যখন বহু ব্যক্তি একই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য সংঘবদ্ধ হয়ে বাস করে এবং পরস্পরের স্বার্থ সংরক্ষণে সকলে একই সাথে কাজ করে তখন তাকে সমাজ বলে।
বাংলাদেশে সাধারণত একক ও যৌথ দু'ধরনের পরিবার দেখা যায়।। শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে একক ও যৌথ উভয় পরিবারেরই সুবিধা ও অসুবিধা আছে। যেমন একক পরিবারে মনোমালিন্য কম হয়, শিশুর চাহিদা সহজেই পূরণ হয়। কিন্তু এরা স্বার্থপর, রক্ষনশীল হয় এবং অসহায় বোধ করে। যৌথ পরিবারে ছেলেমেয়েরা সবার সাথে মিলেমিশে থাকে, একাকিত্বে ভোগে না। ফলে তারা সহনশীল, সামাজিক ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের অধিকারী হয়।
পরিবার সবচেয়ে পুরাতন সামাজিক সংগঠন। সমাজের অগ্রগতির সাথে সাথে এসেছে পরিবারের কার্যাবলিতে আমূল পরিবর্তন। সামাজিক জীবনে প্রত্যেক পরিবারেরই নির্দিষ্ট কিছু কাজ আছে।
কবির সাহেব পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন উপদেশ দেন। তিনি তার সন্তানদের একে অন্যকে সহযোগিতা করতে এবং বিপদে সাহায্য করতে বলেন। তার উপদেশ হতে বোঝা যায় এগুলো মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কার্যাবলির অন্তর্গত। কেননা একটি নবজাতক শিশু প্রথমত পরিবার হতেই স্নেহ, মায়া, মমতা প্রভৃতি আবেগের সাথে পরিচিত হয়। একটি পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক কাজ হলো শিশুকে সততা, ন্যায়-অন্যায়, বিপদে সাহায্য করা, সহানুভূতি, সমমর্তিতা ও একে অন্যকে ভালোবাসা ইত্যাদি শেখানো যার মাধ্যমে সহজেই পরিবারে অটুট বন্ধন তৈরি করা যায়। এছাড়া পরিবারিক জীবন থেকে সামাজিক আচার-আচরণ, আদব- কায়দা, মূল্যবোধ ও রীতিনীতি ইত্যাদি শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে কবির সাহেবের ছেলেমেয়েরা' সমাজে চলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে। সমাজে বাস করতে গেলে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া, কেউ বিপদে পড়লে এগিয়ে যাওয়া, পারস্পরিক সহযোগিতা ইত্যাদি গুণাবলির প্রয়োজন। পরিবারই ছেলেমেয়েদের এসব শিক্ষা দিয়ে সমাজে বসবাসের যোগ্যতা অর্জনে সাহায্য করে। কবির সাহেব তার ছেলে- মেয়েদের সমাজের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কার্যাবলি সংশ্লিষ্ট উপদেশগুলো দিয়ে থাকেন।
শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে পারিবারিক বন্ধন বিরাট ভূমিকা পালন করে। পারিবারিক বন্ধন বলতে মা-বাবা, ভাই-বোন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে মত ও মনের মিলকে বোঝায়। যে পরিবারে সকলের মধ্যে মতের মিল থাকে সেখানে বন্ধনও অটুট থাকে। আর পরিবারকে কেন্দ্র করেই স্নেহ, মায়া, মমতা, সহানুভূতি ইত্যাদি মনোভাব গড়ে ওঠে।
কবির সাহেবের পরিবারের সবাই পারস্পরিক সৌহার্দ্যের সাথে একত্রে বাস করে। একটি শিশু পরিবার থেকেই স্নেহ, মায়া-মমতা, সহনশীলতাসহ সব ধরনের শিক্ষা লাভ করে থাকে। পরিবারের সদস্যদের প্রতি এই স্নেহ, ভালোবাসা, মায়া-মমতাই হলো পারিবারিক বন্ধন।
কবির সাহেব তার সন্তানদের সব সময় ভালো উপদেশ দেন। সন্তানদের তিনি বড়দের সম্মান করার ও তাদের প্রতি অনুগত থাকার শিক্ষা দেন। একই সাথে তিনি তাদের ছোটদের স্নেহ করতে শেখান। এভাবে তিনি তার পরিবারের ছোট বড় সকল সদস্যদের মধ্যে সম্প্রীতির সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে তার পরিবারের সদস্যরা একে অপরকে সহযোগিতা করে। একে অন্যের বিপদে সাহায্য করে। এভাবে তাদের মধ্যে বিশ্বাস, আস্থা ও আন্তরিকতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এভাবেই উপদেশগুলো কবির সাহেবের পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখায় বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
Related Question
View Allপরিবারের সুখ সমৃদ্ধির কথা চিন্তা করে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবার গঠন করাকে পরিকল্পিত পরিবার বলে।
বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যে নতুন সংসার শুরু করে তাকে নয়াবাস পরিবার বলে।
পাশ্চাত্য সমাজে এই ধরনের পরিবারের সংখ্যা অধিক। আমাদের দেশে বর্তমানে পেশাগত কারণে এ ধরনের পরিবারের সংখ্যা শহরাঞ্চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে
যৌথ পরিবারে বেড়ে ওঠা সজল যখন রাঙামাটিতে গারো সমাজের একটি বিয়েতে অংশগ্রহণ করে তখন সে কৌতূহলী হয়ে যায়।
নতুন পরিবেশ, নতুন পদ্ধতিতে সংঘটিত বিবাহ উৎসব সজলকে অবাক করে দেয়। কারণ সে যে বিয়েতে অংশগ্রহণ করেছিল সেখানে স্বামীরা বিয়ের পর মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করে। অর্থাৎ এটি একটি মাতৃপ্রধান পরিবার।
মাতৃপ্রধান পরিবারের ক্ষমতা ও নেতৃত্ব একজন মহিলার ওপর ন্যস্ত থাকে। এখানে স্ত্রী লোকের অধিকার পুরুষের চেয়ে বেশি এবং স্ত্রীলোকের মাধ্যমে বংশ পরিচয় নির্ধারিত হয়। পরিবারের ক্ষমতাভিত্তিক হিসেব করলে এটি মাতৃপ্রধান পরিবার হিসেবে পরিচিত। পরিবারের সকল দায়দায়িত্ব এখানে মাতা বা প্রাপ্তবয়স্ক স্ত্রীলোকই নেতৃত্ব দেয়। সজল বিয়েতে এ সকল বিষয়গুলো দেখেই কৌতূহলী হয়েছিল। আমাদের সমাজে আমরা পিতৃতান্ত্রিক পরিবারে বসবাস করি। যেখানে বিয়ের পর স্ত্রী পুরুষের অধিকারী হয়ে থাকে। কিন্তু গারো সমাজের এই পরিবারের নতুন পরিবেশ, নতুন বিবাহ পদ্ধতি সজলকে কৌতূহলী করে তোলে।
সজল যে পরিবারে বসবাস করে সেটি পরিবারের কাঠামো বা আকারানুযায়ী যৌথ পরিবারের অন্তর্গত।
যৌথ পরিবারে পিতা-মাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততিসহ একত্রে বসবাস করে। এ ধরনের পরিবারে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তান-সন্ততি বসবাস করতে পারে।
সজল এরূপই একটি যৌথ পরিবারে বসবাস করে, যেখানে তাদের সাথে চাচা-চাচি ও তাদের সন্তানাদিও রয়েছে। কৃষিভিত্তিক সমাজে যৌথ পরিবারে বয়ষ্ক ব্যক্তি পরিবারের প্রধান। তার হাতে সম্পত্তির অধিকার থাকে এবং তিনি পরিবারের অর্থনৈতিক বিষয় দেখাশুনা করেন।
যৌথ পরিবারে শিশুদের লালনপালনে সমস্যা হয় না। ছোটরা বড়দের সম্মান ও বড়রা ছোটদের সাথে স্নেহের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। যৌথ পরিবারের ছেলেমেয়েরা সহনশীল হয়। ছেলেমেয়েদের সমস্যা সমাধানে বাবা-মা ভূমিকা রাখে। সকলে মিলেমিশে যৌথ পরিবারে ভাগ করে থাকে। ছেলেমেয়েদের মানসিক বিকাশ সঠিকভাবে গড়ে তুলতে যৌথ পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। সজলের পরিবারটিও যৌথ পরিবার। এধরনের পরিবারে সকলে মিলেমিশে বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে অংশগ্রহণ করে।
সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সমাজের রূপান্তর।
পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বলতে বোঝায় পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন কাজে একে অপরের প্রতি নির্ভর করা।
পারস্পরিক বিশ্বাস ও নির্ভরশীলতা পরিবারের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। পারস্পরিক বিশ্বাস যত মজবুত হয় পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা তত বেশি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া সুখে দুঃখে একে অপরের অংশীদার হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!