যেখানে রাসায়নের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা গবেষণা করা হয় তাকে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।
প্রাচীন সভ্যতায় রসায়ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে খনিজ থেকে মূল্যবান ধাতু আহরণ করা হতো। রাসায়নিক প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে আরো অনেক ধাতু, যেমন- Fe, Al, Zn, Cu প্রভৃতির উৎপাদন সম্ভবপর হয়। আজ শিল্প কারখানায় ভোজ্য তৈল, চিনি, কাগজ, কলম, ঔষধপত্র, কাপড়, সাবান, রড, সিমেন্ট, রঞ্জক পদার্থ থেকে শুরু করে ব্যবহার্য অনেক সামগ্রী রসায়নের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত তিনটি ঘটনাবলিতে রসায়নের নানা ধরনের পরিবর্তন যেমন- সৃষ্টি, ধ্বংস, রূপান্তর, উৎপাদন ইত্যাদির প্রতিফলন হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে রসায়নবিদ্যার একটি যথোপযুক্ত সংজ্ঞায়ন সম্ভব। আম পেকে হলুদ বর্ণ ধারণে সৃষ্ট নতুন যৌগ, টিনের রূপান্তরে উৎপন্ন মরিচা এবং জ্বালানি কাঠের দহনে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস, পানি ও তাপের উৎপাদন রাসায়নিক বিক্রিয়ারই পরিণতি। সুতরাং বলা যায় যে, বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, সংযুক্তি, উপাদান, ধর্ম, ব্যবহার প্রভৃতি এবং এক পদার্থের সঙ্গে অপর পদার্থের ক্রিয়া-বিক্রিয়া সম্পর্কিত জ্ঞান লাভ করা যায়, তাকেই রসায়ন বিজ্ঞান বলে। তাই বলা যায় যে, আম পাকা ও কাঠ পোড়ানো উভয়ই রসায়ন বিদ্যার মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়েছে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করলে রসায়নের পরিচিতি সহজেই পরিলক্ষিত হয়।
প্রথমত, আম পেকে যাওয়া একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া। আমের মধ্যে সংঘটিত জীবরাসায়নিক প্রক্রিয়ায় নতুন যৌগের সৃষ্টি হয় বলে আম পেকে মিষ্টি হয়।
দ্বিতীয়ত, টিনের মরিচা ধরার মধ্যেও একটি নতুন রাসায়নিক যৌগের সৃষ্টি হয়েছে। টিনের প্রধান উপাদান লোহা জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে লোহার অক্সাইডে পরিণত হয়। এটি সাধারণভাবে মরিচা নামে পরিচিত।
তৃতীয়ত, কাঠ পুড়িয়ে চুলায় তাপ উৎপাদন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া। কাঠ মূলত কার্বনের যৌগ যা সেলুলোজ নামে পরিচিত। সেলুলোজের দহনে কার্বন-ডাইঅক্সাইড, পানি ও তাপের উদ্ভব ঘটে। তাই প্রদত্ত ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করে বোঝা যায় যে, এ ঘটনাবলিতে রসায়নের উপস্থিতি বিদ্যমান।
Related Question
View Allপরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কোনো কিছু জানার চেষ্টাই হলো গবেষণা।
কাঁচা অবস্থায় আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড থাকে। যেমন- অ্যাসকরবিক এসিড, সাইট্রিক, ম্যালিক, অক্সালিক এসিড। তাই কাঁচা আম খেতে টক লাগে। কিন্তু আম যখন পাকে তখন আমে বিদ্যমান এই এসিডগুলো রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে (মিষ্টি) পরিণত হয়। ফলে পাকা আম হয় মিষ্টি।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি ঔষধ সেবন করছে।
প্রতিটি ঔষধই কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়। যখন আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগ তথা ওষুধ সেবন করি। যেমন: জ্বর হলে আমরা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খাই। প্যারাসিটামল একটি রাসায়নিক যৌগ, এর রাসায়নিক নাম acetaminophen বা, 4-হাইড্রোক্সি অ্যাসিট্যানিলাইড। এটি আমাদের পাকস্থলিতে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে জ্বর থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আবার, প্রচণ্ড মাথাব্যথা করলে আমরা আইবুপ্রফেন খাই।
এ রাসায়নিক যৌগটি খাওয়ার ফলে আমাদের দেহে গিয়ে বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্পন্ন করে, ফলে মাথা ব্যথা উপশম হয়।
তাছাড়া আমরা কৃমিনাশক হিসেবে যে ওষুধ খাই, তাও রাসায়নিক যৌগ। এছাড়াও টাইফয়েড, কলেরা, যক্ষ্মা, কাশি, হাঁপানি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়াসহ যত প্রকার অসুখ আছে, তার প্রত্যেকটির প্রতিষেধক হিসেবে আমরা যে ওষুধ সেবন করি, তা কোনো না কোনো রাসায়নিক যৌগ দিয়ে তৈরি করা হয়।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের ১ম চিত্রটি অর্থাৎ ওষুধ সেবন, রসায়নের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কযুক্ত।
উদ্দীপকের ৭ নং চিত্রে ওষুধ সেবন ও B নং চিত্রে সবজিক্ষেতে কীটনাশক ছিটানোর ছবি দেখানো হয়েছে। এই দুইটি ছবি পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশক ছিটানো পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সবজিক্ষেতে পোকামাকড় মারার জন্য যে সমস্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে গ্যামাক্সিন (C6H6Cl6), ডিডিটি (D.D.T.), অ্যালড্রিন, ক্লোরডেন, ম্যালাথায়ন, প্যারাথায়ন অন্যতম। এগুলো যখন সবজি ক্ষেতে বিদ্যমান পোকা মাকড়, কীটপতঙ্গ। মারার জন্য ব্যবহার করা হয়, তখন পোকামাকড় দমনের পাশাপাশি উপকারী পোকামাকড় এবং পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।
কারণ ঐ সমস্ত কীটনাশক যখন জমিতে ছিটানো হয়, তখন সেগুলো বাতাসে মিশে বাতাসকে দূষিত করে। এই দূষিত বাতাস মানুষ প্রশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে। আবার ঐ সমস্ত কীটনাশক মিশ্রিত সবজি খেলে মানবদেহে বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা যেমন- মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, চোখ-জ্বালাপোড়া করা, পেটের পীড়া, বদহজম ইত্যাদি দেখা দেয়।
ঐ সমস্ত কীটনাশক মাটিতে মিশে মাটিকেও দূষিত করে। ফলে জমির। উর্বরতা নষ্ট হয়, জমিতে ভাল ফসল হয় না। আবার বৃষ্টি হলে ঐ সমস্ত কীটনাশক পুকুরে, নদী-নালা ও জলাশয়ের পানির সাথে মিশে, পানিকে দূষিত করে। ফলে নদী, পুকুর ও জলাশয়ের মাছ মরে যায় এবং পুকুর, নদীতে বিদ্যমান বিভিন্ন উদ্ভিদ ও শেওলাও মরে যায়।
তাই উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, সবজিক্ষেতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম এবং পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।
পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড জমা হলে পেটে তখন এসিডিটির সৃষ্টি হয়। এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি লাভের জন্য তখন এন্টাসিড খাওয়া হয়। কারণ এন্টাসিডে থাকে ক্ষারীয় অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড যা পাকস্থলীর এসিডকে প্রশমিত করে এসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!