উপযোগ হলো অভাব মোচন করার ক্ষমতা।
সব সম্পদ হস্তান্তর করা যায় না। সাধারণত বস্তুবাচক বা অমানবীয় সম্পদগুলো হস্তান্তর করা যায়। যেমন- অর্থ, বাড়িঘর, জমি, আসবাবপত্র ইত্যাদি। কিন্তু মানবীয় সম্পদ হস্তান্তরযোগ্য নয়। এগুলো মানুষের অন্তর্নিহিত গুণ। অনুশীলনের মাধ্যমে এ সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
যেমন- সময়, জ্ঞান, দক্ষতা, বুদ্ধি, ধৈর্য, আগ্রহ, শক্তি মনোভাব ইত্যাদি।
বীনা সন্তানদের পড়াশোনা করানোর ক্ষেত্রে মানবীয় সম্পদ ব্যবহার করেন।
বীনা তার সন্তানদের নিজেই পড়ান। এক্ষেত্রে তিনি তার মানবীয় সম্পদ মেধা, জ্ঞান-বুদ্ধি ও সময়কে কাজে লাগিয়েছেন। তার সন্তান পড়ানোর যে আগ্রহ সেটিও মানবীয় সম্পদ। লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিবারের সদস্যরা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মানবীয় সম্পদ ব্যবহার করে।
গৃহব্যবস্থাপনায় মানবীয় সম্পদের গুরুত্ব অপরিসীম। মানবীয় সম্পদের ব্যবহার ব্যবস্থাপনার কাজ সহজতর করে। এটি অমানবীয় বা বস্তুবাচক সম্পদের সমৃদ্ধি ঘটায় ও অপচয় রোধ করে।পরিবারের সদস্যরা সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, শ্রম ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে মারিবারের সচ্ছলতা বজায় রাখার চেষ্টা করে। মানুষ এ চেষ্টা এবং সচ্ছলতা বজায় রাখতে যে শ্রম, জ্ঞান, দক্ষতা ইত্যাদি ব্যবহার করছে তা মানবীয় সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। বীনার ক্ষেত্রেও আমরা তাই দেখি।
বীনার মতে বিন্দু বিন্দু জল থেকেই সাগর সৃষ্টি হয়। তার ধারণাটি যথার্থ।
প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সেবা অর্থের বিনিময়ে অর্জন করা যায়। সীমিত অর্থ দ্বারা অসীম চাহিদা পূরণ করতে হলে অর্থ ব্যবস্থাপনা করা দরকার।
অর্থ ব্যবস্থাপনা বলতে বোঝায় অভাব বা চাহিদা পূরণ করতে অর্থকে কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এতে অর্থের অপচয় হ্রাস পায় এবং অর্থ থেকে সর্বাধিক পরিতৃপ্তি লাভ করা যায়। কণা যখন যা দেখেন তাই কেনেন। ফলে মাসের শেষে তাকে অসুবিধায় পড়তে হয়। কিন্তু বীনা সব সময় পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করেন। কীভাবে পরিবারের ব্যয় কমানো যায় তিনি সেদিকে লক্ষ রাখেন। তিনি তার সন্তানদের নিজেই পড়ান। এতে গৃহশিক্ষকের খরচ বেঁচে যায়, অন্যদিকে এটি পরিবারের আয় হিসেবেও বিবেচিত হয়। কারণ পরিবারের সদস্যদের দ্বারা অর্জিত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মকে পরিবারের আয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমন- পরিবারে হাঁস-মুরগি পালন করে ডিম ও মাংস এবং সবজি বাগান করে শাকসবজি উৎপাদন করা যায়। এতে পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটানো যায় আবার বিক্রি করে অর্থ উপার্জনও করা যায়। আবার কাজের লোক না রেখে পরিবারের কাজ নিজেরা করলে অর্থের সাশ্রয় হয়। এছাড়া নিজেদের জামা কাপড় ঘরে সেলাই ও ইস্ত্রি করা এক ধরনের আয়। এভাবে অর্থ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বীনা তার পরিবারে সচ্ছলতা বজায় রেখেছেন। অর্থ ব্যবস্থাপনার ফলে তার কিছু বাড়তি অর্থ থাকে। এগুলো তিনি সঞ্চয় করেন। এভাবে অল্প অল্প করে অর্থ সাশ্রয় করে সঞ্চয় করার ফলে এক সময় এই অর্থ পরিমাণে বেড়ে যাবে। যেকোনো প্রয়োজনে এবং বিপদে আপদে এই সঞ্চিত অর্থ তাকে সাহায্য করবে।
সুতরাং, বিন্দু বিন্দু জল থেকেই সাগর সৃষ্টি হয় বীনার এই ধারণাটির সাথে আমি একমত।
Related Question
View Allআর্থিক আয় হলো দেশের প্রচলিত মুদ্রা অর্জন করা।
নির্দিষ্ট সময়ে আয় অনুযায়ী ব্যয় ও সঞ্চয় করার পূর্ব পরিকল্পনাকে বাজেট বলে।
বাজেটের মাধ্যমে পরিবারের আয়কে প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী ব্যয় করা যায়। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট আয় অনুযায়ী কোন খাতে কী পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে তা নির্ধারণ করা হয় বাজেটের মাধ্যমে। এটি অর্থের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে পারে না, কিন্তু অর্থকে পরিবারের সর্বাধিক প্রয়োজনে ব্যয় করে চাহিদাগুলো সহজেই মেটাতে পারে।
সুতরাং, বাজেট আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।
ছক 'A' মানবীয় সম্পদের ধারণা দেয়।
পরিবার লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ব্যবহার করে। সম্পদ অর্জনে মানবীয় ও বস্তুগত এই দুই ধরনের হয়।
মানবীয় সম্পদ মানুষের অন্তর্নিহিত গুণাবলি। এগুলো মানুষকে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ অর্জনে সাহায্য করে। এগুলো হলো- জ্ঞান, দক্ষতা, কাজ করার ক্ষমতা, বুদ্ধি, অভিজ্ঞতা, আগ্রহ, মনোভাব, ধৈর্য, শক্তি ইত্যাদি। পরিবারের প্রতিটি সদস্য সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের দক্ষতা, জ্ঞান, বুদ্ধি, শক্তি ইত্যাদি মানবীয় সম্পদকে কাজে লাগিয়ে সচ্ছলতা বজায় রাখারচেষ্টা করে। মানুষের এই চেষ্টা এবং সচ্ছলতা বজায় রাখার জন্য ব্যবহৃত শ্রম, জ্ঞান, দক্ষতা ইত্যাদি মানবীয় সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, কম দামি ভিটামিনসমৃদ্ধ খাদ্য হলো শাকসবজি। কিন্তু অনেকেই শাকসবজি খেতে চায় না। এক্ষেত্রে যদি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যায় তবে তা পরিবারের জন্য বড় সম্পদ। আবার খাদ্যাভাসের এ পরিবর্তনকে সহজভাবে গ্রহণ করার মনোভাবও একটি সম্পদ। মানবীয় সম্পদ অস্পর্শনীয়, এগুলো কেউ কাউকে ধার দিতে পারে না। এ সম্পদ পারস্পরিক বিনিময়যোগ্য নয়। এগুলো ব্যক্তির একান্ত নিজস্ব সম্পদ।
ছক 'A' এর যথার্থ ব্যবহার পরোক্ষভাবে 'B' এর সমৃদ্ধি ঘটায়।
ছক 'B' তে আছে অর্থ, জমি, গহনা ও বাড়ি-ঘর। এগুলো বস্তুগত সম্পদ। মানবীয় সম্পদ ছাড়া যেসব বস্তু, ও সেবা মানুষের অভাব মেটায় সেগুলো বস্তুগত সম্পদ। যেমন- জমি, অর্থ, গহনা, বাড়ি, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা অর্থাৎ, স্কুল, কলেজ, রাস্তাঘাট, পার্ক, পরিবহনের সুবিধা, লাইব্রেরি ইত্যাদি। পরিবার এ ধরনের সম্পদকে ব্যবহার করে লক্ষ্য অর্জন করে।সময়, শক্তি, জ্ঞান, দক্ষতা দিয়ে পরিবারের আয় বাড়ানো যায়। যেমন-দর্জির কাছে পোশাক তৈরি না করে দক্ষতা, জ্ঞান ও ধৈর্যকে কাজে লাগিয়ে নিজে তৈরি করলে খরচ বাঁচানো যায়। ছোট ভাইবোন বা ছেলেমেয়েকে পড়ালে ব্যয় হ্রাস পায়। এছাড়া অন্য জায়গায় টিউশনি করে পরিবারের আয়ও বাড়ানো যায়। বাড়ির বারান্দা, আঙিনা ও ছাদে শাকসবজি ও ফলের গাছ লাগালে নিজেদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এর ফলে খাদ্য খাতে ব্যয় কমানো যাবে। আর যদি বেশি পরিমাণে উৎপাদন করা যায় তাহলে বিক্রি করে অর্থ উপার্জনও করা যাবে। অনেকেই ছাদ, বারান্দা ও অঙিনায় হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, কবুতর, কোয়েল পাখি ইত্যাদি পালন করে। এর ফলে পরিবারের আমিষের চাহিদা পূরণ হয় এবং খাদ্য খাতে ব্যয় হ্রাস পায়। নিজের দক্ষতা, ধৈর্য ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের গৃহসজ্জা সামগ্রী তৈরি করে ঘর সাজানো যায়। এছাড়া এটাকে ব্যবসায়ের মাধ্যম হিসেবে নিয়ে অর্থ উপার্জনও করা যায়।
এভাবেই মানবীয় সম্পদ ব্যবহার করে বস্তুগত সম্পদ অর্থ উপার্জন করা যায়। আর অর্থের মাধ্যমেই অন্যান্য বস্তুগত সম্পদ কেনা সম্ভব হয়।
সুতরাং, ছক 'A' অর্থাৎ, মানবীয় সম্পদের যথার্থ ব্যবহার পরোক্ষভাবে | ছক 'B' বা বস্তুগত সম্পদের সমৃদ্ধি ঘটায়।
নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের অর্জিত অর্থ দ্বারা কী পরিমাণ দ্রব্য বা সেবা ক্রয় করা যায় তার প্রকাশিত মূল্যকে প্রকৃত আয় বলে।
বাজেট হলো আয় ও ব্যয়ের আনুমানিক হিসাব।
বাজেটের মাধ্যমে নির্দিষ্ট আয়ে কোন খাতে কী পরিমাণ ব্যয় করা হবে তা নির্ধারণ করা হয়। এটি হলো সচেতনভাবে অর্থ ব্যয়ের নির্দেশিকা। তাই বাজেট অপচয় রোধ করে এবং অর্থকে সর্বাধিক প্রয়োজনে ব্যয় করে চাহিদা মেটায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!