কোনো বস্তু সরলরেখা বরাবর চললে তার গতিই সরলরৈখিক গতি বা সরল গতি।
সময়ের সাথে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন না হলে ঐ বস্তুকে আমরা স্থির বস্তু বলি। আর স্থিতিশীল বস্তুর অবস্থাই স্থিতি। আবার, সময়ের সাথে পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে অবস্থানের পরিবর্তন হলে ঐ বস্তুকে আমরা গতিশীল বস্তু বলি, আর গতিশীল বস্তুর অবস্থাই গতি।
সময়ের সাথে সাথে কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনই হচ্ছে গতি। অর্থাৎ সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে কোনো বস্তু তার আশপাশের অন্যান্য বস্তুর তুলনায় স্থান- পরিবর্তন করলে বস্তুটিকেগতিশীল বস্তু বলা হয়। যেহেতু সম্পূর্ণ ট্রেনটি আশেপাশের অন্যান্য বস্তুর সাপেক্ষে স্থান পরিবর্তন করছে তাই ট্রেনটি গতিশীল কিন্তু ট্রেনের কামরার কোনো কিছুর দূরত্ব তার সাপেক্ষে পরিবর্তন হচ্ছে না।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পৃথিবীর সকল বস্তুর গতির সম্পর্কে কবিরের বাবা-মায়ের মন্তব্যটি ছিল- পৃথিবীর কোনো বস্তুই স্থির নয়, সকল বস্তুই গতিশীল।
বিশ্লেষণ: সাধারণত কোনো বস্তু গতিশীল না স্থিতিশীল তা বোঝার জন্য বস্তুর আশপাশ থেকে আর একটা বস্তুকে নিতে হবে যাকে আমরা প্রসঙ্গ বস্তু বলতে পারি। এ প্রসঙ্গ বস্তু ও আমাদের আলোচ্য বস্তুর পারস্পরিক অবস্থান যদি সময়ের সাথে অপরিবর্তিত থাকে তাহলে আলোচ্য বস্তুটি প্রসঙ্গ বস্তুটির সাপেক্ষে স্থির বলে ধরা হয়। আলোচ্য বস্তু ও প্রসঙ্গ বস্তু যদি একই দিকে একই বেগে চলতে থাকে তাহলেও কিন্তু সময়ের সাথে বস্তুদ্বয়ের মধ্যবর্তী দূরত্বের কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। যদিও প্রকৃতপক্ষে বস্তুটি গতিশীল। চলন্ত ট্রেনের কামরায় কবির ও তার বাবা মা বসে রয়েছে। তাদের একজনের সাপেক্ষে অন্যের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয় না। সুতরাং স্থিতিশীল বলা যেতে পারে। সেরূপ পরম স্থিতিশীল প্রসঙ্গ বস্তুর সাপেক্ষে কোনো বস্তুর গতিকে আমরা পরম গতি বলতে পারি। কিন্তু এ মহাবিশ্বে এমন কোনো প্রসঙ্গ বস্তু পাওয়া সম্ভব নয় যা প্রকৃতপক্ষে স্থির রয়েছে কারণ পৃথিবী প্রতিনিয়ত সূর্যের চারদিকে ঘুরছে, সূর্যও তার গ্রহ, উপগ্রহ নিয়ে নভোমন্ডলের চারদিকে ঘুরছে। কাজেই আমরা বলতে পারি এ মহাবিশ্বের সকল স্থিতিই আপেক্ষিক বা সকল গতিই আপেক্ষিক; কোনো গতিই পরম নয়, পরম নয় কোনো স্থিতিই।
অতএব, কবিরের বাবা পৃথিবীর সকল বস্তুর গতি সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তা যথার্থ বলেই প্রমাণিত হয়।
Related Question
View Allকোনো গতিশীল বস্তু যদি একই দিক থেকে একই পথ বারবার অতিক্রম করে তাহলে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।
দেয়াল ঘড়ির দোলকের গতি দোলন বা স্পন্দন গতি।
ব্যাখ্যা: আমরা জানি, যখন কোনো গতিশীল বস্তু একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর বিপরীতমুখী হয় তখন তার গতিকে দোলনগতি বলে। অন্যভাবে আমরা বলতে পারি যে, পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন কোনো বস্তুর গতি যদি এমন হয় যে, পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোনো একদিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় পূর্ব গতির বিপরীত দিকে চলে, তবে ঐ বস্তুর গতিকে দোলন গতি বলে। দেয়াল ঘড়ির দোলকটির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, নির্দিষ্ট সময় পরপর দোলকটি এদিক-ওদিক চলে, যা দোলনগতির উদাহরণ। অতএব, দেয়াল ঘড়ির দোলকের 'গতি দোলন বা স্পন্দন গতি।
খুশবুর বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ১৫০০ মিটার। খুশবুর স্কুলে পৌছাতে সময় লাগে ১৫ মিনিট।
আমরা জানি, দ্রুতি = অতিক্রান্ত দূরত্ব/সময়
=১৫০০ মিটার =১০০ মিটার/মিনিট
১৫ মিনিট
খুশবুর দ্রুতি ১০০ মিটার/মিনিট।
হৃদিতার বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব, ১৮০০ মিটার এবং হৃদিতার স্কুলে পৌঁছতে সময় লাগে'২০ মিনিট।
আমরা জানি, দ্রুতি = অতিক্রান্ত দূরত্ব/সময়
= ১৮০০ মিটার/২০ মিনিট/= ৯০ মিটার/মিনিট
হৃদিতার দ্রুতি ৯০ মিটার/মিনিট।
আবার, সদিচ্ছার বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ২১০০ মিটার। সদিচ্ছার স্কুলে পৌঁছাতে সময় লাগে ৩০ মিনিট।
দ্রুতি =২১০০ মিটার/৩০ মিনিট/= ৭০ মিটার/মিনিট
সদিচ্ছার দ্রুতি ৭০ মিটার/মিনিট।
অতএব, গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা পাই যে, হৃদিতার দ্রুতি বেশি।
সময়ের সাথে পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন না হলে ঐ অবস্থাকে স্থিতি বলে।
যে পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে গতি বা স্থিতি পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় প্রসঙ্গ কাঠামো। সুতরাং, প্রসঙ্গ কাঠামো হলো এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বস্তু বা বিন্দু যার সাপেক্ষে বস্তুর স্থিতি বা গতি নির্ণয় করা হয়। প্রসঙ্গ কাঠামো হতে পারে যেকোনো ব্যক্তি, যেকোনো বস্তু, যেকোনো স্থান। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই এদের সুনির্দিষ্ট হতে হবে। আমরা যদি বাড়ি - থেকে স্কুলের দূরত্ব মাপতে চাই, সেক্ষেত্রে বাড়ি হবে প্রসঙ্গ কাঠামো। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব জানতে চাইলে পৃথিবী হবে প্রসঙ্গ কাঠামো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!