এ রকম জীবন দশ বছর ধরে চলল।'- ব্যাখ্যা করো।. (অনুধাবন)

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

মসিয়ে ও মাদাম লোইসেলের পরিশ্রমী জীবনযাপনের বিষয়টি আলোচ্য অংশে ফুটে উঠেছে।
বান্ধবীর কাছ থেকে ধার করা হীরের হার মাদাম লোইসেল বল নাচের অনুষ্ঠানে গিয়ে হারিয়ে ফেলে। সেই হার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের অনেক অর্থ ঋণ করতে হয়। সেই অর্থ পরিশোধ করতে তারা কঠোর পরিশ্রম শুরু করে। বাসার কাজের লোক বিদায় করে দিয়ে মাদাম লোইসেল নিজেই বাসার সব কাজ করে। এমনকি, তারা বাসা পরিবর্তন করে নিচু ছাদের কামরা ভাড়া নেয়। মসিয়ে লোইসেলও সন্ধ্যাবেলা অফিসের কাজের বাইরে অতিরিক্ত কাজ করে। এভাবেই তাদের দশ বছর পার হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
6 months ago
120

অনুবাদক-পরিচিতি
পূর্ণেন্দু দস্তিদার চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট গ্রামে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দের ২০এ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একাধারে লেখক ও রাজনীতিবিদ। তাঁর পিতা চন্দ্রকুমার দস্তিদার ও মাতা কুমুদিনী দস্তিদার। তিনি মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহে অংশ নেওয়ায় কারাবরণ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন আইনজীবী; সমাজভাবুক লেখক হিসেবেও খ্যাতি ছিল তাঁর। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : ‘কবিয়াল রমেশ শীল’, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম’, ‘বীরকন্যা প্রীতিলতা’। এছাড়াও তাঁর অনুবাদ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘শেখভের গল্প' ও ‘মোপাসাঁর গল্প'। তিনি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই মে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ভারতে যাওয়ার পথে মৃত্যুবরণ করেন।

সে ছিল চমৎকার এক সুন্দরী তরুণী। নিয়তির ভুলেই যেন এক কেরানির পরিবারে তার জন্ম হয়েছে। তার ছিল না কোনো আনন্দ, কোনো আশা। পরিচিত হবার, প্রশংসা পাওয়ার, প্রেমলাভ করার এবং কোনো ধনী অথবা বিশিষ্ট লোকের সঙ্গে বিবাহিত হওয়ার কোনো উপায় তার ছিল না। তাই শিক্ষা পরিষদ আপিসের সামান্য এক কেরানির সঙ্গে বিবাহ সে স্বীকার করে নিয়েছিল ।
নিজেকে সজ্জিত করার অক্ষমতার জন্য সে সাধারণভাবেই থাকত। কিন্তু তার শ্রেণির অন্যতম হিসেবে সে ছিল অসুখী । তাদের কোনো জাতিবর্ণ নেই । কারণ জন্মের পরে পরিবার থেকেই তারা শ্রী, সৌন্দর্য ও মাধুর্য সম্পর্কে সজাগ হয়ে ওঠে। সহজাত চাতুর্য, প্রকৃতিগত সুরুচি আর বুদ্ধির নমনীয়তাই হলো তাদের আভিজাত্য, যার ফলে অনেক সাধারণ পরিবারের মেয়েকেও বিশিষ্ট মহিলার সমকক্ষ করে তোলে।
সর্বদা তার মনে দুঃখ। তার ধারণা, যত সব সুরুচিপূর্ণ ও বিলাসিতার বস্তু আছে, সেগুলির জন্যই তার জন্ম হয়েছে। তার বাসকক্ষের দারিদ্র্য, হতশ্রী দেওয়াল, জীর্ণ চেয়ার এবং বিবর্ণ জিনিসপত্রের জন্য সে ব্যথিত হতো। তার মতো অবস্থার অন্য কোনো মেয়ে এসব জিনিস যদিও লক্ষ করত না, সে এতে দুঃখিত ও ক্রুদ্ধ হতো। যে খর্বকায় ব্রেটন এই সাধারণ ঘরটি তৈরি করেছিল তাকে দেখলেই তার মনে বেদনাভরা দুঃখ আর বেপরোয়া সব স্বপ্ন জেগে উঠত। সে ভাবত তার থাকবে প্রাচ্য-চিত্র-শোভিত, উচ্চ ব্রোঞ্জ-এর আলোকমণ্ডিত পার্শ্বকক্ষ। আর থাকবে দুজন বেশ মোটাসোটা গৃহ-ভৃত্য। তারা খাটো পায়জামা পরে যেই বড় আরামকেদারা দুটি গরম করার যন্ত্র থেকে বিক্ষিপ্ত ভারি হাওয়ায় নিদ্রালু হয়ে উঠেছে, তাতে শুয়ে ঘুমিয়ে থাকবে। সে কামনা করে একটি বৈঠকখানা, পুরানো রেশমি পর্দা সেখানে ঝুলবে। থাকবে তাতে বিভিন্ন চমৎকার আসবাব, যার ওপর শোভা পাবে অমূল্য সব প্রাচীন কৌতূহল-উদ্দীপক সামগ্রী। যেসব পরিচিত ও আকাঙ্ক্ষিত পুরুষ সব মেয়েদের কাম্য, সেসব অন্তরঙ্গ বন্ধুদের সঙ্গে বিকাল পাঁচটায় গল্পগুজব করবার জন্য ছোট সুরভিত একটি কক্ষ সেখানে থাকবে ।
তিনদিন ধরে ব্যবহৃত একখানা টেবিলক্লথ ঢাকা গোল একটি টেবিলে তার স্বামীর বিপরীত দিকে সে যখন সান্ধ্যভোজে বসে এবং খুশির আমেজে তার স্বামী বড় সুরুয়ার পাত্রটির ঢাকনা তুলতে তুলতে বলে : 'ও! কি ভালো মানুষ! এর চেয়ে ভালো কিছু আমি চাই না—' তখন তার মনে পড়বে আড়ম্বরপূর্ণ সান্ধ্যভোজের কথা, উজ্জ্বল রৌপ্যপাত্রাদি, মায়াময় বনভূমির মধ্যে প্রাচীন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিরল পাখির চিত্রশোভিত কারুকার্যপূর্ণ পর্দা দিয়ে ঢাকা দেওয়াল-এর কামনা। সে ভাবে, অপরূপ পাত্রে পরিবেশিত হবে অপূর্ব খাদ্য আর গোলাপি রং-এর রোহিত মাছের টুকরা অথবা মুরগির পাখনা খেতে খেতে মুখে সিংহ-মানবীর হাসি নিয়ে কান পেতে শুনবে চুপি-চুপি-বলা প্রণয়লীলার কাহিনি।
তার কাছে ফ্রক বা জড়োয়া গহনা নেই-নেই বলতে কিছু নেই। অথচ ঐ সব বস্তুই তার প্রিয় । তার ধারণা ঐসবের জন্যই তার সৃষ্টি। সুখী করার, কাম্য হওয়ার, চালাক ও প্রণয়যাচিকা হবার কতই না তার ইচ্ছা । তার ‘কনভেন্ট’-এর সহপাঠিনী এক ধনী বান্ধবী ছিল। তার সঙ্গে দেখা করতে তার ভালো লাগত না। কারণ দেখা করে ফিরে এসে তার খুব কষ্ট লাগত। বিরক্তি, দুঃখ, হতাশা ও নৈরাশ্যে সমস্ত দিন ধরে সে কাঁদত। এক সন্ধ্যায় হাতে একটি বড় খাম নিয়ে বেশ উল্লসিত হয়ে তার স্বামী ঘরে ফিরল।
সে বলল, ‘এই যে, তোমার জন্য এক জিনিস এনেছি।' মেয়েটি তাড়াতাড়ি খামটি ছিঁড়ে তার ভিতর থেকে একখানা ছাপানো কার্ড বের করল। তাতে নিচের কথাগুলি মুদ্রিত ছিল :
‘জনশিক্ষা মন্ত্রী ও মাদাম জর্জ রেমপন্ন আগামী ১৮ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় তাঁহাদের নিজ বাসগৃহে মসিয়ে ও মাদাম লোইসেলের উপস্থিতি কামনা করেন।'
তার স্বামী যেমন আশা করেছিল তেমনভাবে খুশি হওয়ার পরিবর্তে মেয়েটি বিদ্বেষের ভাব নিয়ে আমন্ত্রণ-লিপিখানা টেবিলের উপর নিক্ষেপ করে, বিড় বিড় করে বলে : ‘ওখানা নিয়ে তুমি আমায় কী করতে বল?'
‘কিন্তু লক্ষ্মীটি, আমি ভেবেছিলাম, এতে তুমি খুশি হবে। তুমি বাইরে কখনও যাও না, তাই এই এক সুযোগ, চমৎকার এক সুযোগ! দেওয়া
এটা জোগাড় করতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। সবাই একখানা চায়, কিন্তু খুব বেছে বেছে হচ্ছে। কর্মচারীদের বেশি দেওয়া হয়নি। সেখানে তুমি গোটা সরকারি মহলকে দেখতে পাবে।'
বিরক্তির দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে মেয়েটি অধীরভাবে বলে উঠল : ‘ঐ ঘটনার মতো একটি ব্যাপার কী পরে আমি যাব বলে তুমি মনে কর?'
সে ঐ সম্পর্কে কিছু ভাবেনি। তাই সে বিব্রতভাবে বলে :
‘কেন আমরা থিয়েটারে যাবার সময় তুমি যেই পোশাকটা পর সেটা পরবে । ওটা আমার কাছে খুব সুন্দর লাগে—' তার স্ত্রীকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখে সে আতঙ্কে নির্বাক ও হতবুদ্ধি হয়ে গেল। তার চোখের পাশ থেকে বড় বড় দুফোঁটা অশ্রু তার গালের উপর গড়িয়ে পড়ল। সে থতমতভাবে বলল :
‘কী হলো? কী হলো তোমার?”
প্রবল চেষ্টায় মেয়েটি নিজের বিরক্তি দমন করে, তার সিক্ত গণ্ড মুছে ফেলে শান্ত কণ্ঠে জবাব দেয় :
‘কিছুই না। শুধু আমার কোনো পোশাক নেই বলে আমি ঐ ব্যাপারে যেতে পারব না। তোমার যে কোনো সহকর্মীর স্ত্রীর পোশাক আমার চেয়ে যদি ভালো থাকে, কার্ডখানা নিয়ে তাকে দাও।'
সে মনে মনে দুঃখ পায়। তারপর সে জবাব দেয় : ‘মাতিলদা, বেশ তো চল আলাপ করি আমরা । এমন কোনো পোশাক, অন্য কোনো উপলক্ষেও যা দিয়ে কাজ চলবে অথচ বেশ সাদাসিধা, তার দাম কত আর হবে?'
কয়েক সেকেন্ড মেয়েটি চিন্তা করে দেখে এমন একটি সংখ্যার বিষয় স্থির করল যা চেয়ে বসলে হিসাবি
কেরানির কাছ থেকে সঙ্গে সঙ্গে এক আতঙ্কিত প্রত্যাখ্যান যেন না আসে ।
শেষপর্যন্ত ইতস্তত করে মেয়েটি বলল :
‘আমি ঠিক বলতে পারছি না, তবে আমার মনে হয় চারশ ফ্রাঁ হলে তা কেনা যাবে।’ শুনে তার মুখ ম্লান হয়ে গেল। কারণ, তার যেসব বন্ধু গত রবিবারে নানতিয়ারের সমভূমিতে ভরতপাখি শিকারে গিয়েছিল, আগামী গ্রীষ্মে তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ইচ্ছায় একটি বন্দুক কিনবার জন্য ঠিক ততটা অর্থই সে সঞ্চয় করেছিল। তা সত্ত্বেও জবাব দিল :
‘বেশ ত। আমি তোমায় চারশত ফ্রাঁ দেব। কিন্তু বেশ সুন্দর একটি পোশাক কিনে নিও।' ‘বল’-নাচের দিন যতই এগিয়ে আসতে থাকে ততই মাদাম লোইসেলকে বিচলিত ও উদ্বিগ্ন মনে হয়। অবশ্য তার পোশাক প্রায় তৈরি হয়ে এসেছে। একদিন সন্ধ্যায় তার স্বামী তাকে বলল :
‘তোমার হয়েছে কী? গত দুই-তিন দিন ধরে তোমার কাজকর্ম কেমন যেন অদ্ভুত ঠেকছে।'
শুনে মেয়েটি জবাব দেয়, ‘আমার কোনো মণিমুক্তা, একটি দামি পাথর কিছুই নেই যা দিয়ে আমি নিজেকে সাজাতে
পারি। আমায় দেখলে কেমন গরিব গরিব মনে হবে। তাই এই অনুষ্ঠানে আমার না যাওয়াই ভালো হবে।'
স্বামী বলল, ‘কিছু সত্যকার ফুল দিয়ে তুমি সাজতে পার। এই ঋতুতে তাতে বেশ সুরুচিপূর্ণ দেখায় । দশ ফ্রাঁ দিলে তুমি দুটি কি তিনটি অত্যন্ত চমৎকার গোলাপফুল পাবে।’ মেয়েটি ঐ কথায় আশ্বস্ত হলো না। সে জবাবে বলল, 'না, ধনী মেয়েদের মাঝখানে পোশাকে-পরিচ্ছদে ঐ
রকম খেলো দেখানোর মতো আর বেশি কিছু অপমানজনক নেই।'
তখন তার স্বামী চেঁচিয়ে উঠল : ‘আচ্ছা, কী বোকা দেখত আমরা! যাও, তোমার বান্ধবী মাদার ফোরসটিয়ারের সঙ্গে দেখা করে তাকে বল তার জড়োয়া গহনা যেন তোমায় ধার দেয়। এটুকু আদায় করার তো তার সঙ্গে তোমার পরিচয় যথেষ্ট।'
সে আনন্দধ্বনি করে উঠল। তারপর সে বলল : ‘সত্যিই তো! এটা আমি ভাবিনি।'
পরদিন সে তার বান্ধবীর বাড়িতে গিয়ে তার দুঃখের কাহিনি তাকে বলল। মাদাম ফোরসটিয়ার তার কাচের দরজা লাগানো গোপনকক্ষে গিয়ে বড় একটি জড়োয়া গহনার বাক্স বের করে এনে তা খুলে বলল : ‘ভাই, যা ইচ্ছা এখান থেকে নাও।'
সে প্রথমে দেখল কয়েকটি কঙ্কন, তারপর একটি মুক্তার মালা ও মণিমুক্তা খচিত চমৎকার কারুকার্য-ভরা একটি সোনার ভিনিশার ‘ক্রুশ'। আয়নার সামনে গিয়ে সে জড়োয়া গহনাগুলি পরে পরে দেখে আর ইতস্তত করে, কিন্তু ওগুলি নেওয়ার সিদ্ধান্তও করতে ছেড়ে যেতেও পারে না। তারপর সে জিজ্ঞাসা করে :
‘আর কিছু তোমার নেই?
‘কেন? আছে, তোমার যা পছন্দ তুমি তা বেছে নাও।'
হঠাৎ সে কালো স্যাটিনের একটি বাক্সে দেখল অপরূপ একখানা হীরার হার। অদম্য কামনায় তার বুক দুর দুর করে। সেটা তুলে নিতে গিয়ে তার হাত কাঁপে। সে তার পোশাকের উপর দিয়ে সেটা গলায় তুলে নেয় এবং সেগুলো দেখে আনন্দে বিহ্বল হয়ে যায়। তারপর উদ্বেগভরা, ইতস্ততভাবে সে জিজ্ঞাসা করল : “তুমি ঐখানা আমায় ধার দেবে? শুধু এটা?”
‘কেন দেব না? নিশ্চয়ই দেব।'
সে সবেগে তার বান্ধবীর গলা জড়িয়ে ধরে, পরম আবেগে তাকে বুকে চেপে ধরে। তারপর তার সম্পদ নিয়ে সে চলে আসে।
‘বল' নাচের দিন এসে গেল। মাদাম লোইসেলের জয়জয়কার। সে ছিল সবচেয়ে সুন্দরী, সুরুচিময়ী, সুদর্শনা, হাস্যময়ী ও আনন্দপূর্ণ। সব পুরুষ তাকে লক্ষ করছিল, তার নাম জিজ্ঞাসা করে তার সঙ্গে আলাপের আগ্রহ প্রকাশ করছিল । মন্ত্রিসভার সব সদস্যের তার সঙ্গে ‘ওয়ালটজ’ নৃত্য করতে ইচ্ছা হচ্ছিল। স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী তার দিকে দৃষ্টি দিচ্ছিলেন।
আনন্দে মত্ত হয়ে আবেগ ও উৎসাহ নিয়ে সে নৃত্য করছিল। তার রূপের বিজয়গর্বে, সাফল্যের গৌরবে সে আর কিছুই ভাবে না । এক আনন্দের মেঘের ওপর দিয়ে যেন ভেসে আসছিল এই সব আহুতি ও মুগ্ধতা আর জাগ্রত সব কামনা । যে কোনো মেয়ের অন্তরে এই পরিপূর্ণ বিজয় কত মধুর!
ভোর চারটার দিকে সে বাড়ি ফিরে গেল। অন্য সেই তিনজন ভদ্রলোকের স্ত্রী খুব বেশি ফুর্তিতে মত্ত ছিল, তাদের সঙ্গে তার স্বামী ছোট একটি বিশ্রামকক্ষে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত আধঘুমে বসেছিল।
বাড়ি ফিরবার পথে গায়ে জড়াবার জন্য তারা যে আটপৌরে সাধারণ চাদর নিয়ে এসেছিল সে তার কাঁধের ওপর
সেটি ছড়িয়ে দেয়। ‘বল' নাচের পোশাকে অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে ঐটির দারিদ্র্য সুপরিস্ফুট হয়ে উঠছিল।
মেয়েটি তা অনুভব করতে পারে তাই অন্য যেসব ধনী মেয়ে দামি পশমি চাদর দিয়ে গা ঢেকেছিল তাদের চোখে
না পড়বার জন্য সে তাড়াতাড়ি এগিয়ে যেতে লাগল ।
লোইসেল তাকে টেনে ধরে বলল : ‘থামো, তোমার ঠাণ্ডা লেগে যাবে ওখানে। আমি একখানা গাড়ি ডেকে আনি।’ কিন্তু মেয়েটি কোনো কথায় কান না দিয়ে তাড়াতাড়ি সিঁড়ি বেয়ে নামতে থাকে। রাস্তায় যখন তারা পৌঁছে গেল, সেখানে কোনো গাড়ি পাওয়া গেল না। তারা গাড়ির খোঁজ করতে করতে দূরে কোনো একখানাকে দেখে তার গাড়োয়ানকে ডাকতে থাকে ।
হতাশ হয়ে কাঁপতে কাঁপতে তারা সিন নদীর দিকে হাঁটতে থাকে। শেষ পর্যন্ত যে পুরাতন একখানা তারা পায়, তাহলো সেই নিশাচর দুই-যাত্রীর গাড়ি যা প্যারিতে সন্ধ্যার পর লোকের চোখে পড়ে, তার একখানা, যেইদিনে এইগুলি নিজের দুর্দশা দেখাতে লজ্জা পায়।
ঐ খানি তাদের মার্টার স্ট্রিটে ঘরের দরজা পর্যন্ত নিয়ে গেল । তারা ক্লান্তভাবে তাদের কক্ষে গেল । মেয়েটির সব কাজ শেষ। কিন্তু স্বামীর ব্যাপারে, তার মনে পড়ল যে দশটায় তাকে আপিসে গিয়ে পৌঁছাতে হবে। নিজেকে গৌরবমণ্ডিত রূপে শেষ একবার দেখার জন্য সে আয়নার সামনে গিয়ে তার গলার চাদরখানা খোলে ।
হঠাৎ সে আর্তনাদ করে উঠল। তার হারখানা গলায় জড়ানো নেই।
তার স্বামীর পোশাক তখন অর্ধেক মাত্র খোলা হয়েছে। সে জিজ্ঞাসা করল : 'কী হয়েছে?' উত্তেজিতভাবে মেয়েটি তার দিকে ফিরে বলল :
‘আমার–আমার কাছে—মাদাম ফোরস্টিয়ারের হারখানা নেই।'
আতঙ্কিতভাবে সে উঠে দাঁড়াল : ‘কী বললে! তা কী করে হবে? এটা সম্ভব নয়।' পোশাকের ও বহির্বাসের ভাঁজের মধ্যে, পকেটে, সব জায়গায় তারা খোঁজ করে। কিন্তু তা পাওয়া গেল না ।
স্বামী জিজ্ঞাসা করল : ‘ঐ বাড়ি থেকে চলে আসবার সময় তা যে তোমার গলায় ছিল, তোমার ঠিক মনে আছে?'
‘হ্যাঁ, আমরা যখন বিশ্রামকক্ষ দিয়ে বেরিয়ে আসছিলাম, তখনও তা ছিল আমার খেয়াল আছে।'
“কিন্তু তুমি যদি ওটা রাস্তায় হারাতে, ওটা পড়বার শব্দ আমাদের শোনা উচিত ছিল। গাড়ির মধ্যেই নিশ্চয়ই পড়েছে মনে হয়।'
‘হ্যাঁ, সম্ভবত তাই। তুমি গাড়ির নম্বরটি টুকে নিয়েছিলে?'
‘না। আর তুমি কি তা লক্ষ করেছিলে?'
'না।’
হতাশভাবে তারা একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত লোইসেল আবার পোশাক পরে নিল।
সে বলল, ‘আমি যাচ্ছি। দেখি যতটা রাস্তা আমরা হেঁটেছিলাম, সেখানে খুঁজে পাওয়া যায় কিনা।' তারপর সে গেল। মেয়েটি তার সান্ধ্য গাউন পরেই রয়ে গেল। বিছানায় শুতে যাবার শক্তি তার নেই । কোনো উচ্চাশা বা ভাবনা ছাড়াই সে একখানা চেয়ারে গা এলিয়ে পড়ে রইল । সকাল সাতটার দিকে তার স্বামী ফিরে এল। কিছুই সে খুঁজে পায়নি।
সে পুলিশের কাছে ও গাড়ির আপিসে গিয়েছিল এবং পুরস্কার ঘোষণা করে একটা বিজ্ঞাপনও দিয়ে এসেছে। সে যথাসাধ্য করে এসেছে বলে তাদের মনে কিছুটা আশা হলো ।
ঐ ভয়ানক বিপর্যয়ে মেয়েটি সারাদিন এক বিভ্রান্ত অবস্থায় কাটাল। সন্ধ্যাবেলা যখন লোইসেল ফিরে এল তখন তার মুখে যন্ত্রণার মলিন ছাপ, কিছুই সে খুঁজে পায়নি।
সে বলল, ‘তোমার বান্ধবীকে লিখে দিতে হবে যে হারখানার আংটা তুমি ভেঙে ফেলেছ, তাই তা তুমি মেরামত
করতে দিয়েছ। তাতে আমরা ভেবে দেখবার সময় পাব।'
তার নির্দেশমত মেয়েটি লিখে দিল ।
এক সপ্তাহ শেষ হওয়ায় তারা সব আশা ত্যাগ করল। বয়সে পাঁচ বছরের বড় লোইসেল ঘোষণা করল :
‘ঐ জড়োয়া গহনা ফেরত দেবার ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।' পরদিন যেই বাক্সে ওটা ছিল, তার ভিতরে যেই স্বর্ণকারের নাম ছিল, তার কাছে তারা সেটা নিয়ে গেল। সে তার খাতাপত্র ঘেঁটে বলল :
‘মাদাম, ঐ হারখানা আমি বিক্রি করিনি, আমি শুধু বাক্সটা দিয়েছিলাম।'
তারপর তারা সেই হারটির মত হার খোঁজ করার জন্য, তাদের স্মৃতির উপর নির্ভর করে এক স্বর্ণকার থেকে অন্য স্বর্ণকারের কাছে যেতে থাকে। দু'জনেরই শরীর বিরক্তি ও উদ্বেগে খারাপ হয়ে গেছে । প্যালেস রয়েলে তারা এমন এক হীরার কণ্ঠহার দেখল সেটা ঠিক তাদের হারানো হারের মতো । তার দাম চল্লিশ
হাজার ফ্রাঁ। ছত্রিশ হাজার ফ্রাঁতে তারা তা পেতে পারে । তিন দিন যেন ওটা বিক্রি না করে সে জন্য তারা স্বর্ণকারকে বিশেষভাবে অনুরোধ করল। তারা আরও ব্যবস্থা করল যে, যদি ফেব্রুয়ারি মাস শেষ হওয়ার আগে ঐ হারটি খুঁজে পাওয়া যায়, তারা এটা ফেরত দিলে চৌত্রিশ হাজার ফ্রাঁ ফেরত নিতে পারবে।
লোইসেলের কাছে তার বাবার মৃত্যুর পরে প্রাপ্ত আঠারো হাজার ফ্রাঁ ছিল। বাকিটা সে ধার করল। মাদাম লোইসেল যখন জড়োয়া গহনা মাদাম ফোরস্টিয়ারকে ফেরত দিতে গেল তখন শেষোক্ত মেয়েটি নির্জীবকণ্ঠে বলল :
‘ওটা আরও আগে তোমায় ফেরত দেওয়া উচিত ছিল; কারণ, তা আমারও দরকার হতে পারত।' তার বান্ধবী সেই ভয় করেছিল, তেমনভাবে সে গহনার বাক্সটি খুলল না। যদি বদলে দেওয়া হয়েছে সে টের পেত, সে কী মনে করত? সে কী বলত? সে কি তাকে অপহারক ভাবত ? এবার মাদাম লোইসেল দারিদ্র্যের জীবনের ভয়াবহতা বুঝতে পারে। সে তার নিজের কাজ সম্পূর্ণ সাহসের সঙ্গেই করে যায় । ঐ দুঃখজনক দেনা শোধ করা প্রয়োজন । সে তা দেবে। দাসীকে তারা বিদায় করে দিল । তারা তাদের বাসা পরিবর্তন করল। নিচু ছাদের কয়েকটি কামরা তারা ভাড়া করল ।
ঘরকন্নার কঠিন সব কাজ ও রান্নাঘরের বিরক্তিকর কাজকর্ম সে শিখে নিল। তার গোলাপি নখ দিয়ে সে বাসন ধোয়, তৈলাক্ত পাত্র ও ঝোল রাঁধার কড়াই মাজে। ময়লা কাপড়-চোপড়, শেমিজ, বাসন মোছার গামছা সে পরিষ্কার করে দড়িতে শুকাতে দেয়। রোজ সকালে সে আবর্জনা নিয়ে রাস্তায় ফেলে। সিঁড়ির প্রত্যেক ধাপে শ্বাস নেবার জন্য থেমে থেমে সে জল তোলে। সাধারণ পরিবারের মেয়ের মতো পোশাক পরে সে হাতে ঝুড়ি নিয়ে মুদি, কসাই ও ফলের দোকানে যায় এবং তার দুঃখের পয়সার একটির জন্য পর্যন্ত দর কষাকষি করে। প্রত্যেক মাসেই সময় চেয়ে কিছু দলিল বদল করতে হয়, কাউকে কিছু শোধ দিতে হয়।
তার স্বামীও সন্ধ্যাবেলা কাজ করে। সে কয়েকজন ব্যবসায়ীর হিসাবের খাতা ঠিক করে। রাত্রে এক পাতা পাঁচ ‘সাও' হিসেবে সে প্রায়ই লেখা নকল করে ।
এরকম জীবন দশ বছর ধরে চলল।
দশ বছরের শেষে তারা সব কিছু মহাজনের সুদসহ প্রাপ্য নিয়ে সব ক্ষতিপূরণ করে ফেলতে পারে। তাছাড়া কিছু তাদের সঞ্চয়ও হলো ।
মাদাম লোইসেলকে দেখলে এখন বয়স্কা বলে মনে হয়। সে এখন গরিব গৃহস্থঘরের শক্ত, কর্মঠ ও অমার্জিত মেয়ের মতো হয়ে গেছে। তার চুল অবিন্যস্ত, ঘাঘরা একপাশে মোচড়ানো, হাতগুলো লাল । সে চড়াগলায় কথা বলে এবং বড় বড় কলসিতে জল এনে মেঝে ধোয়। কিন্তু কখনও, তার স্বামী যখন আপিসে থাকে, জানালার ধারে বসে বিগত দিনের সেই সান্ধ্য অনুষ্ঠান ও সেই ‘বল’ নাচে তাকে এত সুন্দর দেখাচ্ছিল ও এমন অতিরিক্ত প্রশংসা পেয়েছিল, তার কথা সে ভাবে ।
যদি সে গলার সেই হারখানা না হারাত তাহলে কেমন হতো? কে জানে কে বলতে পারে? কী অনন্যসাধারণ এই
জীবন আর তার মধ্যে কত বৈচিত্র্য! সামান্য একটি বস্তুতে কী করে একজন ধ্বংস হয়ে যেতে আবার বাঁচতেও পারে! এক রবিবারে সারা সপ্তাহের নানা দুশ্চিন্তা মন থেকে দূর করার জন্য সে যখন চামপস্-এলিসিস-এ ঘুরে বেড়াচ্ছিল, হঠাৎ একটি শিশু নিয়ে ভ্রমণরতা একজন মেয়ে তার চোখে পড়ল। সে হলো মাদাম ফোরস্টিয়ার। সে এখনও যুবতী, সুন্দরী ও আকর্ষণীয়া। দেখে মাদাম লোইসেলের মন খারাপ হয়ে গেল । সে কি ঐ মেয়েটির সঙ্গে কথা বলবে? হ্যাঁ, অবশ্যই বলবে। তাকে যখন সব শোধ করা হয়েছে তখন সব কিছু খুলে সে বলবে। কেন বলবে না?
সে মেয়েটির কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল : ‘সুপ্রভাত, জেনি।’
তার বন্ধু তাকে চিনতে পারল না। এক সাধারণ মানুষ তাকে এমন অন্তরঙ্গভাবে সম্বোধন করায় সে অবাক হলো। সে বিব্রতভাবে বলল : ‘কিন্তু মাদাম-আপনাকে তো চিনলাম না-বোধহয় আপনার ভুল হয়েছে—' 'না, আমি মাতিলদা লোইসেল ।'
তার বান্ধবী বিস্ময়ে চেঁচিয়ে উঠে বলল : ‘হায়, আমার বেচারী মাতিলদা! এমনভাবে কী করে তুমি বদলে গেলে— ‘হ্যাঁ, তোমার সঙ্গে দেখা হবার পর থেকে আমার দুর্দিন যাচ্ছে—বেশ কিছু দুঃখের দিন গেছে—আর সেটা হয়েছে শুধু তোমার জন্য-
‘আমার জন্য? তা কী করে হলো?”
‘সেই যে কমিশনারের ‘বল' নাচের দিন তুমি আমাকে তোমার হীরার হার পরতে দিয়েছিলে, মনে পড়ে?
‘হ্যাঁ, বেশ মনে আছে।'
‘কথা হচ্ছে, সেখানা আমি হারিয়ে ফেলেছিলাম।' ‘কী বলছ তুমি? কী করে তা আমায় তুমি ফেরত দিয়েছিলে?”
“ঠিক সেখানার মতো একটি তোমাকে আমি ফেরত দিয়েছিলাম। তার দাম দিতে দশ বছর লেগেছে। তুমি বুঝতেই পার, আমাদের মতো লোক যাদের কিছুই ছিল না, তাদের পক্ষে তা সহজ ছিল না। কিন্তু তা শেষ হয়েছে এবং সেজন্য আমি এখন ভালোভাবেই নিশ্চিন্ত হয়েছি।'
মাদাম ফোরস্টিয়ার তাকে কথার মাঝপথে থামিয়ে বলল : ‘তুমি বলছ যে, আমারটা ফিরিয়ে দেবার জন্য তুমি একখানা হীরার হার কিনেছিলে?”
‘হ্যাঁ। তা তুমি খেয়াল করনি? ঐ দুটি এক রকম ছিল।' বলে সে গর্বের ভাবে ও সরল আনন্দে একটু হাসল। দেখে মাদাম ফোরস্টিয়ার-এর মনে খুব লাগল । সে তার দুটি হাত নিজের হাতের মধ্যে নিয়ে বলল :
‘হায়, আমার বেচারী মাতিলদা! আমারটি ছিল নকল। তার দাম পাঁচশত ফ্রাঁর বেশি হবে না ।'

Related Question

View All
উত্তরঃ

লোইসেল (মাদাম লোইসেল) সর্বদা দুঃখের ছায়ায় নিমজ্জিত থাকত কারণ সে তার জন্মগত সাধারণ জীবনকে মেনে নিতে পারত না। তার মনে সব সময় একটি উচ্চাভিলাষ ছিল যে সে ধনী এবং বিলাসবহুল জীবনযাপন করবে। কিন্তু তার আর্থিক সঙ্গতি ছিল অত্যন্ত সীমিত। এই সীমাহীন উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বিলাসী জীবনের প্রতি মোহ তাকে কখনো সুখী হতে দেয়নি, বরং সর্বদা অতৃপ্তি ও হতাশায় ভুগিয়েছে।

‘বিবর্তন’ সংস্কৃতিকেন্দ্রে প্রধান অতিথির দেওয়া উপদেশের মতোই, লোইসেল তার সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে পারেনি। উচ্চাভিলাষ ও বিলাসিতার কারণে সে হঠাৎ করে এমন এক সিদ্ধান্ত (অন্যের হার ধার নেওয়া) নিয়েছিল যা তাকে চরম বিপদে ফেলেছিল। একটি হীরার হার হারানোর পর সে এবং তার স্বামী দশ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করে সেই হারের দাম পরিশোধ করে। এই কঠিন অভিজ্ঞতাই তার জীবনে আজীবন দুঃখের ছায়া ফেলেছিল এবং তাকে অসুখী করে তুলেছিল।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
713
উত্তরঃ

উদ্দীপকের প্রথম উপদেশটি 'নেকলেস' গল্পের মাদাম লোইসেলের উচ্চাভিলাষ, বিলাসিতা এবং এর ফলে আকস্মিক বিপদে পড়ে আজীবন দুঃখ ভোগের দিকটিকে নির্দেশ করে।

'নেকলেস' গল্পের প্রধান চরিত্র মাদাম লোইসেল একজন উচ্চাভিলাষী নারী ছিলেন। তিনি নিজের সামাজিক অবস্থান ও আর্থিক সঙ্গতির প্রতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন এবং স্বপ্ন দেখতেন এক বিলাসবহুল জীবনের। একটি অভিজাত পার্টিতে নিজেকে অন্যদের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় প্রমাণ করতে গিয়ে তিনি তার বান্ধবীর কাছ থেকে একটি হীরার নেকলেস ধার করেন। এই অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা তাকে আকস্মিক ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল।

এই নেকলেসটি হারানোর ফলে মাদাম লোইসেল ও তার স্বামীকে দশ বছর ধরে কঠিন পরিশ্রম ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাদের জীবন থেকে আনন্দ ও সুখ চিরতরে হারিয়ে যায়। এভাবেই তার উচ্চাভিলাষ ও বিলাসিতার কারণে নেওয়া একটি আকস্মিক সিদ্ধান্ত তাদের জীবনে চরম বিপদ ডেকে আনে এবং আজীবন তাদের অসুখী করে তোলে, যা উদ্দীপকের প্রথম উপদেশের সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
318
উত্তরঃ

উদ্দীপকের উপদেশ দুটো 'নেকলেস' গল্পের জীবন দর্শনকে ধারণ করেছে—এ মন্তব্যটি অত্যন্ত যৌক্তিক। গল্পে বর্ণিত মাদাম লোইসেলের জীবনই এই উপদেশের এক বাস্তব ও মর্মান্তিক প্রতিচ্ছবি, যা উচ্চাভিলাষ ও বিলাসিতার ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে।

উদ্দীপকের প্রথম উপদেশে বলা হয়েছে, উচ্চাভিলাষ ও বিলাসিতার কারণে হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো কাজ করা উচিত নয়, কারণ তা মানুষকে বিপদে ফেলে এবং আজীবন অসুখী করে তোলে। দ্বিতীয় উপদেশে সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারলে পরিণামে দুঃখ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 'নেকলেস' গল্পের প্রধান চরিত্র মাদাম লোইসেল ছিলেন প্রবল উচ্চাভিলাষী এবং বিলাসিতার আকাঙ্ক্ষায় জর্জরিত। তিনি তার সাধারণ মধ্যবিত্ত জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না এবং সবসময় কল্পনার জগতে নিজেকে অভিজাতদের সঙ্গে মিশিয়ে দেখতেন। একটি অভিজাত পার্টিতে যাওয়ার জন্য নিজেকে সজ্জিত করতে গিয়ে তিনি বন্ধুর কাছ থেকে একটি হীরার নেকলেস ধার করেন, যা তার আকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।

মাদাম লোইসেলের এই উচ্চাভিলাষ এবং সাধ্যের অতীত বিলাসিতা করার আকাঙ্ক্ষা তাকে চরম বিপদে ফেলে। পার্টিতে নেকলেসটি হারিয়ে ফেলার পর, তিনি তার সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে প্রচুর অর্থ ঋণ করে একটি একই রকম নেকলেস কেনেন। এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত এবং সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সমন্বয় করতে না পারার ফলস্বরূপ তাকে দশ বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে হয়, যা তাকে চরম দুঃখ ও দুর্দশার দিকে ঠেলে দেয়। তার সাধ ছিল অভিজাত জীবনযাপন করা, কিন্তু তার সাধ্য ছিল না; এই অসমতা তাকে আজীবন অসুখী করে তোলে।

অতএব, উদ্দীপকের উপদেশ দুটো 'নেকলেস' গল্পের জীবন দর্শনকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করেছে। গল্পটি মাদাম লোইসেলের জীবনের মাধ্যমে দেখিয়েছে যে, উচ্চাভিলাষ ও বিলাসিতার পেছনে অন্ধের মতো ছোটা এবং নিজের সাধ ও সাধ্যের মধ্যে সঠিক সমন্বয় করতে না পারা মানুষকে কীভাবে চরম দুর্ভোগ ও চিরস্থায়ী অসুখের দিকে পরিচালিত করে। মাদাম লোইসেলের ট্র্যাজিক পরিণতি এই উপদেশগুলোর গভীর যৌক্তিকতা প্রমাণ করে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
364
উত্তরঃ মাদাম লোইসেলের স্বামী জনশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন সামান্য করণিক ছিলেন।
Satt AI
Satt AI
4 days ago
956
উত্তরঃ

মাদাম লোইসেলকে দেখলে বয়স্কা বলে মনে হতো কারণ একটি নেকলেস হারানোর পর তার জীবনে নেমে আসে সীমাহীন দুঃখ, কষ্ট আর কঠোর পরিশ্রমের জীবন। এই দীর্ঘ দশ বছর ধরে কঠিন জীবনযাপনের ধকল তার চেহারায় স্পষ্ট ছাপ ফেলেছিল, যা তাকে সময়ের আগেই জরাজীর্ণ করে তুলেছিল।

'নেকলেস' গল্পের প্রধান চরিত্র মাদাম লোইসেল একটি মিথ্যা হারের কারণে ধনী জীবনের সুখ বিসর্জন দিয়ে দারিদ্র্যের যাতাকলে পিষ্ট হন। হারানো হারটির মূল্য শোধ করার জন্য তাকে তারুণ্যের সব সুখ ত্যাগ করে দশ বছর ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয়। এই অমানুষিক পরিশ্রম, দরিদ্রতা এবং মানসিক যন্ত্রণার ফলস্বরূপ তার যৌবন ফুরিয়ে যায় এবং সময়ের আগেই তাকে বয়স্কা নারীর মতো দেখায়।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
740
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews