'পড়ে পাওয়া' গল্পে বিধু সকলের সংশয় দূর করে দিল।
'পড়ে পাওয়া' গল্পে বন্যার কারণে ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ায় অম্বরপুর চরের কাপালিরা সর্বস্বান্ত হয়েছে।
বন্যার কারণে নদীতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়। সেই স্রোতের টানে অম্বরপুর চরের কাপালিদের ঘর-বাড়ি ভেসে যায়, সবজির খেত নষ্ট হয়। গরু বাছুর হারিয়ে যায়। বন্যায় ঘরবাড়ি ও খেতের সবজি নষ্ট হওয়ায় তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। কারণ ওই ভিটে আর সবজি খেতই তাদের সম্বল ছিল। তরকারি বেচে তারা যে দু'পয়সা আয় করত তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তাদের জীবনের করুণ অবস্থা বিরাজ করে।
উদ্দীপকের করিম ও রহিম 'পড়ে পাওয়া' গল্পের লেখক ও তার বন্ধু বাদলের প্রতিনিধিত্ব করে।
সততা মানুষের মানবীয় গুণাবলির মধ্যে অন্যতম। সত্যবাদীকে সবাই সম্মান করে। ন্যায়ধর্ম ও মানবিকবোধ মানুষকে সৎ পথে পরিচালিত করে। একজন সৎ ব্যক্তি কখনো অন্যের ক্ষতি করে না, অন্যের জিনিসের প্রতি লোডও করে না।
উদ্দীপকে করিম ও রহিম নামের দুই বন্ধুর সততার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। তারা ব্যাংকে টাকা তুলতে গেলে ক্যাশিয়ার ভুল করে দশ হাজার টাকা বেশি দেয়। বাসায় ফিরে তারা দশ হাজার টাকা বেশি দেখে, অতিরিক্ত টাকা ক্যাশিয়ারকে ফেরত দেয়। প্রথমটায় করিম সাহেব দিতে না চাইলেও শেষ পর্যন্ত দুই বন্ধু মিলে অতিরিক্ত টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছে। এ বিষয়টি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের লেখক ও তার বন্ধু বাদলের কুড়িয়ে পাওয়া ডাবল টিনের বাক্স প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রথমে বাদল বাক্সটি ভেঙ্গে ফেলে তাতে টাকা পয়সা থাকলে তা দিয়ে সন্দেশ খাওয়ার কথা ভাবলেও শেষ পর্যন্ত তারা তা ফেরত দিয়েছে। এভাবে উদ্দীপকের করিম ও রহিম 'পড়ে পাওয়া' গল্পের লেখক ও তার বন্ধু বাদলের প্রতিনিধিত্ব করে।
উদ্দীপকের ক্যাশিয়ার 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কাপালি একই সূত্রে গাঁথা। মন্তব্যটি যথার্থ।
সততা একটি মহৎ গুণ। সৎ ব্যক্তি কখনো অন্যের জিনিসে লোভকরে না। অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে না। সৎ চিন্তা ও বিবেকবোধ মানুষকে সৎ পথে পরিচালিত করে, যা জীবনে প্রশান্তি বয়ে আনে।
উদ্দীপকে দুই বন্ধুর সততায়, এক ব্যাংক ক্যাশিয়ারের দশ হাজার টাকার হিসাবের গড়মিল থেকে বেঁচে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। করিম ও রহিম দুই বন্ধু ব্যাংক থেকে টাকা তোলার সময় ব্যাংক ক্যাশিয়ার ভুল করে দশ হাজার টাকা বেশি দেয়। দুই বন্ধুর সততায় ক্যাশিয়ার সেই টাকা ফেরত পেয়ে আসন্ন সংকট থেকে বেঁচে যায়। উদ্দীপকের এই ঘটনাটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কুড়িয়ে পাওয়া ডাবল টিনের বাক্সটি প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অম্বরপুরের এক কাপালি সেই বাক্সের মালিক। সে নির্বিষখোলার হাট থেকে ফেরার পথে বাক্সটি হারিয়ে ফেলে। তাতে মেয়ের বিয়ের জন্য গড়ানো আড়াইশো টাকার গহনা এবং পটল বেচা নগদ পঞ্চাশ টাকা ছিল।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের কাপালি হারানো বাক্সটি ফিরে পেয়ে আনন্দে অভিভূত হয়েছে। উদ্দীপকের ক্যাশিয়ারও ভুল করে বেশি দেওয়া দশ হাজার টাকা ফেরত পেয়ে উৎফুল্ল হয়েছে। এই দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'পড়ে পাওয়া' রচনাটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশোর গল্প।
'ওর মতো কত লোক আসবে'- বিধুর এ কথাটির অর্থ হলো লোভের বশবর্তী হয়ে বাক্সের মালিক না হয়েও অনেক লোক মালিকানা দাবি করতে আসবে।
মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে মিথ্যাকে সত্য করতে পারে, আর সত্যকে মিথ্যা করতে পারে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের কিশোররা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং সেটি প্রকৃত মালিকের হাতে বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি বাক্সটির মালিকানা দাবি করে। প্রকৃতপক্ষে সে মালিক নয়- এ উপলব্ধি থেকেই বিধু কথাটি বলেছে।
উদ্দীপকের আরিফ মানিব্যাগের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার পদক্ষেপ নেয় এবং বিধুরা বাক্সের প্রকৃত মালিক খোঁজার পদক্ষেপ নেয়-এ দিক থেকে বিধুদের সঙ্গে উদ্দীপকের আরিফকে তুলনা করা যায়।
সততা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া প্রত্যেক মানুষের কর্তব্য। নির্লোভ মানসিকতা মানুষকে মহৎ হতে শেখায়। সততা মানুষের মনে শান্তি দেয়।
উদ্দীপকের আরিফ টেক্সি ক্যাব চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। একবার একজন আরোহীকে গন্তব্যে পৌছে দিয়ে সে বিশ্রাম নিচ্ছিল। এমন সময় গাড়ির ভেতরে একটি মানিব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে এবং ব্যাগে অনেক ডলার দেখতে পায়। কিন্তু সে লোভের বশবর্তী না হয়ে মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাপানোর ব্যবস্থা করে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধুরাও টাকাভর্তি একটি বাক্স পড়ে পায়। ওরা বাক্সের প্রকৃত মালিকের কাছে বাক্সটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়। পড়ে পাওয়া জিনিস তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে উদ্দীপকের আরিফকে বিধুদের সঙ্গে তুলনা করা যায়।
কলেবরে ক্ষুদ্র হলেও আরিফ চরিত্রটি 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল সুরকেই ধারণ করে আছে। কথাটি যথার্থ।
অন্যের উপকার করার মধ্যেই প্রকৃত সুখ নিহিত। আর এজন্য প্রয়োজন সততা ও নির্লোভ মানসিকতা। নির্লোভ মানসিকতার অধিকারীরাই জীবনে জয়ী হয়।
উদ্দীপকের আরিফের মধ্যে নির্লোভ মানসিকতার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। কারণ আরিফ সামান্য ট্যাক্সিচালক হয়েও অন্যের টাকায় লোভ করেনি। তাই সে প্রকৃত মালিকের কাছে মানিব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের বিধু, নিধু, মিঠু, বাদলরাও আরিফের মতো নির্লোভ। তারাও টাকা ভর্তি বাক্স পেয়েও লোড করেনি।
আলোচ্য গল্পের কিশোররা সৎ, বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল। তাই প্রকৃত মালিককে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বাক্সটিকে সযত্নে রক্ষা করেছে। 'পড়ে পাওয়া' গল্পের মূল বিষয় সততা ও দায়িত্বশীলতা, যা উদ্দীপকের আরিফ চরিত্রের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃতিপ্রেমিক লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত।
"দুজনই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম।"- কথাটি দ্বারা কিশোরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতার দিকটি বোঝানো হয়েছে।
'পড়ে পাওয়া' গল্পের বাদল ও গল্পকথক একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পায়। বাক্সটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তারা মনে করে। তাই তারা এটি ভাঙতে চায়। কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে- 'না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এই বাক্সের মালিক তো তারা নয়। যে লোকের বাক্সটি সে হয়তো বাক্সের চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।' এই কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে যেন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বাক্সটির প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!