উত্তরঃ
উদ্ভিদ শনাক্তকরণে টিস্যুতন্ত্র 'R' বা পরিবহন টিস্যুতন্ত্র (vascular tissue system) এর ব্যবহারিক প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 'R' বলতে মূলত জাইলেম (xylem) ও ফ্লোয়েমকে (phloem) বোঝায়, যা উদ্ভিদের কাণ্ড, মূল ও পাতায় জল, খনিজ লবণ এবং প্রস্তুতকৃত খাদ্য পরিবহনের কাজ করে। এই টিস্যুতন্ত্রের গঠন ও বিন্যাস পর্যবেক্ষণ করে বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতি, বিশেষ করে একবীজপত্রী (monocotyledonous) ও দ্বিবীজপত্রী (dicotyledonous) উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা যায়, যা উদ্ভিদ শনাক্তকরণের একটি মৌলিক ভিত্তি।
পরিবহন টিস্যুতন্ত্র (R) এর ব্যবহারিক প্রয়োগের ক্ষেত্রে কান্ডের প্রস্থচ্ছেদ (cross-section) একটি প্রধান উদাহরণ। একবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে পরিবহন বান্ডিলগুলো (vascular bundles) বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকে এবং স্ক্লেরেনকাইমা (sclerenchyma) দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে। এদের বান্ডিলে সাধারণত ক্যাম্বিয়াম (cambium) অনুপস্থিত থাকে। অন্যদিকে, দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের কাণ্ডে পরিবহন বান্ডিলগুলো একটি সুনির্দিষ্ট বৃত্তাকার বিন্যাসে সজ্জিত থাকে এবং জাইলেম ও ফ্লোয়েমের মাঝে ক্যাম্বিয়াম থাকে। এই ক্যাম্বিয়ামের উপস্থিতি গৌণ বৃদ্ধি (secondary growth) ঘটাতে সক্ষম। এই দৃশ্যমান পার্থক্যগুলো অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে সহজেই শনাক্ত করা যায় এবং একটি উদ্ভিদকে একবীজপত্রী না দ্বিবীজপত্রী, তা নির্ধারণে সাহায্য করে।
মূলের ক্ষেত্রেও টিস্যুতন্ত্র 'R' এর গঠনগত ভিন্নতা উদ্ভিদ শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে জাইলেম ও ফ্লোয়েম বান্ডিলগুলোর সংখ্যা বেশি থাকে এবং একটি রিং আকারে সজ্জিত থাকে, যার কেন্দ্রে একটি বড় মজ্জা (pith) থাকে। দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মূলে জাইলেম বান্ডিলগুলো সাধারণত ২ থেকে ৬টি এবং একটি তারার মতো (stellate) বিন্যাসে সজ্জিত থাকে, যেখানে মজ্জা ছোট বা অনুপস্থিত থাকে। এই গঠনগত তারতম্যগুলো উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ করে সুনির্দিষ্টভাবে উদ্ভিদ শনাক্ত করতে পারেন। চিত্র ব্যবহার করে এই বিন্যাসগুলোকে সহজে তুলে ধরা যায়, যেখানে একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী কান্ড ও মূলের প্রস্থচ্ছেদের টিস্যু বিন্যাস প্রদর্শন করা হয়।
উপসংহারে বলা যায়, টিস্যুতন্ত্র 'R' বা উদ্ভিদের পরিবহন টিস্যুতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ গঠনগত বৈশিষ্ট্য, যেমন পরিবহন বান্ডিলের বিন্যাস, জাইলেম ও ফ্লোয়েমের আপেক্ষিক অবস্থান, এবং ক্যাম্বিয়ামের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি, উদ্ভিদ শনাক্তকরণের জন্য অপরিহার্য সরঞ্জাম। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে এই বৈশিষ্ট্যগুলো পর্যবেক্ষণ করে এবং চিত্র (যেমন কাণ্ড বা মূলের প্রস্থচ্ছেদের চিত্র) ব্যবহার করে বিভিন্ন উদ্ভিদ প্রজাতিকে নির্ভুলভাবে শ্রেণীবদ্ধ ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়, যা উদ্ভিদবিদ্যা ও কৃষিবিজ্ঞানে এর ব্যবহারিক প্রয়োগকে আরও সুদৃঢ় করে।