মাঠকর্ম হলো সমাজকর্মের বাস্তব জ্ঞান, নীতি ও দক্ষতা অর্জনে গৃহীত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কৌশল।
কেস ম্যানেজমেন্ট বলতে সামাজিক এজেন্সি থেকে লম্বা সময়ের জন্য সাহায্য গ্রহণকারীর সেবা পরিকল্পনা ও মনিটরিং প্রক্রিয়াকে বোঝায়।
এই সেবা কার্যক্রম সাহায্যার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য বা আইনগত বিষয়সহ যে কোনো ক্ষেত্রে পরিচালিত হতে পারে। মূলত এটি এমন এক পদ্ধতি যেখানে একজন পেশাদার সমাজকর্মী সাহায্যার্থী ও তার পরিবারের চাহিদার প্রেক্ষিতে সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
সমাধানে যথাযথ মূল্য ও মর্যাদা এবং সম্পদের সদ্ব্যবহার নীতি অনুসরণ করেন। তবে এছাড়া তিনি আরো বেশ কয়েকটি নীতি অনুসরণ করতে পারেন।
একজন শিক্ষানবিশ সমাজকর্মী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনার মাধ্যমে কেবল তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করে। এই জ্ঞানের পাশাপাশি প্রায়োগিক দক্ষতা অর্জনের জন্য তাকে মাঠকর্ম অনুশীলন করতে হয়। আর মাঠকর্ম অনুশীলনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাঠকর্ম সংশ্লিষ্ট নীতিমালা সঠিকভাবে অনুসরণ করা।
করিম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিষয়ের সম্মান শ্রেণির ছাত্র। শিক্ষানবিশ সমাজকর্মী হিসেবে সে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে কাজ করছে। এক্ষেত্রে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পরিপূর্ণ প্রয়োগ ঘটানোর জন্য তাকে মাঠকর্মের সকল নীতি অনুসরণের চেষ্টা করতে হবে। ইতোমধ্যেই সে সাহায্যার্থীর মূল্য ও মর্যাদা প্রদান এবং সম্পদের সদ্ব্যবহারের নীতির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এছাড়াও তাকে অংশগ্রহণ ও যোগাযোগের নীতি মেনে চলতে হবে। এক্ষেত্রে অংশগ্রহণ ও যোগাযোগের মাধ্যমে সে সাহায্যার্থীর সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। পাশাপাশি তাকে লক্ষ্য নির্ধারণের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এছাড়া সাহায্যার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তাকে গোপনীয়তার নীতি অনুসরণ করতে হবে। আবার প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ব্যাপারেও করিমকে খেয়াল রাখতে হবে। যেহেতু দুজন তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে কাজ করতে হবে এবং সবসময় ভালো কাজের মূল্যায়ন করতে হবে। মূলত এ নীতিগুলো অনুসরণ করলেই সে সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানে সফল হতে পারবে।
তাই বলা যায়, একজন প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে করিম উদ্দীপকে উল্লিখিত নীতিগুলো ছাড়াও আরো কিছু নীতি অনুসরণ করবে।
সমাজকর্মের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে করিমের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে মাঠকর্মের তাৎপর্য অপরিসীম।
সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবমুখী করে তুলতে মাঠকর্ম প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। শুধুমাত্র তাত্ত্বিক আলোচনার মাধ্যমে সমাজকর্মের নীতি, আদর্শ ও পদ্ধতিকে বিমূর্ত রূপ দেওয়া সম্ভব হয় না। কেননা, স্থান, কাল, পাত্র ভেদে সমাজকর্মের নীতি ও পদ্ধতির পরিবর্তন হয়। তাই তাত্ত্বিক জ্ঞানকে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে তার কার্যকারিতা, উপযোগিতা ও গ্রহণযোগ্যতা বস্তুনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এর ফলে একজন শিক্ষানবীশ সমাজকর্মী ভবিষ্যত কর্মপন্থা নির্ধারণ এবং দক্ষতা অর্জনে সমর্থ হন।
মাঠকর্ম শিক্ষায় সমাজকর্মের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয় করা হয়। কোনো বিষয়ের তাত্ত্বিক জ্ঞান যতই সমৃদ্ধ হোক না কেন তা ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা ছাড়া তার কার্যকারিতা ও উপযোগিতা পাওয়া যায় না। সেজন্যই সমাজকর্মে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের সংমিশ্রণ ঘটানো হয় যা একজন পেশাদার সমাজকর্মীর জন্য জরুরি। সমাজকর্মীরা শিক্ষানবিশ অবস্থায় অর্জিত তাত্ত্বিক জ্ঞান কোনো প্রতিষ্ঠানে মাঠকর্মের মাধ্যমে প্রয়োগ করার সুযোগ পায়। এভাবে নবীন সমাজকর্মীরা সমাজকর্মের নীতি চর্চার একটি বাস্তব পরিবেশ পায়। এর ফলে পরবর্তীতে তারা পেশাগত জীবনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো রকম অসুবিধার সম্মুখীন হয় না। এছাড়া সমাজকর্মী হিসেবে নিজের ও প্রতিষ্ঠানের সবল ও দুর্বল দিকসমূহ উপলব্ধি করার শিক্ষা মাঠকর্মের মাধ্যমে পাওয়া যায়। ফলে আত্মসমালোচনা ও নিজের কাজের বিশ্লেষণসহ সামগ্রিক বিষয় পর্যালোচনার সুযোগ মেলে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী নিজের এবং সমাজকর্ম পেশার নীতি ও পদ্ধতির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে সচেতন হয়। ফলস্বরূপ অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বাস্তবে অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় হয় এবং সে আত্মসচেতন হয়ে ওঠে।
Related Question
View AllRapport হচ্ছে সমাজকর্মীর সাথে সাহায্যার্থীর পেশাগত সম্পর্ক তৈরির প্রক্রিয়া।
সামাজিক কার্যক্রম হচ্ছে বাঞ্ছিত সামাজিক পরিবর্তন সাধন ও সমর্থন আদায়ের জন্যে পরিচালিত সুসংবদ্ধ প্রচেষ্টা।
সামাজিক কার্যক্রম একটি ধারাবাহিক ও সুশৃঙ্খল পদ্ধতি। এটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টায় জনগণের মধ্যে সচেতনতা আনয়ন করে সমাজের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলোকে সংশোধন বা পরিবর্তনের মাধ্যমে উন্নয়ন সাধন করে থাকে।
সমাজকর্মের অন্যতম শাখা সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম হীরার সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারে।
সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তিদের সহায়তায় ভূমিকা রাখে। একজন ব্যক্তি বিভিন্ন কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে। এসময় তার পক্ষে সবার সাথে স্বাভাবিক আচরণ করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়ে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম কাজ করে। এক্ষেত্রে এটি মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির সম্পর্কে অনুধ্যান করে সে অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা প্রদান করে। উদ্দীপকের হীরার সমস্যা সমাধানেও এ শাখা কাজ করতে পারে।
উদ্দীপকের হীরা সৌদি আরব গিয়ে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করার সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। এক পর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং অসংলগ্ন আচরণ শুরু করে। হীরার মতো মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের সমস্যা সমাধানে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম কাজ করে থাকে। তাই বলা যায়, হীরার সমস্যা সমাধানে সাইকিয়াট্রিক সমাজকর্ম কাজ করতে পারে।
হীরাকে সুস্থ করে তুলতে সমাজকর্মী হিসেবে লুনা মাঠকর্মের সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও হস্তক্ষেপ কৌশলের প্রয়োগ ঘটাতে পারে।
সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ মাঠকর্মের মাধ্যমে ঘটানো হয়। মাঠকর্মের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কৌশল হলো সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও হস্তক্ষেপ। সমস্যা নির্ধারণ ও পরিকল্পনা কৌশল প্রয়োগ করে সমাজকর্মী সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যা চিহ্নিত করতে সক্ষম হন। সেইসাথে তিনি সমস্যা সমাধানে পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। যোগাযোগ কৌশলের মাধ্যমে সমাজকর্মী সাহায্যার্থীর সাথে সমাজে বিদ্যমান কর্মসূচির সংযোগ ঘটান যা ব্যক্তির সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে হস্তক্ষেপ কৌশলের মাধ্যমে সমাজকর্মী সাহায্যার্থীকে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য প্রদান, সমস্যা মোকাবিলায় তাকে সক্ষমকরণ, নির্দেশনা মেনে চলতে সহায়তাকরণ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য তার সাথে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এর ফলে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি নিজ সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম হয়।
উদ্দীপকের হীরা মানসিকভাবে অসুস্থ। সে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিউটে চিকিৎসা নিচ্ছে। সমাজকর্মের ছাত্রী লুনা তার কেসটি নিয়ে কাজ করছে। এক্ষেত্রে লুনা উপরোল্লিখিত কৌশলগুলো প্রয়োগের মাধ্যমে হীরার সমস্যা নির্ণয় করে তাকে সেবা প্রদানের জন্য একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি লুনা হীরার সাথে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচির সংযোগ ঘটিয়ে তাকে সেবা সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য ও মানসিকভাবে সমর্থন দেবে। তার এ ছোট পদক্ষেপগুলোই তাকে সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে পারে। এছাড়াও লুনা হীরার সাথে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। সেইসাথে হীরাকে যেসব নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে তা মেনে চলতে সহায়তা করতে পারে যা হীরার সুস্থ হওয়ায় সহায়ক হবে।
তাই বলা যায়, লুনা মাঠকর্মের সমস্যা নির্ধারণ, পরিকল্পনা, যোগাযোগ ও হস্তক্ষেপ কৌশল প্রয়োগ করে হীরাকে সুস্থ করে তুলতে পারে।
সমাজকর্ম একটি পেশাগত সেবাদান প্রক্রিয়া।
মনো-সামাজিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর ও বাস্তবমুখী সমাধান কৌশল প্রণয়ন করায় সমাজকর্ম বর্তমান বিশ্বে ক্রমশই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সমাজকর্ম তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তবে প্রয়োগ করার মাধ্যমে মানুষকে সরাসরি সেবা প্রদান করে। একজন শিক্ষার্থী তার অর্জিত জ্ঞানের বাস্তবে প্রয়োগ ঘটিয়ে মানুষের বহুমুখী সমস্যার সমাধানে অংশ নিতে পারে। একই সাথে এসব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে পারে বলেই বর্তমান বিশ্বে সমাজকর্ম এত জনপ্রিয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!