উদ্দীপকের চিত্রে প্রদর্শিত লালবাগ কেল্লার মতো স্থাপত্য শিল্পই এ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
মুঘল আমলে বাংলায় অসংখ্য ইমারত নির্মিত হয়, যা সে যুগের স্থাপত্য শিল্পের উৎকর্ষের পরিচয় বহন করে। বাংলায় মুঘল স্থাপত্যের বিকাশের ক্ষেত্রে শায়েস্তা খানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। লালবাগ কেল্লা তার নির্মিত একটি স্থাপত্য শিল্পের নাম। তিনি ১৬৮০ খ্রিস্টাব্দে লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কাজ শুরু করেন। তার মৃত্যুর পর ১৬৯০ খ্রিষ্টাব্দে ইব্রাহিম খানের শাসনামলে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। মুঘল আমলে নির্মিত অন্যান্য স্থাপত্যকর্মের মধ্যে রয়েছে বড় কাটরা, ছোট কাটরা, হাজিগঞ্জ দুর্গ, লালবাগের শাহি মসজিদ, হোসেনী দালান, সাতগম্বুজ মসজিদ ইত্যাদি। প্রতি বছর হাজার হাজার দর্শনার্থী এসব স্থাপত্যকর্ম পরিদর্শন করে। এর ফলে তারা তৎকালীন বাংলার শিল্প ও সাংস্কৃতিক জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা লাভ করে। পাশাপাশি এর মাধ্যমে এ দেশের মানুষ বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে বিশেষ জান লাভ করে। আজও প্রাচীন এসব স্থাপত্যকর্মের নান্দনিক সৌন্দর্য বাংলার আপামর জনসাধারণকে আকৃষ্ট করে। এসব স্থাপত্যকর্ম সারাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, যা আমাদেরকে বাংলার গৌরবময় ইতিহাসের সাথে। পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছে।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, লালবাগ কেল্লার মতো অসংখ্য স্থাপত্য শিল্প এ দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
Related Question
View Allকবীন্দ্র পরমেশ্বর মহাভারত বাংলায় অনুবাদ করেন।
বাংলার মাটিতে কৃষিজাত দ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল। বাংলার কৃষিভূমি অস্বাভাবিক উর্বর হওয়ায় এখানে ধান, গম, পাট, আদা, পিঁয়াজ, তেল, সরিষা, পান, সুপারি, রেশম, ডাল, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হতো। ফলে উদ্বৃত্ত বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা হতো। এর ফলে বাংলার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটেছিল।
রেজা সাহেবের বাড়ির খাওয়া-দাওয়ার সঙ্গে বাংলার সুলতানি আমলের মিল রয়েছে।
সুলতানি আমলে বাংলার অভিজাতরা ভোজনবিলাসী ছিলেন। তাদের খাদ্য তালিকায় ছিল মাছ, মাংস, শাক, সবজি, দুধ, দধি, ঘৃত, ক্ষীর ইত্যাদি। এছাড়াও তাদের খাদ্য তালিকায় আচারের নামও পাওয়া যায়। এসব খাবারের পাশাপাশি কাবাব, রেজালা, কোর্মা আর ঘিয়ে রান্না করা যাবতীয় মুখরোচক খাবার জায়গা করে নেয়। খাদ্য হিসেবে রুটির কথাও পাওয়া যায়। খিচুড়ি ছিল তখনকার সমাজের প্রধান খাদ্য।
উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, রেজা সাহেব গত সপ্তাহে তার মেয়ের জন্মদিনে পোলাও, কাবাব, রেজালা ও মিষ্টির আয়োজন করেন। এ খাবারগুলোর সাথে বাংলার সুলতানি আমলের খাওয়া-দাওয়ার মিল বিদ্যমান।
রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থা সুলতানি আমলের চেয়ে সমৃদ্ধ ছিল না বলে আমি মনে করি।
সুলতানি আমলে বাংলায় অনেক কৃষিপণ্য উৎপন্ন হতো। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, ধান, গম, পাট, রেশম, হলুদ, শশা, পিঁয়াজ, তুলা, আদা, জোয়ার, তিল, পান, সুপারি, আম, কাঁঠাল, কলা ইত্যাদি। ফলে উদ্বৃত্ত দ্রব্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। এছাড়াও বস্ত্রশিল্পে বাংলার অগ্রগতি ছিল সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। এখানকার নির্মিত বস্ত্রগুলো গুণ ও মানের বিচারে যথেষ্ট উন্নত ছিল বিধায় বিদেশে এগুলোর প্রচুর চাহিদা ছিল। এদেশের মসলিন কাপড়ের প্রচুর চাহিদা ছিল ইউরোপের বাজারে।
এছাড়া সুলতানি আমলে বাংলার রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, সুতি কাপড়, রেশমি বস্ত্র, চিনি, গুড়, আদা, লঙ্কা, লবণ, নানা প্রকার মসলা, আফিম, ঔষধ ইত্যাদি। বাংলায় আমদানি করা হতো স্বর্ণ, রৌপ্য ও মূল্যবান পাথর। ফলে রপ্তানি বেশি হওয়ার কারণে বাংলার অর্থনৈতিক প্রাচুর্য বজায় ছিল সুলতানি আমলে।
উদ্দীপকের রেজা সাহেবের আমদানি ও রপ্তানি দ্রব্যের পরিমাণ খুবই স্বল্প। তাই একথা বলা যায় যে, রেজা সাহেবের অর্থনৈতিক অবস্থার চেয়ে সুলতানি আমলের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও সমৃদ্ধ ছিল।
সুবাদার শায়েস্তা খান হোসেনী দালান নির্মাণ করেন।
বাংলার বহু স্থানে আজও মুঘল শাসকদের শিল্প প্রীতির নিদর্শন রয়েছে। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় বহু সংখ্যক মসজিদ, সমাধি ভবন, স্মৃতিসৌধ, মাজার, দুর্গ, স্তম্ভ ও তোরণ নির্মিত হয়েছিল। ফলে স্থাপত্য শিল্পের বিকাশের জন্য মধ্য যুগকে মুঘলদের 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!