এলাকা দুটি তথা রাঙামাটি ও সিরাজগঞ্জ এলাকায় বসতির যে ভিন্নতা তাতে ভৌগোলিক পরিবেশই প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে বলে আমি মনে করি।
পৃথিবীব্যাপী বিভিন্ন ধরনের বসতি রয়েছে। প্রতিটি বসতির ধরনের যে ভিন্নতা তা ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাবের কারণেই হয়ে থাকে। উদ্দীপকের রাঙামাটি ও সিরাজগঞ্জের বসতির ধরনের ভিন্নতার ক্ষেত্রেও ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাব সুস্পষ্ট। এ দুটি অঞ্চলে ভূমিরূপ ও জলবায়ুর যে পার্থক্য এবং জীবিকা উপার্জনের যে ধরন 'তাতে স্বাভাবিকভাবেই বসতির ধরনে ভিন্নতা এনেছে। বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার ভূমিরূপ পাহাড়ি বন্ধুর প্রকৃতির। সেখানে ঝড়নাসহ বিভিন্ন পানীয় উৎস বিক্ষিপ্ত অবস্থানে রয়েছে। প্রচুর বৃষ্টিপাত, বনভূমির অবস্থান, ভূমির বন্ধুরতা সেখানে বসতি গড়ে তোলার প্রতিবন্ধক। রাঙামাটিতে জীবিকার জন্য নিবিড় কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থাও স্বাভাবিকভাবে নেই। ফলে পাহাড়ের ঢালে পানির উৎসের নিকটে যেখানে কিছু কৃষিকাজ বা পশু পালন সম্ভব সেখানে বিচ্ছিন্ন বসতি গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের ভৌগোলিক পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জে উর্বর পলল মৃত্তিকার কৃষিভূমি বিস্তৃত। বিস্তীর্ণ সমভূমিতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের আশীর্বাদে কৃষির ফলনও প্রচুর। জীবিকার সংস্থান করা খুব সহজ। নদীর ধারে অথবা সামাজিক যোগাযোগের প্রয়োজনে বিভিন্ন সুবিধা (যেমন, হাট) কে কেন্দ্র করে এখানে সারিবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ বসতি গড়ে উঠেছে।
উপরের আলোচনা থেকে এটি সুস্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সামাজিক উপাদান ও ভৌগোলিক পরিবেশের প্রভাবে এ দুটি অঞ্চলে বসতির ধরনে ভিন্নতার সৃষ্টি হয়েছে।
Related Question
View All৫০ লাখেরও বেশি জনসংখ্যাবিশিষ্ট নগরকে মেগাসিটি বলে।
গ্রামের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে নিজেদের উদ্বৃত্ত পণ্যদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করার জন্য ক্রেতা ও বিক্রেতাদের স্বীকৃত জনজমায়েতকে গ্রামীণ হাট বলে।
গ্রামীণ জীবনযাত্রায় হাটের ভূমিকা অসামান্য। বৃহত্তর অর্থে গ্রামীণ পরিসরে হাট হচ্ছে আর্থসামাজিক স্নায়ুকেন্দ্র। এ হাটের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ভোগ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় মানুষের উদ্বৃত্ত পণ্য বিক্রয় এবং চাহিদাসম্পন্ন পণ্য ক্রয় ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্রামীণ হাটের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত স্থানটি হলো ঢাকা, যা বাংলাদেশের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু।
ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। সব ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ঢাকাকে কেন্দ্র করে সম্পন্ন হয়। ঢাকায় বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল প্রভৃতি গড়ে উঠেছে। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সদরদপ্তরও ঢাকায় অবস্থিত। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টও ঢাকায় অবস্থিত।
এক কথায় বাংলাদেশের যাবতীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় কর্মকাণ্ড ঢাকাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। তাই ঢাকাকে বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু বলে।
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো ঢাকা অঞ্চল এবং 'খ' চিহ্নিত অঞ্চলটি হলো রাজশাহী অঞ্চল। এ উভয় অঞ্চলের মধ্যে জনসংখ্যা ঘনত্বের তারতম্য পরিলক্ষিত হয়।
ঢাকা হলো সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত অঞ্চল। বাংলাদেশের মূল প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু হলো ঢাকায়। এর আয়তন ৩১,১২০ বর্গ কি.মি. এবং জনসংখ্যা ৪,৯৩,২১,৬৮৮ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব। ১,৫১২ জন। মোট নগর সংখ্যা ৪০টি। ঢাকায় প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা ব্যাপক আকারে থাকায় এ অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, যাতায়াত সুবিধা সরকারি বেসরকারি অফিসের অবস্থান; বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সদর দপ্তরের অবস্থান, বড় বড় হাসপাতাল, স্কুল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি ব্যাপক আকারে থাকায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। তাই ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি।
অন্যদিকে রাজশাহী হলো বাংলাদেশের তৃতীয় জনসংখ্যা অধ্যুষিত অঞ্চল। এ অঞ্চলের আয়তন ১৮,১৯০ বর্গ কি.মি.। মোট জনসংখ্যা ১,৯২,২৫,৯০৯ জন এবং ঘনত্ব ১,০১৮ জন। এ অঞ্চলে ৮টি নগর রয়েছে। রাজশাহী অঞ্চল প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় বসবাসের অনুকূল পরিবেশ বিরাজ করলেও ঢাকার মতো এত ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা নেই। তাই প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক কিছু নিয়ামকের তারতম্যের জন্য ঢাকা ও রাজশাহীতে জনসংখ্যার ঘনত্বের তারতম্য হয়।
যে বসতিতে একটি পরিবার অন্যান্য পরিবার থেকে বহু দূরে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাস করে তাকে বিক্ষিপ্ত বসতি বলে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ হাটগুলো গড়ে ওঠার পেছনে কারণগুলো হলো স্থানীয় চাহিদার উদ্বৃত্ত চালান, দূরবর্তী পরিব্রাজক সেবা প্রদান, অনুকূল যোগাযোগ ব্যবস্থা, নদনদীর অবস্থান, চাহিদার তারতম্য প্রভৃতি l
যে অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি উর্বর, রাস্তাঘাট কাঁচাপাকা বা আধাপাকা এবং কয়েকটি অঞ্চলের সাথে সড়ক ও নদীপথে ভালো যোগাযোগব্যবস্থা থাকে সেসব অঞ্চলে হাটগুলো গড়ে উঠেছে। বেশিরভাগ হাট গড়ে উঠে বাজারসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর মধ্যে উদ্বৃত্ত পণ্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের মধ্যে তারতম্য হলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!