যেসব দ্রব্যসামগ্রী মানুষের শ্রমের দ্বারা উৎপাদিত এবং সরাসরি ভোগের জন্য ব্যবহৃত না হয়ে পুনরায় উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হয়, তাদেরকে মূলধন বলে।
আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা মূলত মূলধনের ওপর নির্ভরশীল।
উৎপাদনের তৃতীয় মৌলিক উপাদান হিসেবে মূলধন উৎপাদনে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মূলধন ছাড়া ভূমি এবং শ্রমকে সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন কাজে নিয়োগ করা যায় না। বর্তমান বিশ্বে উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে শিল্পের অগ্রগতি সাধন তথা শিল্প স্থাপনের জন্য প্রচুর পরিমাণে মূলধন প্রয়োজন। মূলধনের প্রাচুর্যতার কারণে বর্তমান বিশ্বে উন্নত দেশগুলো টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। এ সব কারণে উৎপাদনক্ষেত্রে মূলধন অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
করিমের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সংগঠনের গুরুত্ব সর্বাধিক।
ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে উৎপাদনমুখী কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করাকে সংগঠন বলে। সত্যিকার অর্থে সংগঠন ছাড়া উৎপাদন ও ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা প্রায় অসম্ভব। আধুনিক বিশ্বে উৎপাদন কর্মকান্ডে বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এ দায়িত্ব সংগঠন দক্ষতার সাথে যোগ্যতা অনুযায়ী ভাগ করে দেন। এভাবে কর্মীদের সহায়তায় উৎপাদন ও ব্যবসায়ের বিভিন্ন কার্যাবলি সম্পাদিত হয়। আর এই কাজ সম্পাদন করতে গিয়ে কর্মীদের মধ্যে একটি পারস্পরিক কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব সৃষ্টি হয়। পারস্পরিক এই কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব কাঠামোই সংগঠন। তাছাড়া বিভিন্ন কাজের দায়িত্ব বণ্টন, নিয়ম-শৃঙ্খলা গড়ে তোলা ইত্যাদি সাংগঠনিক কাঠামোর অন্তর্গত। ব্যবসায়ের আয়তন, উৎপাদিত পণ্যের প্রকৃতি ও পরিমাণ, শিল্পের প্রকৃতি, উৎপাদন প্রক্রিয়া, শ্রমিকের দক্ষতা প্রভৃতির ওপর ব্যবসায়ের সাংগঠনিক কাঠামো নির্ভরশীল।
তাই বলা যায়, করিমের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উৎপাদন সমস্যা সমাধানে সংগঠক তথা করিমের জনশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো-
একজন সংগঠককে কোনো সংগঠন চালাতে হলে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এসব সমস্যার মধ্যে উৎপাদন সমস্যা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। জনশক্তির ব্যবহারের হারের জন্য উৎপাদন সমস্যা দেখা দিতে পারে। কী পরিমাণে, কতজন দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন তার ওপর মূলত উৎপাদনের হার নির্ভর করে। উৎপাদনে সর্বাধিক পরিমাণে দক্ষ জনশক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে উৎপাদন সমস্যার সমাধান সম্ভব। উদ্দীপকের করিম একটি উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের মালিক। তিনি উৎপাদন সমস্যা সমাধানের জন্য তার প্রতিষ্ঠানে জনশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদি কোনো সংগঠক তার প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ জনশক্তির ব্যবহার করেন, তখন উৎপাদন হ্রাসের সমস্যা দেখা দিবে। এমতাবস্থায় অধিক হারে জনবল নিয়োগ দিলেও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে না। তাই জনাব করিম বা প্রতিটি সংগঠকের দায়িত্ব তার প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনশক্তির সর্বোচ্চ পরিমাণ নিয়োগ নিশ্চিত করা।
সুতরাং বলা যায়, উৎপাদন সমস্যা সমাধানে করিমের উচিত তার প্রতিষ্ঠানে জনশক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
Related Question
View Allউৎপাদন কাজে নিয়োজিত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম, যার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা যায় তাকেই অর্থনীতিতে শ্রম বলে।
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত রেখে উৎপাদন ক্ষেত্রে ক্রমাগতভাবে অধিক হারে শ্রম ও মূলধন নিয়োগ বৃদ্ধি করা হলে উৎপাদন যদি উপকরণ নিয়োগের হার অপেক্ষা কম হারে বৃদ্ধি পায়, তাহলে তাকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উৎপাদন কৌশল ও অন্যান্য উপকরণ স্থির রেখে একটি উপকরণ বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন প্রাথমিকভাবে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ে। এক পর্যায়ে উপকরণটির ব্যবহার আরও বাড়ালে উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে। মনে করি, ভূমি ও শ্রম দুটি উপকরণ আছে। উৎপাদনক্ষেত্রে ভূমিকে স্থির রেখে শ্রমের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হলে মোট উৎপাদন প্রথম পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পায় এবং পরে ঐ জমিতে আরও শ্রম নিয়োগ করা হলে মোট উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে। উপকরণ ব্যবহারের সাথে উৎপাদন বাড়ার এ নিয়মকে অর্থনীতিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলা হয়।
কবিরের উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি দ্বারা রূপগত ও স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কোনো বস্তুর আকৃতি বা রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে যে নতুন উপযোগ সৃষ্টি হয় তা হলো রূপগত উপযোগ। আবার, কোনো দ্রব্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করলে যে উপযোগ সৃষ্টি হয়, তা স্থানগত উপযোগ নামে পরিচিত। যেমন- কাঠকে সুবিধামতো পরিবর্তন করে আসবাবপত্র তৈরি করলে রূপগত উপযোগের সৃষ্টি হয়। আর এইসব আসবাবপত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে বিক্রি করলে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। কবির একজন আসবাবপত্র ব্যবসায়ী। তিনি কাঠ সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরি করেন। কাঠ থেকে আসবাবপত্র তৈরি হলে নতুন উপযোগ সৃষ্টি হয়। আর এটিই হলো রূপগত উপযোগ। তাছাড়া কবিরের তৈরি করা আসবাবপত্র দেশের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হয় এবং তিনি আসবাবপত্রের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে থাকেন। এভাবে বিভিন্ন এলাকায় আসবাবপত্র পাঠানোর মাধ্যমে এগুলোর স্থানগত উপযোগও বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, কবিরের তৈরি আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে রূপগত ও স্থানগত উপযোগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘ হ্যাঁ, কবিরকে একজন সফল সংগঠক বলা যায়।
উৎপাদন ব্যবস্থায় যে ব্যক্তি সংগঠনের কাজ করেন তাকে সংগঠক বলে। একজন সফল সংগঠক নিজেই উৎপাদনের সকল পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ করেন এবং সে অনুযায়ী কারবার গঠন ও পরিচালনা করেন। এছাড়াও তিনি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ সংগ্রহ এবং সেগুলোর সমন্বয় করে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত করেন। একজন সংগঠক কারবার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে উৎপাদিত দ্রব্য বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সকল দায়িত্ব ও ঝুঁকি বহনের কাজটিও করে থাকেন।
উদ্দীপক অনুসারে কবির নিজেই ব্যবসায়ের সকল নীতি নির্ধারণ ও ব্যবসায় পরিচালনা করেন। তাছাড়া সে উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ তথা ভূমি, শ্রম ও মূলধনের সুষ্ঠু সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে নিজের আসবাবপত্রের ব্যবসায় সম্প্রসারণ করেন। তিনি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে তার উৎপাদিত দ্রব্যের নতুন বাজার অনুসন্ধান করেন, যার ফলে দ্রব্যের চাহিদা এবং মুনাফা বৃদ্ধি পায়।
এছাড়াও কবির তার দোকানে অধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করেন।
কাজেই, কবির তার ব্যবসায়ের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে একজন সফল সংগঠক হতে পেরেছেন বলে আমি মনে করি।s
বিভিন্ন উপকরণ নিয়োগের দ্বারা যে পরিমাণ উৎপাদন পাওয়া যায় তাকে মোট উৎপাদন বলে।
ব্যক্তিগত ব্যয় হচ্ছে (ব্যক্তিমালিকানাধীন ফার্মের) উৎপাদনের সাথে জড়িত সব ধরনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ব্যয়ের যোগফল।
কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভাড়া বা উপকরণ ক্রয়ের জন্য দৃশ্যমান যে ব্যয় করে তাকে প্রকাশ্য ব্যয় বলে। যেমন- ফার্মে কর্মরত মানুষের বেতন ও ভাতাদি, কাঁচামাল, মাধ্যমিক দ্রব্য ক্রয়ের জন্য ব্যয়, বাড়ি ভাড়া, মূলধনের সুদ ইত্যাদি হলো প্রকাশ্য ব্যয়। আর উদ্যোক্তার নিজের শ্রমের মূল্য, স্ব-নিয়োজিত সম্পদের ব্যয় ও উদ্যোক্তার আনুষঙ্গিক ব্যয় ইত্যাদি হলো অপ্রকাশ্য ব্যয়। এই সকল প্রকাশ্য ও অ-প্রকাশ্য ব্যয়ের সমষ্টিই হলো ব্যক্তিগত ব্যয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!