সুচেতনা' কবিতায় বিকেলের নক্ষত্রের কাছে আছে এক দূরতর দ্বীপ।
পৃথিবীতে মানুষের আলোকিত ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরম আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতাকে কবি শেষ সত্য বলে মনে করেন না।
পৃথিবীতে সভ্যতার বিকাশের পাশাপাশি বহু যুদ্ধ-রক্তপাত-প্রাণহানি সংঘটিত হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষের জীবনের বিফলতা ও সফলতা অতীতেও ছিল, এখনো আছে। কিন্তু কবির স্থির বিশ্বাস রণ রক্তের বীভৎসতা থেকে ভবিষ্যতে পৃথিবীর মানুষের মুক্তি মিলবে। আর এই আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে পৃথিবীর রণ রক্ত সফলতাকে কবি শেষ সত্য বলে মনে করেন না।
উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতার- পৃথিবীর ক্রমমুক্তির পথে মানুষের অবদানের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'সুচেতনা' কবিতায় জীবনানন্দ দাশ পৃথিবীর গভীরতর অসুখের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমাদের দৃষ্টি ফেরান সম্ভাবনাময় পৃথিবী নির্মাণে মানুষের অবদানের দিকে। কবির বিশ্বাস মানুষ শুভচেতনার আলো জ্বেলে পৃথিবী ক্রমমুক্তির পথে এগিয়ে নেবে। তাতে হয়তো অনেক আত্মত্যাগ প্রয়োজন হবে কিন্তু সামষ্টিক মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়াসে নিশ্চয়ই পৃথিবীর মুক্তি মিলবে।
উদ্দীপকে আমরা একজন শুভচেতনাসম্পন্ন মানুষের কথা জানতে পারি। আরব আমিরাত প্রবাসী বাংলাদেশি তরুণ রাহাত নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে মানববতার কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। রাহাত যেন 'সুচেতনা' কবিতায় উল্লিখিত 'ক্লান্ত-ক্লান্তিহীন নাবিক' বা 'অনেক শতাব্দীর মনীষীর' একজন, যিনি শত প্রতিবন্ধকতার মাঝেও শুভচেতনার আলো জ্বেলে পৃথিবীর ক্রমমুক্তির পথে অবদান রাখবেন।
সুন্দর সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে মানুষের মানবিক অবদানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে 'সুচেতনা' কবিতা ও আলোচ্য উদ্দীপকে।
সুচেতনা' কবিতায় সভ্যতার সংকট ও তা থেকে উত্তরণের পথনির্দেশ থাকলেও উদ্দীপকে সংকটের প্রতিচ্ছবি অনুপস্থিত।
আলোচ্য কবিতায় 'সুচেতনা' সম্বোধনে কবি তাঁর প্রার্থিত, আরাধ্য এক চেতনানিহিত বিশ্বাস শিল্পিত করেছেন। করিব বিশ্বাসমতে, চেতনাগত এই সত্যই পৃথিবীর ক্রমমুক্তির আলোকে প্রজ্বালিত রাখবে, মানবসমাজের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করবে। এই চেতনার সঙ্গে কবিতায় কবি তাঁর ইতিহাসবোধ, প্রকৃতিমুগ্ধতা এবং নির্জনতাপ্রিয় মানসিকতার সন্নিবেশ ঘটিয়েছেন।
উদ্দীপকটিতে রাহাতের কাজ কবির প্রার্থিত শুভচেতনার ইঙ্গিত বহন করে। করোনাভাইরাসের থাবায় যখন বিশ্ব বিপর্যস্ত তখন রাহাত নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। কবির মতো তিনিও চান, মানুষের কল্যাণ এবং বিপর্যয় থেকে পৃথিবীর মুক্তি।
তবে পৃথিবীর ক্রমমুক্তিকামী মানসিকতার এমন সাযুজ্য সত্ত্বেও কবিতার কিছু প্রসঙ্গ, উদ্দীপকে অনুপস্থিত। 'সুচেতনা' কবিতায় কবি যে ইতিহাস ও সময় চেতনার পরিচয় দিয়েছেন তা নেই উদ্দীপকে। প্রেম, সত্য ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার মাঝেও যে অনেক বিয়োগান্ত ঘটনা ঘটে কবি তার উল্লেখ করতে ভোলেননি। উদ্দীপকে এ বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত নেই। অন্যদিকে কবিতায় কবির প্রকৃতি-মুগ্ধতার বিষয়টি সচেতন পাঠকের অনুভূতিতে সাড়া জাগায়; উদ্দীপকে প্রকৃতি-সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের অবতারণা করা হয়নি। আর এ বিবেচনায় বলা যায়, "উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতার সমগ্র দিক উন্মোচিত হয়নি।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'সুচেতনা' কবিতাটি জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ থেকে চয়ন করা হয়েছে।
পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন'- উক্তিটিতে কবির সমসাময়িক পৃথিবীতে বিরাজমান ধ্বংসোম্মুখ অবস্থার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।
মানবপ্রেমী কবি তাঁর সমকালীন পৃথিবীতে মানুষে মানুষে বিরাজমান অসহিষ্ণুতার ভয়ংকর রূপ প্রত্যক্ষ করেছেন। অগণিত প্রাণহানি, রক্তপাতের ঘটনা তাঁকে মর্মাহত করেছে। এই ধ্বংসাত্মক রূপকে তিনি পৃথিবীর 'গভীর গভীরতর অসুখ' হিসেবে চিহ্নিত করেছেন; যার পরিসমাপ্তিই কবির একমাত্র প্রত্যাশা।
উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতায় বর্ণিত পৃথিবীতে বিদ্যমান অশুভ চেতনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
'সুচেতনা' কবিতাটিতে কবি অশুভ চেতনার স্থলে শুভ চেতনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। কবি প্রত্যক্ষ করেছেন পৃথিবীতে অন্ধকার তথা অশুভ শক্তির ভয়ংকর বিস্তার। স্বার্থের দ্বন্দ্বে মানুষ লিপ্ত, ভালোবাসার পরিণামে পৌছাতে স্বীকার করতে হয় বহু আত্মত্যাগ। পৃথিবীব্যাপ্ত এ গভীর অসুখ বা বিপর্যয় থেকে মানুষের মুক্তি প্রয়োজন। আর একমাত্র শুভচেতনার আলো প্রজ্বালনের মাধ্যমেই তা সম্ভব।
উদ্দীপকের কবিতাংশে পৃথিবীব্যাপী অশুভ শক্তির প্রতাপ পরিলক্ষিত হয়। সমাজের সর্বস্তরে অযোগ্য দুশ্চরিত্র লোকেরাই সর্বেসর্বা। পক্ষান্তরে জ্ঞানী-গুণীরা অবহেলিত। পৃথিবীর বৈষম্যময় সমাজব্যবস্থাই মূলত এর জন্য দায়ী। 'সুচেতনা' কবিতার বিষয়বস্তুতেও আমরা পৃথিবীতে এমন অশুভ শক্তির বিস্তার লক্ষ করি। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকটিতে আলোচ্য কবিতায় বর্ণিত পৃথিবীতে বিদ্যমান অশুভ চেতনার দিকটিই প্রতিফলিত হয়েছে
উদ্দীপকে কেবল পৃথিবীব্যাপী অশুভ শক্তির বিস্তারের বিষয়টি উঠে এলেও 'সুচেতনা' কবিতার আশাবাদের দিকটি উন্মোচিত হয়নি।
'সুচেতনা' কবিতাটিতে কবি তাঁর প্রার্থিত, আরাধ্য এক চেতনানিহিত বিশ্বাসকে শিল্পিত করেছেন। যে চেতনা পৃথিবীতে বিরাজিত সকল অন্যায়, অনিয়ম, যুদ্ধ, মৃত্যুসহ যাবতীয় গভীরতর ব্যাধিকে অতিক্রম করে সুস্থ ইহলৌকিক পৃথিবীর মানুষকে জীবন্ময় করে রাখবে। কবির মতে, জীবন্মুক্তির এই চেতনাগত সত্যই পৃথিবীতে ক্রমমুক্তির আলোকে প্রজ্বালিত রাখবে, মানবসমাজের অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করবে। ইতিবাচক এ আলো প্রজ্বালনের মাধ্যমেই সকল অশুভ শক্তি থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
উদ্দীপকে, পৃথিবীতে এক অদ্ভুত আঁধারের বিস্তার দেখানো হয়েছে। যে আঁধারে অযোগ্যরাই যোগ্যতর হিসেবে মর্যাদা লাভ করে আর যোগ্য ব্যক্তিরা হয় অবমূল্যায়িত। পৃথিবী যেন আজ অযোগ্য মানুষদের পরামর্শ ও নেতৃত্বেই চলছে। যোগ্য, জ্ঞানী, মহৎ মানুষদের মর্যাদা আজ নেই। উদ্দীপকের মতো সামাজিক সংকটের প্রতিচ্ছবি 'সুচেতনা' কবিতায়ও বিদ্যমান। তবে কবিতায় এ সংকট উত্তরণে মুক্তির পথের দিশারও অনুসন্ধান করা হয়েছে।
উদ্দীপক ও 'সুচেতনা' কবিতার বিষয়বস্তু পর্যালোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে কেবল পৃথিবীতে বিরাজমান অশুভ শক্তির প্রভাবের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে, যা 'সুচেতনা' কবিতার একটি মাত্র দিক। 'সুচেতনা' কবিতায় এ বিষয়টি ছাড়া আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়ের সমাবেশ ঘটেছে। অশুভ শক্তির স্থলে শুভশক্তির বা শুভ চেতনার বিজয় কবিতাটিতে তাৎপর্যপূর্ণ রূপ লাভ করেছে। ইতিবাচক এ চেতনার মাধ্যমেই সকল বিপর্যয় থেকে পৃথিবী ও মানুষের মুক্তি ঘটবে- এমন আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, "উদ্দীপকটিতে 'সুচেতনা' কবিতার সমগ্র দিক উন্মোচিত হয়নি।" উক্তিটি যথার্থ।
কবি জীবনানন্দ দাশের মায়ের নাম কুসুমকুমারী দাশ
কবির সুচেতনা মূলত শুভচেতনা বা শুভবোধের স্মারক।
সুচেতনা মূলত কবির এক ধরনের চেতনাজাত বিশ্বাস, যা সমস্ত নেতিবাচকতা ধ্বংস করে এবং ইতিবাচক চিন্তার বিকাশ ঘটায়। কবির দৃষ্টিতে এটি তাঁর চেতনাগত সত্য। সংগত কারণেই পৃথিবীর নানা অভিঘাতে বা রক্তপাতের ঘটনায় এর কোনো পরিবর্তন হয় না। এ সত্যই শেষ পর্যন্ত আমাদের এক আলোয় ভরা, সুখী ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবীর স্বপ্ন দেখায়। তবে এই চেতনা দূরবর্তী এক দ্বীপের মতোই অধরা। এর বিস্তার সর্বত্র হলেও সব জায়গায় এটি উপস্থিত নয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!