যে অবরোহ অনুমানে একটি মাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা হয় তাকে 'অমাধ্যম অনুমান' বলে।
অনুমান একটি মানসিক প্রক্রিয়া। অনুমান সংক্রান্ত একটি যুক্তি গঠন করতে গেলে প্রথমেই প্রয়োজন পরস্পর সংযুক্ত দুই বা ততোধিক প্রদত্ত বাক্য। এ বাক্য বা বাক্যসমূহ অনুমানের ভিত্তি বা আশ্রয়বাক্য হিসেবে কাজ করে। অনুমানে ব্যবহৃত এক বা একাধিক প্রদত্ত বাক্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত হিসেবে একটি আলাদা যুক্তিবাক্য স্থাপন করা হয়। অনুমানে ব্যবহৃত আশ্রয়বাক্য এবং অনুমিত সিদ্ধান্তের মধ্যে একটা অনিবার্য সম্পর্ক থাকে।
উদ্দীপকে আব্দুল জব্বার অনুমান সম্পর্কে যে উদাহরণগুলো দিয়েছেন তাহলো যথাক্রমে অবরোহ ও আরোহ অনুমান। আরোহ ও অবরোহ অনুমানের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য হলো-
সাদৃশ্য :
১. অবরোহ ও আরোহ উভয় অনুমানের সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে যৌক্তিকভাবে নিঃসৃত হয়।
২. উভয় অনুমানে কতকগুলো আশ্রয়বাক্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈসাদৃশ্য:
১. অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের তুলনায় ব্যাপক হতে পারে না। কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সাধারণত আশ্রয়বাক্যের তুলনায় ব্যাপকতর হয়।
২. অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত বিশেষ বাক্য হতে পারে। কিন্তু আরোহে তা হয় না।
৩. অবরোহ অনুমানে আকারগত সত্যতার দিকে লক্ষ করা হয়। অন্যদিকে আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্যের বস্তুগত সত্যতার দিকে লক্ষ রাখা হয়।
আব্দুল জব্বারের শেষ উক্তিটি হলো- "অনুমান বিষয়টির আলোচনা বিস্তর। অনুমান অনেক প্রকারের হয়ে থাকে। তবে সর্ব অনুমান সত্য হয় না।" এই উক্তির মাধ্যমে জব্বার অনুমানের পরিধি, প্রকারভেদ ও এর সত্যতা বা মিথ্যাত্ব সম্পর্কে নির্দেশ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে, অনুমানের পরিধি খুবই বিস্তৃত।
অনুমানের মাধ্যমে আমরা যেকোনো অজানা রহস্যের দ্বার উন্মোচন করতে পারি। তবে সেক্ষেত্রে অনুমানের নিয়মগুলো যথাযথ পদ্ধতিতে অনুসরণ করতে হবে। সাধারণভাবে অনুমান করলে তা থেকে বাস্তব সত্যে উপনীত হওয়া যায় না। তাই সঠিক সত্যের অনুসন্ধান করতে হলে অনুমানের যথাযথ নিয়ম প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অগ্রসর হতে হবে। এই অনুমানে দুটি প্রকারভেদ রয়েছে। যথা- অবরোহ অনুমান ও আরোহ অনুমান। সব অনুমানের ক্ষেত্রেই যে বিষয়টি দাবি করা হয় তাহলো সিদ্ধান্তের সত্যতার হেতু কিছু পরিমাণে যুক্তিবাক্যই যুগিয়ে দেবে। তবে অবরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে যুক্তিবাক্য সিদ্ধান্তের সত্যতার সবটুকু হেতুই যুগিয়ে দেয়। তাই কোন প্রক্রিয়ায় আমরা অনুমান করব সিদ্ধান্তের সত্যতা অনেকটা তার ওপর নির্ভর। তাই অনুমান হতে হবে সঠিক পদ্ধতিতে।
Related Question
View Allঅমাধ্যম অনুমান হলো যে অবরোহ অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি সরাসরি অনুমিত হয় বা নিঃসৃত হয়।
মাধ্যম অনুমান হলো পরোক্ষ অনুমান। যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি নিঃসৃত হয় বা অনুমিত হয় তাকে 'মাধ্যম অনুমান' বলে। মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থাকা বাধ্যতামূলক। কারণ মাধ্যম অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়, একটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় না। যেমন-
A – সকল মানুষ হয় মরণশীল।
A – রহিম হয় একজন মানুষ।
A - রহিম হয় মরণশীল।
উদ্দীপকে মিজান সাহেবের বক্তব্য আরোহ অনুমানমূলক। আরোহ অনুমান অনুযায়ী অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্তের ওপর নির্ভর করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়। যেমন-
মতিন হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
মজিদ হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
মাখন হয় দানশীল ব্যক্তি এবং ধনী।
সকল ধনী ব্যক্তি দানশীল।
মিজান সাহেব বাস্তবে কিছু মানুষকে দেখেছে যে তারা ধনী এবং দানশীল। সুতরাং তিনি সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন যে সকল ধনী ব্যক্তি হয় দানশীল। এখানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যগুলোর চেয়ে বেশি ব্যাপক হয়েছে। আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্য থেকে কিছু লোক এর দানশীল ও ধনীর দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে সিদ্ধান্তটি প্রমাণ করা যথেষ্ট নয়। এ কারণে আরোহ অনুমান এর সিদ্ধান্ত সব সময় সম্ভাব্য হয়।
সুতরাং উদ্দীপকে মিজান সাহেবের বক্তব্যটি একটি আরোহ অনুমান। যার সিদ্ধান্ত সবসময় সম্ভাব্য হয়। কারণ আরোহ অনুমানে সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত বা অনুমিত হয় না, সিদ্ধান্তে আশ্রয়বাক্য থেকে নতুন তথ্য প্রকাশ করে।
উদ্দীপকে যে যুক্তিটি দেওয়া আছে তা হলো-
সকল জ্ঞানী হয় ধনী।
সকল কবি হয় ধনী।
সকল কবি হয় জ্ঞানী।
এই যুক্তিটি একটি অবরোহমূলক যুক্তি। এই দৃষ্টান্তে আশ্রয়বাক্য রয়েছে দুটি। আর আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। তাই এটি অবরোহ অনুমান। যে অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় তাকে 'অবরোহ অনুমান' বলে। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক বা সমান ব্যাপক হতে হবে। উপরোক্ত অনুমানে সমান ব্যাপক সিদ্ধান্ত হয়েছে। উদ্দীপকের উক্ত যুক্তিটি বৈধ। কারণ আশ্রয়বাক্য হতে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। তবে যুক্তির আশ্রয় বাক্যগুলোর সত্যতা থেকে সিদ্ধান্তের সত্যতা যদি যাচাই করতে যাই তবে তা মিথ্যা। কারণ 'সকল জ্ঞানী হয় ধনী' আশ্রয়বাক্যটি বস্তুগত মিথ্যা এবং 'সকল কবি হয় ধনী' আশ্রয়বাক্যটি বস্তুগতভাবে মিথ্যা। সকল জ্ঞানী ধনী • নাও হতে পারে, আবার, সকল কবি ধনী নয়। তাই উভয় আশ্রয়বাক্য বস্তুগতভাবে মিথ্যা। সুতরাং সিদ্ধান্তে তথ্য 'সকল কবি হয় জ্ঞানী' বস্তুগতভাবে মিথ্যা। আশ্রয়বাক্য বস্তুগত মিথ্যা হলে সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে মিথ্যা।
উদ্দীপকের যুক্তিটির আশ্রয়বাক্য, সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে সত্য মিথ্যার উপর যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা নির্ভর করে না। তাই এখানে আশ্রয় বাক্য ও সিদ্ধান্ত বস্তুগতভাবে মিথ্যা হলেও যুক্তিটি বৈধ। কারণ আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হলে যুক্তিটি বৈধ হয়। আর উক্ত যুক্তির আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে। সুতরাং, যুক্তিটি বৈধ।
যে অবরোহ অনুমানে একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় সেটিই হলো 'মাধ্যম অনুমান'।
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্তটি এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় এবং যার সিদ্ধান্তটি কখনোই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে ব্যাপক হতে পারে না, তবে অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত সমব্যাপক হয় সেটিই হলো 'অবরোহ অনুমান'। যেমন-
সকল মানুষ হয় মরণশীল।
রহিম হয় একজন মানুষ।
রহিম হয় মরণশীল।
উপরের দৃষ্টান্তে সিদ্ধান্তটি দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের চেয়ে কম ব্যাপক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!