুঁকো হাতে বেশ খানিকটা দূরে বসে থাকে। তাদের ভাবভঙ্গি দেখে মনে হয় কী হচ্ছে না হচ্ছে এরা কিছুই জানে না। আসলে কৈবর্তপাড়ার মানুষেরা যে বিপদের সময় এমন নিঃশব্দে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে সরে পড়তে পারে তাদের এই বৈশিষ্ট্যের কারণে লেখক প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছেন।
Related Question
View All'১৯৭১' উপন্যাসটি হুমায়ূন আহমেদ রচিত একটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে হানাদার বাহিনী নিরীহ বাঙালিদের উপর যে অমানবিক অত্যাচার চালিয়েছিল তার আখ্যান রচিত হয়েছে আলোচ্য উপন্যাসে। উপন্যাসে দেখা যায়, পাকিস্তানি মিলিটারি অফিসার এজাজ তার সেনাবাহিনী নিয়ে নীলগঞ্জ গ্রামে হাজির হয়। কারণ তার ধারণা যে, নীলগঞ্জ গ্রামের পাশে কৈবর্তপাড়ায় মুক্তিবাহিনীর একটি দল লুকিয়ে আছে। গ্রামে আসার পর থেকেই শুরু হয় তার অমানবিক অত্যাচার। অফিসার এজাজ যখন নীলগঞ্জ গ্রামে আসে তখন তার সঙ্গী হয় বাঙালি 'রফিক'।
'রফিক' আলোচ্য উপন্যাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল চরিত্র বলা যায়। সে মেজর এজাজের সঙ্গে থাকে এবং দোভাষী হিসেবে কাজ করে। রফিক চরিত্রটি যেন রহস্যময়। রফিক হলো '১৯৭১' উপন্যাসের সবচেয়ে জটিল চরিত্র। তাকে বাস্তব চরিত্র না বলে বরং প্রতীকী চরিত্র 'বলাই শ্রেয়। উপন্যাসে দেখা যায়, রফিক কখনো নীলগঞ্জ গ্রামে আসেনি অথচ সে এমনভাবে কাজ করেছে, যেন শুধু নীলগঞ্জের রাস্তাঘাট নয়, মানুষজন এবং প্রাকৃতিক অবকাঠামোও তার খুবই চেনা। সে মেজর এজাজের সহযোগী হিসেবে গ্রামে প্রবেশ করলেও বাংলাদেশের মানুষের প্রতিনিধি হয়েই কথা বলেছে। আর এভাবেই সে হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের যেকোনো গ্রামের যেকোনো রফিক।
'১৯৭১' উপন্যাসে রফিক আসলে যুদ্ধই করতে চেয়েছে। তাই উপন্যাসের শুরু থেকেই মেজর এজাজের কর্মকাণ্ডের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে এসেছে। অবশেষে যখন সে নিশ্চিত হয়েছে, এটা যুদ্ধ নয়, অন্যায় যুদ্ধ মাত্র, তখন প্রতিবাদ ছাড়া তার হাতে আর কোনো উপায় ছিল না। যুদ্ধের শুরুর পর্বে বাংলাদেশের আপামর জনতা যখন বুঝতে পারে তাদের সামষ্টিক বেঁচে থাকা কেবল ব্যক্তিক জীবনদানের মধ্য দিয়েই সম্ভবপর; তখনই আসলে বাংলাদেশ প্রবেশ করতে থাকে যুদ্ধে। যুদ্ধ রূপান্তরিত হতে থাকে সর্বব্যাপী মুক্তিযুদ্ধে। উপন্যাসে রফিক চরিত্রটির মধ্য দিয়ে এই চেতনার প্রকাশই দেখা যায়। সেও যেন বুঝতে পেরেছিল তার জীবন দেওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হবে যুদ্ধ। যে রফিক এক সময় মেজর এজাজের সঙ্গী ছিল, সেই এজাজের বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকে। কৈবর্তপাড়ায় লাগিয়ে দেওয়া আগুনের আঁচে বিলের পানিতে দাঁড়িয়ে থাকা মেজর এজাজের কাছে অচেনা হয়ে ওঠে রফিক। রফিকের চোখেমুখে হানাদার বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে যে ঘৃণার প্রকাশ এটিই মূলত উপন্যাসের মূল। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, রফিকই আসলে '১৯৭১' উপন্যাসের একাত্তর, এই উপন্যাসের মুক্তিযুদ্ধ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!