শেয়ার বাজার হলো এমন একটি সুসংগঠিত বাজার যেখানে। সরকারি, বেসরকারি, নিবন্ধিত পাবলিক কোম্পানির শেয়ার স্টক, ঋণপত্র, সিকিউরিটি ইত্যাদি কেনাবেচা বা লেনদেন হয়।
দীর্ঘকালীন অর্থের যোগানে গঠিত বাজারকে মূলধন বাজার বা পুঁজি বাজার বলা হয়। মূলধন বাজার হলো এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে কারবার পরিচালনায় দীর্ঘকালীন ঋণের মাধ্যমে অর্থের সংস্থান করা হয়। অর্থায়নের ক্ষেত্রে এ মূলধন বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শিল্প প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থের প্রয়োজন হয়, যা মূলধন বাজার সরবরাহ করে। শিল্পকারখানা স্থাপন, শিল্প কারখানায় নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ, ভাবী যন্ত্রপাতি ক্রয়সহ যেকোনো ধরনের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কার্যক্রমে মূলধন বাজার ঋণের যোগান দিয়ে থাকে।
উদ্দীপকে তিন ধরনের শেয়ারের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে যেগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
১। প্রাথমিক শেয়ার কোনো কোম্পানি যখন বিক্রয়ের জন্য বাজারে প্রথম শেয়ার ছাড়ে এবং ক্রেতা সে শেয়ার প্রথমবার ক্রয় করে তাকে প্রাথমিক শেয়ার বলে। এরপ শেয়ার সাধারণত ব্যাংক বা কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। উদ্দীপকের কবির সাহেব আবেদনপূর্বক 'X' কোম্পানির ১০০ টাকার অভিহিত মূল্যের যে ৫০০টি শেয়ার ক্রয় করলেন তা প্রাথমিক শেয়ারের অন্তর্ভুক্ত।
২। মাধ্যমিক শেয়ার প্রাথমিক শেয়ার মালিকগণ যখন তাদের শেয়ার বিক্রয় করে তখন তা মাধ্যমিক শেয়ারে রূপান্তরিত হয়। অর্থাৎ প্রাথমিক শেয়ারের মালিকানা বদল হয়ে প্রথম ক্রেতার নিকট থেকে অন্য কোনো ক্রেতার নিকট হস্তান্তরিত হলে তাকে মাধ্যমিক শেয়ার বলে। কবির সাহেব যখন তার অর্ধেক শেয়ার বিক্রয় করলেন তখন তা মাধ্যমিক শেয়ারের অন্তর্ভুক্ত হলো।
৩। বোনাস শেয়ার কোম্পানি লাভ করা সত্ত্বেও লভ্যাংশ বিতরণ না করে তার বিনিময়ে পুরাতন শেয়ার মালিকদের বিনামূল্যে লভ্যাংশের সমপরিমাণ যে শেয়ার বিতরণ করে তাকে বোনাস শেয়ার বলে। তাই এক বছর পর কবির সাহেব কোম্পানির কাছ থেকে বিনামূল্যে যে শেয়ার পান তাকে বোনাস শেয়ার বলা হয়।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও বোনাস শেয়ারের কথা বলা হয়েছে। Activat
কবির সাহেবের বিনামূল্যে অর্জিত শেয়ারের নাম হলো বোনাস শেয়ার। নিচে রাইট শেয়ারের সাথে বোনাস শেয়ারের তুলনা করা হলো- কোম্পানির সংঘবিধি বা পরিমেল নিয়মাবলিতে যদি এরপ উল্লেখ থাকে যে, ভবিষ্যতে কোম্পানির বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারসমূহ বর্তমান শেয়ার মালিকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে বা শেয়ার বণ্টনের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার থাকবে তবেই এরপ শেয়ারকে রাইট শেয়ার বা অধিকারযোগ্য শেয়ার বলা হবে। ভবিষ্যতে মূলধন বাড়ানোর প্রয়োজন হলে বর্তমান শেয়ার মালিকদের মধ্যে এ ধরনের শেয়ার ছাড়া হয়। মনে করা যাক, কোম্পানি সিদ্ধান্ত নিল যে, তারা ৪: ১ অনুপাতে রাইট শেয়ার ইস্যু করবে। অর্থাৎ যার পুরাতন ৪টি শেয়ার আছে সে ১টি নতুন শেয়ার রাইট শেয়ার হিসেবে পাবে। রাইট শেয়ারও কোনো পৃথক ধরনের শেয়ার নয়। এটি সাধারণ বা অগ্রাধিকার শেয়ারও হতে পারে।
অন্যদিকে, যদি কোনো কোম্পানি সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্য লভ্যাংশের বণ্টন না করে নতুন শেয়ার হিসেবে তাদের
মধ্যে শেয়ার বণ্টন করে তবে তাকে অধিবৃত্তি বা বোনাস শেয়ার বলে। অধিবৃত্তি শেয়ারের মূল্য শেয়ার মালিকদের দিতে হয় না। শুধুমাত্র সঞ্চিত তহবিলের অর্থকে কোম্পানির মূলধন হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়। অনেক সময় শেয়ার অধিমূল্যে বিলি করা হলে অধিমূল্য বাবদ আদায়কৃত অর্থ দ্বারা ঐ অধিবৃত্তি বা বোনাস শেয়ার বিলি করা হয়।
Related Question
View Allপ্রয়োগগত দিক থেকে অর্থায়নকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়; যথা- (১) সরকারি অর্থায়ন, (২) বেসরকারি অর্থায়ন।
ব্যাংক জনগণের অর্থ গ্রহণ করে ব্যবসায় করে। আমানত গ্রহণ করার সময় ব্যাংক তেমন কোনো বিচার-বিবেচনা করে না, কিন্তু ঋণ প্রদানের সময় নানা রকম বিচার-বিবেচনা করে ঋণ প্রদান করে। ঋণ প্রদানের সময় যে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয় তাকে Five C's দ্বারা বোঝানো যেতে পারে; যথা-Character (চরিত্র), Capacity (ক্ষমতা), Collatoral (জামানত) Contract (চুক্তি), Capital (মূলধন)।
উদ্দীপকের অনুপম বাবু রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ
করেছেন। নিচে উক্ত ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমের বর্ণনা করা হলো-অর্থসংস্থানে বাণিজ্যিক ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক ব্যাংক স্বল্পমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি ঋণ প্রদান করে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে দীর্ঘমেয়াদি ঋণও প্রদান করে। বাংলাদেশে তিন ধরনের বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। যথা: রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশে বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষত রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বিভিন্ন শিল্পের কার্যকরী ঋণ প্রদান করে থাকে। বিভিন্ন শিল্প স্বল্প মেয়াদে চলতি সম্পদ সংগ্রহের জন্য ব্যাংক থেকে এরূপ ঋণ সংগ্রহ করে। আবার অনেক সময় কনসোর্টিয়াম ব্যবস্থার অধীনে একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অঙ্কের ঋণ সরবরাহ করে।
কোনো কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক এককভাবে এরূপ ঋণ দীর্ঘ মেয়াদের জন্য প্রদান করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যাংকটি সোনালী ব্যাংক, যা বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক। অর্থসংস্থানে এই ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের ব্যাংক স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি ঋণ
প্রদান করে। ক্ষেত্রবিশেষে এই ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি ঋণও প্রদান করে থাকে। আবার অনেক সময় কনসোর্টিয়াম ব্যবস্থার অধীনে একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংক নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠার জন্য বড় অঙ্কের ঋণ সরবরাহ করে। পক্ষান্তরে, বিনিয়োগ ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করে থাকে। বিনিয়োগ ব্যাংক অবলেখকের কাজও করে থাকে। বাংলাদেশে Investment Corporation of Bangladesh (ICB) একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ ব্যাংক। এই ব্যাংক পুঁজিবাজার উন্নয়নে সহায়তাদান, পরামর্শ প্রদান, মূলধনের স্বল্পতা পূরণে সহায়তা করে থাকে। এছাড়া জনগণের সঞ্চয়কে একীভূতকরণ ও তার সঠিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করে। এই ব্যাংক সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন ও উন্নয়নও করে থাকে।
সময়গত দিক থেকে অর্থায়ন তিন প্রকার, যথা : স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি।
স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয় অথবা দীর্ঘদিনের জন্য বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে যে অর্থায়ন করা হয়, তাকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন বলে। এ ধরনের অর্থায়ন সাধারণত ৭ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত উঠানামা করতে পারে। সাধারণত বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!