রাজনৈতিক দল বলতে একটি সংগঠিত নাগরিক সমষ্টিকে বোঝায়, যারা দলীয় আদর্শ প্রচারের মাধ্যমে জনমত গঠনের মধ্য দিয়ে বৈধ উপায়ে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে।
আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশের আয়তন ও জনসংখ্যার কারণে এখানে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র, চর্চা করা কঠিন।
আধুনিক রাষ্ট্র আয়তনে বিশাল। এর জনসংখ্যাও বেশি।
তাই আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র চর্চা করা কঠিন।
উদ্দীপকের নির্বাচনটি পদ্ধতিগতভাবে প্রত্যক্ষ ধরনের।
যে প্রক্রিয়ায় বা পদ্ধতির মাধ্যমে রাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিরা সার্বজনীন ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দ অনুযায়ী প্রতিনিধি বাছাই করে তাকেই নির্বাচন বলে। নির্বাচন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হতে পারে। উদ্দীপকের করিম সাহেব 'স্কুল কেবিনেট' নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোটের আয়োজন করেছেন। পদ্ধতিগতভাবে এটি প্রত্যক্ষ নির্বাচন। যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভোটারগণ সরাসরি ভোেট প্রদানের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে তাকে প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি বলা হয়। বাংলাদেশে উক্ত নির্বাচন পদ্ধতিই চালু রয়েছে।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের সরাসরি ভোট প্রদানের মাধ্যমে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রমাণ করে এটি পদ্ধতিগতভাবে প্রত্যক্ষ ধরনের।
হ্যাঁ, রুবেল তার কর্মকান্ডের জন্য যে শাস্তি পেয়েছে ১৯৭২ সালে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী রুবেল একই শাস্তি পেত।
উদ্দীপকের রুবেলের কর্মকাণ্ডে লক্ষ করা যায়, তিনি নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ অনুযায়ী নির্বাচনি অপরাধ ও তার দণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। সংক্ষেপে অপরাধসমূহ ও তার দণ্ডগুলো হলো- ১. নির্ধারিত নির্বাচনি ব্যয়ের বিধান লঙ্ঘন করা। ২. ঘুষ গ্রহণ করা। ৩. জাল ভোট দেওয়া বা ছদ্মনামে ভোট দেওয়া। ৪. নির্বাচনে অসংগত প্রভাব খাটানো, জোরজবরদস্তি করে ভোট আদায় করা বা ভোটদানে বাধা সৃষ্টি করা। ৫. প্রার্থী বা তার আত্মীয়স্বজনের চরিত্র সম্পর্কে মিথ্যা বলা। ৬. কোনো প্রার্থীর প্রতীক সম্পর্কে মিথ্যা বলা। ৭. কোনো প্রার্থীতা প্রত্যাহার সম্পর্কে মিথ্যা বলা। ৮. জাতি, ধর্ম, বর্ণ ইত্যাদি কারণে কোনো প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে ভোটদান সম্পর্কে বলা। ৯. ভোটকেন্দ্রের কোনো ভোটারকে ভোট না দিয়ে যেতে বাধ্য করা। ১০. বেআইনি আচরণ করা এবং ১১. সভা ও মিছিলের ওপর আরোপিত নিষেধ লঙ্ঘন দুর্নীতিমূলক অপরাধ। এছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স নষ্ট করা, কেন্দ্র হতে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া, ব্যালট পেপার বা সরকারি মার্কা জাল করা, ভোট কেন্দ্র দখল এবং ভোট প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাও গুরুতর নির্বাচনি অপরাধ। উপরিউক্ত যেকোনো অপরাধের জন্য জরিমানাসহ ক্ষেত্র বিশেষে ১০ বছর এবং কমপক্ষে ২ বছর সশ্রম কারাদন্ড হতে পারে। এ সকল নির্বাচনসংক্রান্ত অপরাধের জন্য উপযুক্ত আদালতে মামলা দায়ের করা যায়। তবে নির্বাচন কমিশনের লিখিত অনুমোদন ব্যতীত নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা যাবে না।
Related Question
View Allরাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার রাজনৈতিক দল সম্পর্কে বলেছেন, “যারা কতকগুলো সুনির্দিষ্ট নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং সাংবিধানিক উপায়ে সরকার গঠন করতে চেষ্টা করে, সেই জনসমষ্টিকে রাজনৈতিক দল বলা হয়।”
বাংলাদেশে নির্বাচনসমূহ পরিচালনার জন্য যে সাংবিধানিক সংস্থা রয়েছে তার নাম নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কয়েকজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনারদের নিয়োগদান করেন। নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ পাঁচ বছর।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের প্রক্রিয়াটি আমার পঠিত পরোক্ষ গণতন্ত্রের বিষয়বস্তুর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পরোক্ষ গণতন্ত্র বলতে সাধারণত নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্য পরিচালনা করার পদ্ধতিকে বোঝায়। যেমনটি মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়েছে। মিতুলদের ক্লাবে অধিকাংশ সদস্যই সাধারণ সম্পাদক হতে চায়। কেউ কাউকে ছাড় দিতে না চাওয়ায় অবশেষে সবাই মিলে কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে একজন সম্পাদক বাছাই করার জন্য। উক্ত ক্ষমতা প্রাপ্ত ব্যক্তিগণ পরবর্তীতে তাদের ক্লাবের একজন সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এখানে সবাই মিলে সাধারণ সম্পাদক বাছাই না করে তারা কয়েকজনকে ক্ষমতা অর্পণ করে। আর সেই ক্ষমতাপ্রাপ্তরা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করে। এটি পরোক্ষ গণতন্ত্রের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
"বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে।" উক্তিটি যথার্থই সঠিক।
মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা হয়েছে পরোক্ষ পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে সাধারণত নাগরিকগণ সরাসরি অংশগ্রহণ না করে প্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনকার্যে অংশ নেয়। কিন্তু মিতুলদের ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়ায় যে দুর্বলতা কাজ করেছে তা হলো সততা ও নৈতিকতা বিচার না করে সাধারণ সম্পাদক বাছাই করা। বাছাইকৃত সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে সততা ও নৈতিকতা থাকলে তাকে কিছু ব্যক্তির স্বার্থের জন্য বিতর্কিত হতে হতো না। অতএব, বাছাই প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিরসন করতে পারলেই সম্পাদক বাছাই প্রক্রিয়াটি সর্বোত্তম হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিজ স্বার্থের প্রতি লক্ষ রেখে শাসনকার্য পরিচালনা করলে নিরপেক্ষতা নষ্ট হয় এবং এতে করে গণঅসন্তোষ দেখা দেয়। নির্বাচিত প্রার্থী যদি সততা ও নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে নিজ স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট হয় তবে তিনি জনসমর্থন হারিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হবেন।
প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে- 'গণতন্ত্র হলো, জনগণের, জনগণের জন্য ও জনগণ দ্বারা নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা।'
যে নির্বাচন পদ্ধতিতে ভোটারগণ ভোেট দিয়ে সরাসরি প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনি সংস্থা তৈরি করে তাকে ইলেক্টোরাল কলেজ বা নির্বাচকমণ্ডলী বলে। এ নির্বাচনি সংস্থা চূড়ান্তভাবে প্রতিনিধি বা রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন করে। যেমন- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে এ পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!