বসত ও এর আশেপাশে স্বল্প পরিসরে প্রধানত পারিবারিক প্রয়োজন মেটানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর ব্যবস্থাকে বসত বনায়ন বলে।
বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে রেললাইনের পাশে, প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেসহ বিভিন্ন সামাজিক এলাকায় যে বন গড়ে উঠে তাকে সামাজিক বন বলে। সামাজিক বনে বিভিন্ন ফলজ বৃক্ষ লাগানো হয়। সামাজিক বন থেকে মানুষ ফলের চাহিদা পূরণ করে, ভূমিক্ষয় রোধ করে, কুটির শিল্প তৈরির কাঁচামাল পায়, ঘরবাড়ি তৈরির কাঠ পায়, জ্বালানি কাঠ পায়। এছাড়াও সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। অতএব বলা যায়, সামাজিক বন জনগণের উপকার করে।
উদ্দীপকের শুরুতে একটি বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি সেক্টরে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (Non-Government Organization, সংক্ষেপে NGO) নিরলসভাবে কাজ করছে। ব্র্যাক কৃষি বিষয়ক নিম্নলিখিত কার্যক্রম পরিচালিত করে-
i. কৃষি উপকরণ (যেমন- সার, কীটনাশক) সরবরাহ করে।
ii. ফসলের হাইব্রিড ও উচ্চ ফলনশীল জাত চাষে উদ্বুদ্ধ করে।
iii. কৃষি সমস্যার সমাধান করে।
iv. কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে পরামর্শ দাঁন করে।
v. কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য, বীজ ও চারা সরবরাহ করে।
vi. সেচ কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করে।
vii. প্রাকৃতিক দুর্যোগে এবং কৃষকদের আপদকালীন সময়ে সহায়তা প্রদান করে।
viii. কৃষকদের কাছে উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর করে।
ix. কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়। যেমন- ইন্টারনেট ব্যবহার পদ্ধতি শেখায়।
Χ. সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান করে।
অতএব ব্রাকের মতো এনজিও কৃষি তথ্য সম্প্রসারণ ও সেবা প্রদানে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে যা বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি অর্জনে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাটি হলো ব্র্যাক।
ব্র্যাক বাংলাদেশের কৃষির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সারাদেশে এরা কৃষির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার সাথে সাথে বিশ্বের ৮টি দেশে কৃষি কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
ব্র্যাক প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করছে। এদের নিজস্ব দুটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো উফশীর জাত উদ্ভাবন এবং শস্য উৎপাদন ব্যবস্থাপনার মান উন্নয়ন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা নিবিড়ভাবে ধান, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজির জাত নিয়ে কাজ করছে। এদের নিজস্ব গবেষণাগারে টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে প্রজনন বীজ ও হাইব্রিড উৎপাদনের কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত উন্নত মানসম্পন্ন বিভিন্ন বীজ ডিলারদের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। ব্র্যাক দরিদ্র কৃষকদের বসতবাড়িতে স্বল্প পরিসরে ফল ও সবজির চাষ ও হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এছাড়া কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়াসে এটি নানা ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করে।
উপরের আলোচনা হতে এটা প্রতীয়মান যে, ব্র্যাক বিভিন্ন ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণ ও কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে দরিদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
Related Question
View Allবঙ্গোপসাগরে ও উপকূলীয় এলাকায় অর্থাৎ লোনা পানিতে যেসব মাছ বাস করে সেগুলোকে লোনা পানির মাছ বলে।
মাটির গুণগতমান উন্নয়নের জন্য গাছে ফুল আসার পূর্বে লিগিউম জাতীয় উদ্ভিদ চাষ দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে যে সার তৈরি করা হয় তাকে সবুজ সার বলে।
ধৈঞ্চা ও শনপাট জমিতে প্রচুর পরিমাণে জৈব পদার্থ যোগ করে। ধৈঞ্চা গাছের শিকড়ে নডিউল সৃষ্টি হয় যা মিথোজীবী প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে নাইট্রোজেন সংগ্রহ করে ফসলের গ্রহণোপযোগী করে তোলে। তাই জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ধৈঞ্চা ও শনপাটকে জমিতে সবুজ সার হিসেবে উৎপাদন করা হয়।
উদ্দীপকের 'ক' চিহ্নিত ফসল হলো মাঠ ফসল। যে সকল ফসল সাধারণত উন্মুক্ত মাঠে বেড়াবিহীন অবস্থায় তুলনামূলক কম পরিচর্যার মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় সেগুলোকে মাঠ ফসল বলে। মাঠ ফসলের বৈশিষ্ট্য হলো-
i. সাধারণত বড় জমিতে চাষ করা হয়।
ii. মাঠের সমস্ত ফসলকে একত্রে বা সমষ্টিগতভাবে যত্ন নেওয়া হয়।
iii. তুলনামূলকভাবে কম যত্নের প্রয়োজন হয়।
iv. মাঠের সমস্ত ফসল একত্রে পরিপক্ক হয় বলে একত্রে সংগ্রহ করতে হয় (ব্যতিক্রম- তুলা)।
v. বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয় না (ব্যতিক্রম- রাস্তার পাশের জমি)।
vi. মৌসুমের শুরুতে দাম কম থাকে।
vii. সেচ না দিয়েও অনেক ফসল চাষ করা যায়।
viii. একবর্ষজীবী ফসল (ব্যতিক্রম- চা)।
ix. নিচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে চাষ করা হয়।
Χ. ফসলের উৎপাদন খরচ ও ঝুঁকি বেশি।
xi. ফসল শুকিয়ে মাড়াই করে ব্যবহার করা হয় (ব্যতিক্রম- পাট, আখ ইত্যাদি)।
xii. আকারে খাটো ও ছোট হয় (ব্যতিক্রম- আখ, পাট, ভুট্টা ইত্যাদি)।
অর্থাৎ মাঠ ফসলের উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যাবলি লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে কৃষি শিক্ষকের বর্ণিত বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে রয়েছে মাঠ ফসল, উদ্যান ফসল, গবাদিপশু, পোল্ট্রি, সামাজিক বনায়ন ও মৎস্য।
বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে সম্পর্কিত। কৃষি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প কারখানার প্রসার ঘটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম করে। নিচে বাংলাদেশের মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রায় উপরে বর্ণিত উপাদানসমূহের গুরুত্ব বর্ণনা করা হলো-
i. খাদ্যের সিংহভাগ আসে কৃষি হতে। যেমন- চাল, ডাল, গম, শাকসবজি, মাছ ইত্যাদি।
ii. কৃষি হলো বস্ত্র তৈরির প্রধান কাঁচামালের উপাদান যেমন- পাট, তুলা, রেশম ইত্যাদির উৎস।
iii. গৃহ নির্মাণে ব্যবহৃত উপকরণ যেমন- কাঠ, বাঁশ, খড়, শন, গোলপাতা প্রভৃতির উৎস হলো কৃষি। আসবাব তৈরির মূল উপকরণ আসে বন হতে।
iv. বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক, মরফিন, কোকেন এবং রাসায়নিক দ্রব্য উদ্ভিদ হতে প্রস্তুত করা হয়।
V. শিক্ষার উপকরণ যেমন- কাগজ, পেন্সিল ইত্যাদি আসে কৃষির উপাদান হতে।
vi. জ্বালানি হিসেবে বাঁশ, খড়, নাড়া, গবাদিপশুর বিষ্ঠা ইত্যাদি গৃহস্থালির কাজে ও ইটের ভাটায় ব্যবহৃত হয়, যা কৃষি হতে আসে।
vii. এ দেশের মোট শ্রমশক্তির শতকরা ৪০.৬ ভাগ কৃষি হতে আসে।
viii. বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ১১% কৃষিজ পণ্য রপ্তানির ফলে আসে।
ix. মাছের চর্বি, কাঁটা, হাড় ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবৃহত হয়।
x. মাছের কাঁটা, আঁইশ, বিষাক্ত মাছ ইত্যাদি শুকিয়ে গুঁড়া করে সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করলে ফসফরাসের অভাব দূর করা যায়।
অতএব, বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রায় উদ্দীপকের উপাদানসমূহের গুরুত্ব অনেক।
ই-বুক হলো এক ধরনের ইন্টারএকটিভ ডিজিটাল বই যাতে কোনো বিষয়ে টেক্সট কনটেন্টের সাথে অডিও, ভিডিও, অ্যানিমেশন ইত্যাদিও সমন্বিত আকারে থাকে।
স্বল্প পরিসরে প্রতিটি উদ্ভিদের আলাদা যত্ন করার মাধ্যমে বাগানে যে ফসলের চাষ করা হয় তাকে উদ্যান ফসল বলে। ফুল, ফল, শাকসবজি ও মসলাজাতীয় ফসল উদ্যান ফসলের অন্তর্ভূক্ত। সাধারণত বসতবাড়ি সংলগ্ন উঁচু জমিতে উদ্যান ফসলের আবাদ করা হয়। আমাদের দেশে উৎপাদিত মোট ফসলের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে উদ্যান ফসল থেকে। উদ্যান ফসল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে, পুষ্টির চাহিদা পূরণে ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!