জন্মিলে মরিতে হবে।
"সেই ধন্য নরকুলে"- কবি একথা বলেছেন কারণ তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, পৃথিবীতে স্মরণীয় হলেই ব্যক্তির জীবন ধন্য হয়।
জীবন অতি ক্ষুদ্র। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জীবনের সমাপ্তি ঘটে। কিন্তু প্রবলভাবে আশাবাদী মানুষ মৃত্যুকেও জয় করতে চায়। কারণ মৃত্যুর পর মানুষ তার কর্মের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকে। কবি এ কথা উপলব্ধি করেই বলেন মানবকুলে সেই ধন্য যাকে লোকে কখনো ভোলে না। সে স্মৃতির মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকে। তাই কবিও তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে অমরত্ব লাভ করতে চান।
উদ্দীপকে 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার স্বদেশপ্রেমের দিকটি ফুটে উঠেছে।
স্বদেশের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসাই স্বদেশপ্রেম। স্বদেশপ্রেমের কারণেই মানুষ প্রবাসে গিয়েও নিজের জন্মভূমিকে ভুলতে পারে না। জন্মভূমির প্রতি গভীর টান অনুভব করে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে কবি বলেছেন, তাঁর প্রিয় জন্মভূমির মতো এমন দেশ পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। কবির দেশটি পৃথিবীর সব দেশের চেয়ে সুন্দর। কবির জন্মভূমি সব দেশের রানি। উদ্দীপকের কবির স্বদেশের প্রতি এই অনুরাগ 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় প্রতিফলিত কবির স্বদেশনুরাগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিও এ কবিতায় তার প্রিয় বঙ্গভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা বলেছেন। স্বদেশের প্রতি কবির ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে। কবি তার প্রবাস জীবনে প্রিয় বঙ্গভূমির কথা স্মরণ করে ব্যথিত হয়েছেন। তিনি স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসতে চেয়েছেন। এখানে কবির যে স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকের কবির স্বদেশেপ্রেমের দিকটিকে নির্দেশ করেছে।
"উদ্দীপকে ফুটে ওঠা দিকটি ছাড়াও 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় আরও নানা দিকের সমাবেশ ঘটেছে"- মন্তব্যটি যথার্থ।
মা, মাটি, মাতৃভাষা এই তিনটি মানুষের সবচেয়ে শ্রদ্ধার বস্তু। মানুষ প্রয়োজনের তাগিদে যেখানেই যাক না কেন এ তিনটির কথা ভুলতে পারে না। জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসায় মানুষ তাকে মায়ের সঙ্গে তুলনা করে।
উদ্দীপকে স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। স্বদেশকে সবার সেরা বলে তার প্রতি নিজের শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এই বিষয়টি 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় প্রতিফলিত কবির স্বদেশপ্রেমের দিকের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। উদ্দীপকের এই বিষয়টি ছাড়াও আরও কিছু বিষয় 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে। কবি স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগ ব্যক্ত করতে গিয়ে দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকতে চেয়েছেন। তার মধ্য দিয়ে তিনি স্বদেশের বুকে অমরতা লাভ করতে চেয়েছেন।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় কবি তাঁর প্রবাসজীবনের যন্ত্রণা এবং তা ভুলে থাকতে স্বদেশের প্রতিটি বস্তুর প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করার কথা ব্যক্ত করেছেন। কবি দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি তীব্র আকর্ষণ অনুভব করেছেন। তিনি মানুষের স্মৃতিতে সবসময় বিরাজ করতে চেয়েছেন। এ ধরনের কোনো প্রত্যাশা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। কবিতায় কবি মানুষের জীবনকে নদীর জলধারার সঙ্গে তুলনা করেছেন এবং জন্মভূমির স্নেহের বন্ধনকে চিরস্থায়ী মনে করেছেন। অর্থাৎ স্বদেশের প্রতি তাঁর অটুট বন্ধনের দিকটি তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকে অনুরূপভাবে কবির অনুরাগ প্রতিফলিত হয়নি। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allবাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মহাকাব্যের নাম 'মেঘনাদবধ কাব্য'।
কবি দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার জন্য বর প্রার্থনা করেন।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত তাঁর জন্মভূমিকে প্রচণ্ড ভালোবাসেন। তিনিও চান তাঁর প্রিয় জন্মভূমি যেন তাকে মনে রাখেন, হৃদয়ে স্থান দেন। দেশমাতৃকার স্মৃতিতে পদ্মফুলের মতো ফুটে থাকার মধ্য দিয়ে তিনি অমরতা লাভ করতে চান। কবি আকুলভাবে তাঁর স্বদেশের কাছে সেই বর প্রার্থনা করেন।
উদ্দীপকের প্রথম কবিতাংশে বাংলার প্রকৃতিতে কবির অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা ও স্বদেশপ্রেম প্রকাশ পেয়েছে। 'ফুটি যেন স্মৃতি-জলে' চরণটির মধ্য দিয়েও এ কথাই প্রকাশ পায়।
সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা বাংলাদেশ আমাদের জন্মভূমি। এদেশের প্রতি রয়েছে আমাদের সীমাহীন ভালোবাসা। বাংলা-মায়ের কোলে তাই সব বাঙালি অনন্তকাল স্থান পেতে চায়।
উদ্দীপকের প্রথম স্তবকের কবি মৃত্যুর পর পুনর্জন্ম হলে মানুষ অথবা শঙ্খচিল-শালিকের বেশে বাংলা-মায়ের কোলে ফিরে আসার আকুতি প্রকাশ করেছেন। কবির এ আকুতির মধ্য দিয়ে বাংলার প্রকৃতিতে অমরতা লাভের ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে অকৃত্রিম স্বদেশপ্রেম। কবির এই স্বদেশপ্রেমের অনুভূতি ও অমরতা লাভের আকাঙ্ক্ষা 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার প্রশ্নোক্ত চরণটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। একজন বাংলা-মায়ের কাছে ফিরে আসতে চেয়েছেন, অন্যজন বাংলা-মা যেন তাঁকে মনে রাখে এবং তিনি যেন মায়ের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকতে পারেন অনন্তকাল সেই মিনতি জানিয়েছেন।
"দ্বিতীয় কবিতাংশ এবং 'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতার মূল সুর একই"- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের জন্মভূমি বিচিত্র উপাদানে সজ্জিত। যেমন প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর তেমনই এ দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করে।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতায় স্বদেশের প্রতি কবির শ্রদ্ধা ও একাত্মতা তীব্রভাবে প্রকাশ পেয়েছে। কবি স্বদেশকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। স্বদেশের প্রতিটি বস্তু তাঁকে আকর্ষণ করে। তাই কবি বাংলা-মাকে আকুতি জানিয়েছেন তিনি যেন ছেলেকে ভুলে না যান। আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছেন চির স্মরণীয় হওয়ার এবং দেশমাতার স্মৃতিতে পদ্ম ফুলের মতো ফুটে থাকার। উদ্দীপকের দ্বিতীয় কবিতাংশেও দেশ বা পৃথিবীর প্রতি কবির ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। কবি দেশ, দেশের মানুষের মাঝে তথা এ সুন্দর পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চান। মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই প্রকৃতি এই পৃথিবী ছেড়ে চিরতরে চলে যেতে চান না।
দেশমাতৃকার প্রতি উদ্দীপকের কবি ও আলোচ্য কবিতার কবি উভয়েরই টান সীমাহীন। উভয় জায়গায়ই দেশ ও দেশের প্রকৃতিকে ভালোবাসা এবং মানবহৃদয়ে বেঁচে থাকার আকুতি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ পেয়েছে স্বদেশের স্মৃতিতে ঠাঁই পাওয়ার আকুলতা। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'বঙ্গভূমির প্রতি' কবিতাটি একটি গীতিকবিতা।
সুখ-দুঃখ নিয়েই মানুষের জীবন চলমান বলে জীবন-নদের নীর স্থির নয়।
জাগতিক নিয়মে জীবন বয়ে চলে। কখনো জীবনে দুঃখ এসে ভর করে, কখনোবা আবার সুখের স্রোতে ভেসে চলে। নদীর ধারা যেমন প্রতিনিয়ত বয়ে চলে, জীবনও তাই। প্রকৃতির নিয়মেই রাতের শেষে
দিন হয়, আবার দিনের শেষে রাত আসে। জীবনেও এমন দুঃখ-দুর্দশায় মেঘ ঘনিয়ে অন্ধকার রাত হয়, আবার হাসি-আনন্দে জীবন ভরে ওঠে। এভাবে প্রকৃতির নিয়মেই জীবন-নদের নীর স্থির নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!