জগতের যাবতীয় জটিল ঘটনা সহজবোধ্য করার প্রেক্ষিতে মানবমনের সার্বিক কৌতূহল বা জিজ্ঞাসা নিবৃত্ত করার মাধ্যমে মানুষের বোধশক্তিকে পরিতৃপ্ত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে ব্যাখ্যা।
সাধারণত শৃঙ্খলাযোজন কথাটির অর্থ হলো কতগুলো ঘটনার পর্যায়ক্রমিক পারস্পরিক সংযুক্তি। আর শৃঙ্খলাযোজন হচ্ছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার একটি বিশেষ রূপ। অনেক সময় একটি ঘটনা বা কার্য সরাসরি কোনো কোনো কারণের ফলে সংঘটিত না হয়ে দূরবর্তী কোনো কারণ থেকে সংঘটিত হয়। এরূপ ক্ষেত্রে এই দূরবর্তী কারণটি মধ্যবর্তী কতগুলো স্তর বা ধাপ • পর্যায়ক্রমে অতিক্রম করে আলোচ্য কার্যটিকে সংগঠিত করে। আর এ মধ্যবর্তী ধাপ বা স্তরগুলোকে আবিষ্কার করে সেগুলোকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে আলোচ্য ঘটনা ব্যাখ্যা করার প্রক্রিয়াই হলো শৃঙ্খলাযোজন।
উদ্দীপকে করিমের চিন্তাধারার প্রতিফলন যে ধরনের ব্যাখ্যা নির্দেশ করে তা হলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং কেন করে নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
ঘটনাবলির মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার ও প্রমাণের মাধ্যমে এবং প্রাকৃতিক নিয়ম ও বিশেষ তথ্যের উল্লেখের ভিত্তিতে আলোচ্য ঘটনার অন্তর্নিহিত তাৎপর্য এবং এর বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ সম্বন্ধগুলোকে বিচার-বিশ্লেষণের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ঘটনার বর্ণনা প্রদানের প্রক্রিয়াই হচ্ছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। বস্তুত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার স্বরূপ সম্পর্কে যুক্তিবিদ কার্ডেথ রিডের বক্তব্যটি এক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেন, “ঘটনাসমূহের মধ্যকার নিয়মাবলি আবিষ্কার, অবরোহণ ও সংযুক্তকরণের মাধ্যমেই গঠিত হয় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা।” যেমন : 'চন্দ্রগ্রহণ'কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যদি বলা হয়, 'সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ যখন এক সমান্তরালে এসে পড়ে, তখন পৃথিবীর ছায়ার মধ্য দিয়ে চাঁদকে অতিক্রম করতে হয় বলে চন্দ্রগ্রহণ হয়', তাহলে এ ব্যাখ্যাটি হবে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। কারণ এখানে চন্দ্রগ্রহণের ঘটনাটিকে প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মের অধীনে এনে সহজবোধ্য করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কাজেই আলোচ্য ব্যাখ্যাটিকে একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা হিসেবে অভিহিত করা যায়।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে করিমের চিন্তাধারার প্রতিফলন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নির্দেশ করে।
উদ্দীপকে করিমের চিন্তাভাবনায় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং রহিমের চিন্তাভাবনায় লৌকিক ব্যাখ্যা প্রতিফলিত হয়েছে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা ও লৌকিক ব্যাখ্যার পার্থক্য আমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
⇨ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ভিত্তি হলো প্রাকৃতিক নিয়ম ও বাস্তব কারণ; যেমন : এরূপ ব্যাখ্যায় বলা হয়, “জীবাণুর সংক্রমণের কারণেই বিভিন্ন রোগ হয়।” অপরদিকে লৌকিক ব্যাখ্যার ভিত্তি হলো অতিপ্রাকৃত ও অলৌকিক কারণ। যেমন: এরূপ ব্যাখ্যায় বলা হয়, “দেবতার অসন্তুষ্টির কারণেই বিভিন্ন রোগ হয়।"
⇨ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে কেবল মৌলিক ও অন্তর্নিহিত সাদৃশ্যের উপর গুরুত্বারোপ করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। অপরদিকে লৌকিক ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে অধিক পরিমাণে বিচ্ছিন্ন ও বাহ্যিক সাদৃশ্যের উপর গুরুত্বারোপ করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
⇨ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় ঘটনাবলির মধ্যকার সাদৃশ্যের বিষয়সমূহের মূল্য ও গুরুত্ব নিরূপণ করার মাধ্যমে এগুলোর যথার্থতাও প্রতিপাদন করা হয়। অপরদিকে লৌকিক ব্যাখ্যায় ঘটনাবলির মধ্যকার সাদৃশ্যের বিষয়সমূহ কেবল অবলোকন করা হয়, এগুলোর কোনোরূপ যথার্থতা বিচার করা হয় না।
⇨ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় যেকোনো ঘটনাকে প্রকৃতির সাধারণ নিয়মাবলির প্রেক্ষিতে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে। অপরদিকে লৌকিক ব্যাখ্যায় কোনো একটি ঘটনাকে বিশেষ পরিস্থিতিতে এককভাবে ব্যাখ্যা করা হয়ে থাকে।
⇨ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বিশেষ ঘটনার সাথে যুক্ত সাধারণ নিয়মের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। অপরদিকে লৌকিক ব্যাখ্যায় মূলত বিশেষ ঘটনাকে ব্যাখ্যা করা হয়।
⇨ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সমজাতীয় ঘটনার কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার মাধ্যমে ঘটনাগুলোকে সামান্যীকরণের প্রেক্ষিতে মূল ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়ে থাকে। অপরদিকে লৌকিক ব্যাখ্যায় বিচ্ছিন্নভাবে ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়।
⇨ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা অনুসারে প্রকৃতির সব ঘটনাই নিয়ম অনুসারে ঘটে। অপরদিকে লৌকিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রকৃতির সব ঘটনাই আকস্মিকভাবে ও দৈবক্রমে ঘটে।
Related Question
View Allজগতের যাবতীয় জটিল ঘটনাকে সহজবোধ্য করার প্রেক্ষিতে মানবমনের সার্বিক কৌতূহল বা জিজ্ঞাসা নিবৃত্ত করার মাধ্যমে মানুষের বোধশক্তিকে পরিতৃপ্ত করার প্রক্রিয়াই হচ্ছে ব্যাখ্যা।
যেকোনো বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা নির্ভর করে মানবজীবনে বিষয়টির প্রয়োজনীয়তার উপর। আর ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়া হচ্ছে এমনই একটি বিষয়, মানবজীবনে যার অপরিসীম প্রয়োজনীয়তা পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। তাই শুধু দৈনন্দিন জীবনেই নয়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আর গুরুত্বের কারণেই বর্তমানের জ্ঞান- বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার ধারায় ব্যাখ্যাকরণের প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটি বিষয় হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। সুতরাং যুক্তিবিদ্যায় ব্যাখ্যার প্রাসঙ্গিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।
উদ্দীপকে মনির কলম কিনতে গিয়ে প্রথম কলমটি পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও সে অন্য দোকানে গিয়ে একটি কলম কিনল। যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়।
কলম কেনার ক্ষেত্রে উদ্দীপকের মনির যে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়েছিল, তা হলো শৃঙ্খলযোজন। আর শৃঙ্খলযোজন কথাটির অর্থ হলো 'কতগুলো ঘটনার পর্যায়ক্রমিক পারস্পরিক সংযুক্তি'; অর্থাৎ মনির এই পদ্ধতি অবলম্বন করেই সব বিষয় পর্যালোচনা করে অন্য দোকানে তার দেখা দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কেননা কলমটির আকার সুবিধাজনক, যার ফলে ব্যবহার সুবিধাজনক হবে।
সুতরাং উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, মনিরের দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্তটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার আলোকে সঠিক ছিল।
আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে।- উক্তিটি উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো-
উদ্দীপকের মনির দোকানে কলম কিনতে গিয়েছে। এক দোকানে সে একটি কলম দেখল, যার আকার ও রং অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং কলমটি বেশ দামি। এ ছাড়া কলমটি একটি নামি কোম্পানির তৈরি; কিন্তু কলমটি না কিনে মনির অন্য একটি দোকানে যায়। সেখানে সে এমন একটি কলম দেখল যার কালি অনেক ভালো, এতে লেখা সুন্দর হয় এবং কলমটি দিয়ে বেশ দ্রুত লেখা যায়। এ ছাড়া কলমটির আকার এমন, যার ব্যবহার অত্যন্ত সুবিধাজনক। মনির কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত নিল এবং মনে মনে পর্যালোচনা করে দেখল সিদ্ধান্তটিতে কোনো ভুল আছে কিনা। কেননা আপাতদৃষ্টিতে কোনো বিষয়কে সঠিক মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা ভুলও হতে পারে। যেমন: কোনো নামি কোম্পানির কলম হলেই যে সেটি ভালো হবে এবং সাধারণ কোম্পানির কলম হলে তা খারাপ হবে, এমনটা ভাবা ঠিক নয়। তাই উদ্দীপকের মনির উক্ত বিষয়গুলো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার 'বিশ্লেষণরূপের' আলোকে পর্যালোচনা করে দ্বিতীয় কলমটি কেনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সাধারণত 'বিশ্লেষণ' কথাটির অর্থ হলো কোনো বিষয় বা ঘটনাকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে এর গুরুত্ব অনুধাবন করা। উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকের উক্তিটি যৌক্তিক ও যথার্থ।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় সংযোগ ক্রিয়া বর্তমান।
যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয় তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে। সাধারণভাবে বলতে গেলে সাধারণ লোকের সাধারণ বিশ্বাস এবং মনগড়া চিন্তা ও প্রচলিত ধারণার দ্বারা কোনো ঘটনার যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা-ই হচ্ছে লৌকিক ব্যাখ্যা। তাই লৌকিক ব্যাখ্যা হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে বাসা বাঁধা বিভিন্ন কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসের প্রতিফলন।
সুতরাং লৌকিক ব্যাখ্যার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা যায়, যে ব্যাখ্যায় অতিপ্রাকৃত সত্তা কল্পনা করে কোনো ঘটনার ব্যাখ্যা করা হয়, তাকে লৌকিক ব্যাখ্যা বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!