বাংলা সাহিত্যের পাঠকপ্রিয় ঔপন্যাসিকদের তালিকায় হুমায়ূন আহমেদের নাম প্রথম সারিতে। পশ্চিমবঙ্গে যেমন শরৎচন্দ্র বাঙালি পাঠকদের পাঠ-অভ্যাস তৈরি করেছিলেন, পূর্ব বাংলায় তথা বাংলাদেশে হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২) সেই কাজটি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর উপন্যাস প্রকাশের পর বিক্রির তালিকায় থাকত সবার ওপরে। উপন্যাস, গল্প, চিত্রনাট্য ও গান রচনায় হুমায়ূন আহমেদ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর লেখার মূল বৈশিষ্ট্য প্রকৃতি ও মানবজীবনের সম্পর্ক; নগর মধ্যবিত্ত শ্রেণির দৈনন্দিন জীবনের টানাপোড়েন। তাঁর লেখালেখির একটা বিশেষ অংশ মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে রচিত। নন্দিত নরকে, জোছনা ও জননীর গল্প, ১৯৭১, শঙ্খনীল কারাগার, আগুনের পরশমণি ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা। কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, নাট্যকার হিসেবে তাঁর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। একুশ শতকের প্রথম দশক ছিল বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের কাল। তাঁর রচনাগুলোর মধ্যে অন্যতম '১৯৭১'।
Related Question
View All"হুমায়ূন আহমেদ '১৯৭১' উপন্যাসে কোনো কিছুই স্পষ্ট করেননি, প্রত্যেক ক্ষেত্রেই রেখে দিয়েছেন সম্ভাবনার বীজ।"-মন্তব্যটি যথার্থ।
'১৯৭১' উপন্যাসের কোনো দিকেই লেখক মীমাংসায় পৌঁছাননি। প্রথমত নীলু সেনের হত্যাকাণ্ডের পর তার লাশের ওপর মাছি উড়ছে। সেটি দরজার সামনে থেকে সরানো হয়নি। হবে কি-না সেটা সম্পর্কেও কোনো ইঙ্গিত নেই। দ্বিতীয়ত বদিউজ্জামান বাড়ি ফেরার সময় মিলিটারির আক্রমণের মুখে পরিত্যক্ত ডোবায় আশ্রয় নেয়। সারা দিন একটা গিরগিটি এবং বিকেলের পর একটা শিয়াল তার দিকে চেয়ে থাকে। তার ক্ষুধার্ত বাবা খাবারের জন্য আর্তনাদ করে, ঝড়ে টিনের চাল উড়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বদিউজ্জামান কি বাড়ি ফিরতে পেরেছে- সেই মীমাংসা লেখক জানাননি। তৃতীয়ত রাজাকার ও মিলিটারি দফাদারের হাতে ধর্ষিত স্ত্রী ও শালির শ্লীলতাহানির বিচার করতে হাতে দা নিয়ে সফদরউল্লাহ দুজন ব্যক্তিকে খুন করার উদ্দেশ্যে গভীর রাতে তাদের খুঁজতে বের হয়। সফদরউল্লাহ তাদের খুঁজে পেয়েছিল কি না সেই বিষয়ে লেখক মীমাংসায় পৌঁছাননি। চতুর্থত নিজাম আলি পাগল হয়ে বনে ঢোকে। এজাজ আহমেদের সন্দেহ, ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে নিজাম আলির যোগসূত্র রয়েছে। নিজাম আলির সঙ্গে সত্যিই মুক্তিবাহিনীর সম্পর্ক আছে কি না তা লেখক স্পষ্ট করেননি। পঞ্চমত পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর রফিক বারবার বলে, আমরা একটা খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। স্কুলের জানালা দিয়ে বারবার বাইরে জঙ্গলের দিকে তাকায়। মেজর এজাজ তাকে সন্দেহ করেন। মেজর এজাজের এরূপ সন্দেহ ঠিক কি না'তা স্পষ্ট হওয়ার আগেই রফিক নিঃসংকোচে মৃত্যুকে মেনে নেয়। ষষ্ঠত জয়নাল মিয়া স্বীকার করে মধুবন জঙ্গলে প্রায় একশ জন মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। তাদের ছয়-সাতজন আহত হয়ে কৈবর্তপাড়ায় অবস্থান করছে। রফিক জানায়, জয়নাল মিয়া ভয়ের কারণে এসব বানিয়ে বলছে। এসব জয়নাল মিয়ার বানিয়ে বলা নাকি সত্য কথা, লেখক তার মীমাংসা করেননি।
তাই বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!