"কত গভীর তৃপ্তি আছে লুকিয়ে যে ওই পল্লি-প্রাণে। উদ্দীপকের এই চরণটি যেন 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার কবির গ্রামে ফেরার ব্যাকুলতাকেই তুলে ধরেছে। মন্তব্যটি যথার্থ।
গ্রাম মানুষের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ। গ্রামের নির্মল বাতাসে মানুষ স্নিগ্ধতার পরশ পায়। তাই তো মানুষ সুযোগ পেলেই গ্রামের পানে ছুটে যায়।
'যাব আমি তোমার দেশে' করিতায় দেখা যায়, পল্লিগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শেকড়ের প্রতি টান সব সময়ই কবিকে আকর্ষিত করে। গ্রামের অনাবিল সৌন্দর্য কবিমনকে উদ্ভাসিত করে। টেনে নিতে চায় তার কাছে। কবি তাই পল্লি-দুলালকে বলেন যে তিনি তার গ্রামে যেতে চান। পল্লিগ্রাম, প্রকৃতি তাকে ঘিরে রেখেছে। পল্লির প্রকৃতির নানা অনুষঙ্গের সাথে কবি নিজেকে মিশিয়ে নিতে চান। পাড়ার দস্যি ছেলেদের সাথে তিনি খেলা করবেন। যে পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে সেই পথে কবি হেঁটে বেড়াবেন। তিনি পাখির সাথে ডাকবেন। অজানা ফুলের রূপ দেখে মুগ্ধ হবেন। পল্লিবালারা যে ঘাটে জল ভরতে আসবে সেই ঘাটে ফুলের মালা রেখে আসবেন। নিরালা নিঝুম অন্ধকারে কবি প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করবেন।
উদ্দীপকে "কত গভীর তৃপ্তি আছে লুকিয়ে যে ওই পল্লি-প্রাণে" চরণটি দ্বারা পল্লির অকৃত্রিম পরিবেশে বেড়ে ওঠা হৃদয়ে যে প্রশান্তি বিরাজ করে তা বোঝানো হয়েছে। পল্লির সৌন্দর্য হৃদয়ে জাগায় সুখের আবহ। যে আবহে কবি মুগ্ধ হতে চান আলোচ্য কবিতায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চরণটি 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার কবির গ্রামে ফেরার ব্যাকুলতাকেই তুলে ধরেছে।
Related Question
View All'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতাটি লিখেছেন কবি জসীমউদ্দীন।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় গ্রাম্য মেয়ে পথে কদমকলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন এবং সেই সূত্রে পল্লিগ্রামের চিত্র এঁকেছেন। পল্লিগ্রাম, প্রকৃতি যেন কবিকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। সেখানে ধান-কাউনের খেতের ভিতর দিয়ে সরু সুতার মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ গেছে। সেই পথ নানা মাঠ ও বন পেরিয়ে গাঁয়ের ছায়াময় পথে মিশেছে। সেই পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে।
উদ্দীপকে শহুরে দুই বন্ধুর গ্রাম দেখার যে ব্যাকুলতা প্রকাশ পেয়েছে আমার পাঠ্য পুস্তকের 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে।
গ্রাম মানুষের প্রিয়। শহুরে মানুষকে গ্রাম চিরদিন হাতছানি দিয়ে ডাকে। গ্রামের অনাবিল নির্মল প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের মনে শান্তি আনে। তাই গ্রামে যাওয়ার জন্য শহুরে মানুষ আকুল হয়।
উদ্দীপকে শহরের দুই বন্ধু শফিক ও আশিক গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের গ্রামের বন্ধু শাহেদের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। তারা বইয়ের পাতায় পড়েছে, টেলিভিশনে দেখেছে, কিন্তু কখনো সশরীরে গ্রামে যায়নি। তাদের ভালো লাগা ও যাওয়ার ব্যাকুলতা আরও বেড়ে যায় ছেলেমেয়েদের দুরন্তপনার বর্ণনা শুনে। শহুরে এই দুই বন্ধুর ব্যাকুলতা ধরা পড়ে 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার মধ্যে। কবি সেই গ্রামে যেতে চান যেখানে ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতোর মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ গেছে। সেই পথে কবি গ্রামে যেতে চান, সেখানে দস্যি বা দুরন্ত ছেলেদের সাথে খেলতে চান, ধলদিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল আনতে চান। এমন ইচ্ছা ও ব্যাকুলতা উদ্দীপকের শহুরে দুই বন্ধুর মধ্যেও প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকে শাহেদ তার গ্রামের যে নয়নাভিরাম বর্ণনা করেছেন 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতার কবিও তেমনই এক পল্লি বা গ্রামের বর্ণনা দিয়েছেন।
মানুষ সব সময় প্রকৃতি ও গ্রামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়। জীবন ও জীবিকার তাগিদে শহরে বসবাস করলেও গ্রামের মনোমুগ্ধকর রূপ সর্বদাই মানুষকে টানে।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি আদরের পল্লি-দুলালের দেশে অর্থাৎ পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। সেই পল্লিগ্রামটিকে প্রকৃতি যেন ঘিরে রেখেছে। সেখানে বেত-কেয়ার বনে ডাহুক ডাকে, ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে সরু সুতার মতো দীর্ঘ বাঁকা পথ চলে গেছে। কবি সেই পথে গ্রামে গিয়ে দস্যি ছেলেদের সাথে খেলা করবেন, দিঘিতে সাঁতার কেটে রক্তকমল তুলে আনবেন। অজানা ফুলের রূপে মুগ্ধ হবেন। উদ্দীপকেও এমন সৌন্দর্যময় একটি গ্রামের বর্ণনা করেছে শাহেদ।
উদ্দীপকে শাহেদ তার গ্রামের নয়নাভিরাম এক বর্ণনা দিয়েছেন। তার গ্রামের বনবনানী, ফুল, পাখি, দিঘি, শাপলা, মেঠোপথ, ছেলেমেয়েদের দুরন্তপনা ইত্যাদির নয়নাভিরাম বর্ণনা শুনে তার শহুরে দুই বন্ধু গ্রামে আসার জন্য ব্যাকুল হয়। এমনই নয়নাভিরাম গ্রামের বর্ণনা পাওয়া যায় 'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায়।
বেতস কেয়ার বনে ডাহুক মেয়ে আসর মাতায়।
ধান-কাউনের খেতের ভেতর দিয়ে যে দীর্ঘ সরু সুতার মতো বাঁকা পথ গেছে কবি সেই পথ দিয়ে পল্লি-দুলালের দেশে যাবেন।
'যাব আমি তোমার দেশে' কবিতায় কবি পল্লিগ্রামে যেতে চেয়েছেন। পলিগ্রাম, প্রকৃতি যেন তাকে ঘিরে রেখেছে। তার বনের শীর্ষে আকাশ, পায়ের কাছে দিক-হারা মাঠ। কবি পল্লিগ্রামে যাওয়ার পথ কল্পনা করেছেন। কবির কল্পনার সেই পথকে হাবা মেয়ের এলো মাথার সিঁথির সাথে তুলনা করেছেন। সেই পথ কোথাও সিধা কোথাও বাঁকা। সেই পথে গাঁয়ের মেয়ে কদম-কলি ছড়িয়ে হেঁটে চলে। কবি এই পথে পল্লি-দুলালের দেশে যাবেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!