দক্ষিণ ভারতের টোডা উপজাতি এবং তিব্বতীয়দের মধ্যে বহুস্বামীবিবাহ প্রচলিত রয়েছে।
বিবাহ হলো একজন প্রাপ্ত বয়স্ক নারী ও পুরুষের মধ্যে সামাজিক, ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বন্ধন।
বিবাহ হলো একটি আনুষ্ঠানিকতা, যার মাধ্যমে সমাজ নারী- পুরুষের যৌন সম্পর্ক এবং তাদের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে। বিবাহের মাধ্যমেই পরিবারের সৃষ্টি হয় এবং স্থায়িত্ব লাভ করে।
কাঠামোগত দিক থেকে উদ্দীপকে বর্ণিত এনামের দাদার পরিবারটি হলো যৌথ পরিবার।
রক্ত সম্পর্কীয় যোগসূত্রের ভিত্তিতে কয়েকটি একক পরিবারের সমষ্টি হলো যৌথ পরিবার। যৌথ পরিবারে বিবাহিত পুত্ররা স্ত্রী ও সন্তানসন্ততি সহযোগে পিতা-মাতার সাথে বসবাস করে। এ পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজন যেমন- চাচা, চাচি ও তাদের সন্তানসন্ততি ও বসবাস করতে পারে। এই পরিবার আকার ও আয়তনের দিক থেকে বৃহদায়তন বিশিষ্ট এবং এই পরিবারের সদস্যরা একত্রে উপার্জন, ব্যয় ও ভোগ করে। ভারত ও বাংলাদেশের হিন্দু ও মুসলমান সমাজে যৌথ পরিবারের অস্তিত্ব দেখা যায়। যৌথ পরিবারে বড়রা ছোটদের সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও যৌথ পরিবারের সদস্যরা একে অন্যকে সামাজিক, মানসিক, অর্থনৈতিক সাহায্য- সহযোগিতা করে থাকে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত এনামের অবসরপ্রাপ্ত দাদা পরিবারের সকল শিশুদের নিয়ে আড্ডা দেয় এবং পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেয়। এছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিধি নিষেধ নিয়ে আলোচনা করে, যার মাধ্যমে যৌথ পরিবারের বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠেছে।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, যৌথ পরিবার হলো পারস্পরিক স্নেহ, ভালোবাসা, ও সাহায্য ও সহযোগিতার আঁধার এবং শিশুর সুষ্ঠু সামাজিকীকরণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকে বর্ণিত এনামের দাদার উক্ত কর্মকাণ্ডের আলোকে বলা যায় যে, পরিবার সমাজজীবনের শাশ্বত বিদ্যালয়। সন্তানসন্ততিদের লালন-পালনের সাথে সাথে পরিবারের মধ্যে শিশুদের দৈহিক ও মানসিক পরিচর্যা এবং আত্মবিকাশের শিক্ষা শুরু হয়। এক্ষেত্রে পিতামাতা কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিগণ শিশুদের আচার- ব্যবহারের সার্বিক শিক্ষাদান করে থাকে। প্রাচীন ও মধ্যযুগেও পরিবার পরিমন্ডলে সন্তানদের অনানুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যার্জন করানো হতো। পরিবারই অনানুষ্ঠানিক পন্থায় শিশুদের প্রাথমিক বর্ণ পরিচয় বা হাতেখড়ি এবং নীতি নৈতিকতার শিক্ষা দিয়ে থাকে। সন্তানসন্ততিদের মধ্যে নিজস্ব ধর্মীয় এবং সামাজিক মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা প্রদান করার মাধ্যমে পরিবারের আদর্শ পরিস্ফুটিত হয়। ব্যক্তিগত লোভ-লালসাকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মানব চরিত্র গঠনে ধর্মের সঠিক শিক্ষা পরিবার প্রদান করে। ফলে পরিবার থেকেই মানুষ সৎ, নীতিবান ও সত্যানুসন্ধানী হয়ে ওঠে। পরিবারের গণ্ডিতেই সন্তানসন্ততি যোগ্য নেতৃত্ব, দায়িত্ব ও কর্তব্য, নিয়মশৃঙ্খলা ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে। 'আদেশ ও আনুগত্য' রাজনীতির এ মূল কথা শিশুরা পরিবার থেকেই অর্জন করে। শিষ্টাচার, সততা, ন্যায়পরায়ণতা, নিয়মনিষ্ঠা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ইত্যাদি গুণাবলি শিশুরা পরিবার থেকেই পেয়ে থাকে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, জন্ম থেকে পরিবার একটি মানব শিশুকে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক শিশু বা সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে।
Related Question
View Allনৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত সূক্ষ্ম অনুভূতি।
আদিম সমাজে মানুষে মানুষে সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল। আদিম সমাজে সংহতি ও সম্প্রীতিবোধ ছিল দৃঢ়। ঐ সময় সংগৃহীত খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য জিনিসপত্র জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দান ও উপহার হিসেবে লেনদেন চলত। জিনিসপত্র ক্রয় বা সঞ্চয় করে রাখার মন- মানসিকতা মানুষের মধ্যে গড়ে উঠে নি। এ ধরনের লেনদেন। সমাজের সংহতি রক্ষায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে মানিকের কাজের মধ্যে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরিবারের ভরণপোষণ করার জন্য আয় ও উৎপাদন করতে হয় এবং তা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। আয়ের কিছু অংশ দুর্দিনের জন্য জমা করেও রাখা হয়। জীবন বিমা, শিল্পে লগ্নি, ব্যবসা, জমি ক্রয় অথবা চাকরি ইত্যাদি যেভাবেই হোক, কিছু না কিছু সঞ্চয় করতেই হয়। এসব আয় ব্যয় ও সঞ্চয় মূলত পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। মানিক সংসারের অর্থ উপার্জনের জন্য একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করে। আর এ কাজ পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
তাই বলা যায়, মানিকের কাজে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থাৎ বিবাহ ও পরিবার সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত- আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণভাবে একমত।
মানবসমাজের সবচেয়ে আদিম সংগঠন হলো পরিবার। প্রাচীনকালে পরিবারকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করে।
সমাজবিজ্ঞানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো পরিবার সমাজবিজ্ঞান। পরিবারের উৎপত্তি, বিবর্তন, বিকাশ, ধরন, পরিবর্তনশীল পরিবারের কার্যাবলি ও পরিবারের সমস্যা সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানের এ শাখায় আলোচনা করা হয়। তাছাড়া পরিবার গঠিত হওয়ার মূল ভিত্তি বিবাহ নিয়েও সমাজবিজ্ঞানের এ শাখা আলোচনা করে। বিবাহ সম্পর্কিত আলোচনায় স্থান, কাল ও পাত্রভেদে বিবাহের ধরন, প্রকৃতি, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয় প্রাধান্য লাভ করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, বিবাহ ও পরিবার নিশ্চিতভাবেই সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো সুসংবদ্ধ জ্ঞান আহরণ।
একটি সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দুই বা ততোধিক সামাজিক ঘটনা বা প্রপঞ্চের মধ্যে কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার পদ্ধতিকে সমাজ গবেষণায় ব্যবহৃত পরীক্ষণ পদ্ধতি নামে অভিহিত করা হয়।
সমাজ গবেষণায় দুটি চলকের মধ্যকার সম্পর্কের রূপ-প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো কল্পনা, যাচাই বা পরীক্ষা করে দেখার জন্য পরীক্ষণ পদ্ধতির সাহায্য নেয়া হয়। এর একটি চলক হলো স্বাধীন, যার প্রভাব লক্ষ করা যায় আরেকটি নির্ভরশীল চলকের ওপর। যেমন- পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে স্বাধীন চলক এবং এর ফলে পরিবর্তনকে নির্ভরশীল চলক বলে আখ্যায়িত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!