জমিদার তার বাগান দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে সমান করার জন্য উপেনের দুই বিঘা জমি নিতে চাইল।
'মরিবার মতো ঠাঁই' বলতে বোঝানো হয়েছে শেষ সম্বল।
'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেন একজন দরিদ্র কৃষক। জমিদারের বাগানের পাশে তার দুই বিঘা জমি রয়েছে। য়ছে। এই জমি তার পৈতৃক ভিটা। তার সাত পুরুষের জন্মস্থান। জমিদার তার বাগান দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে সমান করার জন্য উপেনের কাছ থেকে সেই জমি কিনে নিতে চায়। উপেন তখন জমিদারকে বলে যে, জমিদার তো ভূস্বামী তার ভূমির শেষ নেই কিন্তু এই দুই বিঘে জমিই তার শেষ সম্বল। তার শেষ আশ্রয়স্থল। তাই সে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
উদ্দীপকের কারখানা মালিকের মধ্যে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার জমিদারের নিষ্ঠুর আচরণ প্রকাশ পেয়েছে।
মানুষের চাহিদার শেষ নেই। অতিরিক্ত চাহিদার কারণে মানুষ অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়। অন্যের শেষ সম্বলটুকু আত্মসাৎ করতেও তখন তার বাধে না। তাদের অন্যায়, শোষণ ও নির্যাতনের কারণে সাধারণ মানুষ দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হয়।
উদ্দীপকের কারখানা মালিক একজন নিষ্ঠুর শোষক। সে তার কাছে জমা রাখা কালামের টাকার কথা অস্বীকার করে। কালাম জোর করে টাকা চাইলে সে কালামকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করে দেয়। 'দুই বিঘা জমি' কবিতার জমিদারও এমন নিষ্ঠুর আচরণ করে কৃষক উপেনের সঙ্গে। নিজের বাগান বাড়াতে সে মিথ্যা মামলা দিয়ে উপেনের সাতপুরুষের ভিটাটুকু কেড়ে নেয়। এমনকি উপেনকে গ্রামছাড়া করে। উভয়ের চরিত্রেই ফুটে উঠেছে শোষণ ও নিষ্ঠুরতা। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের কারখানা মালিকের মধ্যে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার জমিদারের নিষ্ঠুর আচরণ প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের কালামের সাথে উপেনের সাদৃশ্য থাকলেও বৈসাদৃশ্যও আছে।- মন্তব্যটি যৌক্তিক।
যুগ যুগ ধরে ধনী ব্যক্তিরা দরিদ্রদের শোষণ করে আসছে। তাদের শোষণের ফলে দরিদ্র মানুষ আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে। সবার উচিত স্বার্থান্বেষী মনোভাব ত্যাগ করে অসহায় দরিদ্রের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া।
উদ্দীপকের কালাম ও 'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেন উভয়েই শোষণের শিকার হয়েছে। উদ্দীপকের কালাম তার কারখানা মালিকের কাছে নিজের বেতনের একটা অংশ জমায়। প্রয়োজনের সময় সে চাইতে গেলে তার মালিক তা অস্বীকার করে এবং চাকরি থেকে ছাঁটাই করে। অন্যদিকে আলোচ্য কবিতার উপেন জমিদারের কাছে নিজের শেষ সম্বল দুই বিঘা জমি বিক্রয় করতে চায় না কিন্তু জমিদার মিথ্যা মামলা দিয়ে তা কেড়ে নেয় এবং তাকে গ্রামছাড়া করে। শোষিত হওয়ার দিক থেকে উভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও উভয়ের চিন্তা-চেতনাগত বৈসাদৃশ্যও আছে।
উদ্দীপকের কালামের সাথে উপেনের সাদৃশ্য হলো শোষিত হওয়ার। আর বৈসাদৃশ্য হলো চিন্তা-চেতনার। কেননা উপেনের মধ্যে জন্মভূমির প্রতি যে প্রেম প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকের কালামের চরিত্রে অনুপস্থিত। কারণ উদ্দীপকের কালাম অন্য জায়গায় সুখ খুঁজে নিতে পারলেও আলোচ্য কবিতার উপেন তার পূর্বপুরুষের স্মৃতিবিজড়িত জন্মভূমিকে, দুই বিঘা জমিকে ভুলতে পারে না। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল পুরস্কার পান।
'রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙালের ধন চুরি' বলতে বোঝানো হয়েছে বিত্তবান লোকের প্রচুর সম্পদ থাকার পরও তারা দরিদ্রের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নেয়।
ধনী ব্যক্তিরা কখনো অল্পে তৃপ্ত হয় না। আরও সম্পদের লোভে তারা সবকিছু করতে পারে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতা জমিদার উপেনের সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত জমির দখল নিতে চায়। কিন্তু উপেন দিতে না চাইলে জমিদার তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে সে জমি দখল করে নেয়। অর্থাৎ যার অনেক আছে সে আরও চায়। উপর্যুক্ত উদ্ধৃতির মধ্য দিয়ে এ কথাই বোঝানো হয়েছে।
ক' হাউজিং সোসাইটির কার্যক্রমে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার বাবু সাহেব চরিত্রের শোষক মানসিকতার দিকটি ফুটে উঠেছে।
আমাদের সমাজে সবলেরা সব সময় দুর্বলের উপর অত্যাচার করে। এটাই যেন সমাজের নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্বলদের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখে, এ অত্যাচারের প্রতিবাদ করতে পারে না।
উদ্দীপকে মতিন মিয়ার ছোট্ট একটা চায়ের দোকানের পাশেই গড়ে উঠেছে 'ক' হাউজিং সোসাইটির বিশালাকার অ্যাপার্টমেন্ট। একদিন সকালে মতিন দেখতে পায়, তার দোকান অ্যাপার্টমেন্টের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে আটকে গেছে। উপায়ান্তর না দেখে রাস্তায় রাস্তায় ফ্লাস্কে করে চা বিক্রির মাধ্যমে সে সংসার চালায় আর উদাস দৃষ্টিতে অ্যাপার্টমেন্টের দিকে তাকিয়ে বেদনার নিশ্বাস ছাড়ে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতায়ও মিথ্যে মামলা দিয়ে জমিদার বাবু উপেনের জমি দখল করে নেয়। ভিটেছাড়া উপেন বাধ্য হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়ায় সাধুর শিষ্য হয়ে। উভয় জায়গায় দরিদ্রের ওপর শোষকের অত্যাচার প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায় যে, 'ক' হাউজিং সোসাইটির কার্যক্রমে 'দুই বিঘা জমি' কবিতার বাবু সাহেব চরিত্রের শোষক মানসিকতার দিকটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
উদ্দীপকের মতিন 'দুই বিঘা জমির' শোষিত উপেনের সার্থক প্রতিনিধি, কারণ তারা দুজনই শোষিত।
দরিদ্র অসহায় লোকেরা সামান্য কিছু পেলেই খুশি হয়, আর বিত্তশালী ভূস্বামীরা যে সম্পদ আছে তার পরিমাণ আরও বৃদ্ধি করতে চায়। এমনকি গরিবের শেষ সম্বলটুকু কেড়ে নিতেও তারা দ্বিধা করে না।
উদ্দীপকের মতিনের ছোট্ট চায়ের দোকানের পাশেই গড়ে উঠেছে 'ক' হাউজিং সোসাইটির বিশালাকার অ্যাপার্টমেন্ট। একদিন সকালে সে দেখে, তার দোকানটি অ্যাপার্টমেন্টের সীমানা প্রাচীরের মধ্যে আটকে গেছে। মতিন বুঝতে পারে যে, তার পক্ষে আর কিছুই করার নেই। তার এত দিনের সম্বল হাতছাড়া হয়। এ শোষণের পরিণতিতে সে ফ্লাস্কে করে চা নিয়ে রাস্তায় নামে। 'দুই বিঘা জমি' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে শোষক ও শোষিতের কথা। সমাজে একশ্রেণির লুটেরা বিত্তবান প্রবল প্রতাপ নিয়ে বাস করে। সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করে তারা সম্পদশালী হয়। কবিতার দরিদ্র কৃষক উপেন ঋণের দায়ে সব হারিয়েছে, বাকি আছে মাত্র দুই বিঘা জমি। অথচ জমিদার তার বাগান বাড়ানোর জন্য সেই জমিরও দখল নিতে চায়। সাত পুরুষের স্মৃতিবিজড়িত সেই জমি উপেন দিতে না চাইলে জমিদার মিথ্যে মামলা দিয়ে ঐ জমি দখল করে নেয়। উদ্দীপকের মতিন ও 'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেন দুজনেই শোষকদের হাতে শেষ সম্বল হারিয়ে পথে নামতে বাধ্য হয়। উপেন এবং মতিনের শোষিত হওয়ার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও বিষয় অভিন্ন। কাজেই একথা নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, উদ্দীপকের মতিন 'দুই বিঘা জমি' কবিতার শোষিত উপেনের সার্থক প্রতিনিধি।
'দুই বিঘা জমি' কবিতাটি পাঠের উদ্দেশ্য- শিক্ষার্থীদের শোষকশ্রেণির নিষ্ঠুর শোষণ ও গরিবদের দুর্দশা সম্পর্কে জানানো।
'চেয়ে দেখো মোর আছে বড়ো-জোর মরিবার মতো ঠাঁই' বলতে দুই বিঘা জমিই যে উপেনের শেষ সম্বল সে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
'দুই বিঘা জমি' কবিতার উপেন একজন দরিদ্র কৃষক। জমিদারের বাগানের পাশে তার দুই বিঘা জমি রয়েছে। এই জমি তার পৈতৃক ভিটা। তার সাত পুরুষের জন্মস্থান। জমিদার তার বাগান দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে সমান করার জন্য উপেনের কাছ থেকে সেই জমি কিনে নিতে চায়। উপেন তখন জমিদারকে বলে যে, জমিদার তো ভূস্বামী তার ভূমির শেষ নেই কিন্তু এই দুই বিঘে জমিই তার শেষ সম্বল। তার সাত পুরুষের বসত ভিটের ঐটুকু ভূমিই তার শেষ আশ্রয়স্থল। তাই সে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!