কোনো একটি প্রকল্পে বিনিয়োগ করার ফলে অন্য আরেকটি প্রকল্পে বিনিয়োগের সুযোগ ত্যাগ করাকেই সুযোগ ব্যয় বলে।
যে সকল প্রকল্প অন্যটির সাথে প্রতিযোগিতা করে তাদের পরস্পর বর্জনশীল প্রকল্প বলে।
পরস্পর বর্জনশীল প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলে বাকিগুলোকে বর্জন করা হয়। অর্থাৎ এ ধরনের প্রকল্পগুলোর মধ্য থেকে কেবল একটি গ্রহণ করা হয় এবং অন্যগুলো বাতিল করা হয়। যেমন : কোনো প্রতিষ্ঠানের একটি মেশিন ক্রয়ের প্রয়োজন এবং বাজারে উক্ত মেশিনটির তিনটি ব্র্যান্ড রয়েছে। ফলে কোম্পানি যেকোনো একটি ব্র্যান্ডের মেশিন ক্রয় করবে এবং অন্যগুলো বাতিল করবে।
কর্ণফুলী কোম্পানির মূলধন ফেরতকাল বা পে-ব্যাক সময় নির্ণয় :
ক্রমযোজিত নগদ আন্তঃপ্রবাহ নির্ণয় :
বছর | নগদ আন্তঃপ্রবাহ | ক্রমযোজিত নগদ আন্তঃপ্রবাহ' |
১ (A) | ৪৪,০০০ | ৪৪,০০০(C) |
২ | ৪৫,০০০ (D) | ৮৯,০০০ |
৩ | ৬৫,০০০ | ১,৫৪,০০০ |
আমরা জানি
পে-ব্যাক সময় (PBP) = A +
= ১+
= ১ + ০.১৩
= ১.১৩ বছর
সুতরাং কর্ণফুলী কোম্পানির মূলধনের ফেরতকাল ১.১৩ বছর।
কর্ণফুলী কোম্পানির গড় আয়ের হার নির্ণয়:
করপরবর্তী নিট মুনাফা নির্ণয় :
বিবরণ | টাকার পরিমাণ | ||
নগদ আন্তঃপ্রবাহ বাদ: ভগ্নাবশেষ মূল্য বাদ: অবচয় করপরবর্তী নিট মুনাফা | বছর ১ | বছর ২ | বছর ৩ |
৪৪,০০০ ১৫,০০০ | ৪৫,০০০ ১৫,০০০ | ৬৫,০০০ ৫,০০০ ১৫,০০০ | |
২৯,০০০ | ৩০,০০০ | ৪৫,০০০ | |
এখানে,
বার্ষিক অবচয় = প্রাথমিক বিনিয়োগ - ভগ্নাবশেষ মূল্য/আয়ুষ্কাল
টাকা
গড় করপরবর্তী নিট মুনাফা =
= ৩৪,৬৬৬.৬৭ টাকা
গড় বিনিয়োগ = প্রাথমিক বিনিয়োগ + ভগ্নাবশেষ মূল্য/২
টাকা
আমরা জানি,
গড় আয়ের হার (ARR) = গড় করপরবর্তী নিট মুনাফা/গড় বিনিয়োগ/× ১০০
= ১২৬.০৬%
সুতরাং কর্ণফুলী কোম্পানির গড় আয়ের হার ১২৬.০৬% এবং সুযোগ ব্যয়ের হার ১৮%। অর্থাৎ সুযোগ ব্যয় অপেক্ষা গড় আয়ের হার বেশি। এমতাবস্থায় বলা যায়, কর্ণফুলী কোম্পানির বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত সঠিক
Related Question
View Allপরস্পর বর্জনশীল প্রকল্প হলো সেই সকল প্রকল্প যেগুলো একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে অর্থাৎ একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলে অপর প্রকল্পটি অবশ্যই বাতিল করতে হয়।
যে পদ্ধতির মাধ্যমে বিনিয়োগকৃত অর্থ কত সময়ের মধ্যে ফেরত আসবে তা জানা যায় তাকে পে-ব্যাক সময় পদ্ধতি বলে।
পে-ব্যাক সময় পদ্ধতি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বা প্রকল্প মূল্যায়নের একটি সহজ ও জনপ্রিয় পদ্ধতি। এ পদ্ধতি অনুসারে যে প্রকল্পের পে-ব্যাক সময় যত কম সে প্রকল্পটি তত গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। পে-ব্যাক সময় পদ্ধতিতে মুনাফার পরিবর্তে নগদ প্রবাহ বিবেচনা করা হয়।
উদ্দীপকের প্রকল্পটির গড় মুনাফার হার নির্ণয় :
করপরবর্তী নিট মুনাফা নির্ণয়
বিবরণ | টাকার পরিমাণ | |||
১ম বছর | ২য় বছর | ৩য় বছর | ৪র্থ বছর | |
করপূর্ব নগদ প্রবাহ বাদ: অবচয় | ৮০,০০০ ৫০,০০০ | ৭০,০০০ ৫০,০০০ | ৮০,০০০ ৫০,০০০ | ১,০০,০০০ ৫০,০০০ |
করপূর্ব মুনাফা বাদ: কর ৪০% | ৩০,০০০ ১২,০০০ | ২০,০০০ ৮,০০০ | ৩০,০০০ ১২,০০০ | ৫০,০০০ ২০,০০০ |
করপরবর্তী নিট মুনাফা | ১৮,০০০ | ১২,০০০ | ১৮,০০০ | ৩০,০০০ |
এখানে
স্থির কিস্তি পদ্ধতিতে অবচয় = প্রাথমিক বিনিয়োগ - ভগ্নাবশেষ মূল্য/আয়ুষ্কাল
=
= ৫০,০০০ টাকা
গড় করপরবর্তী নিট মুনাফা
= ১৯,৫০০ টাকা।
গড় বিনিয়োগ = প্রাথমিক বিনিয়োগ + ভগ্নাবশেষ মূল্য/ ২
= ১,০০,০০০ টাকা
আমরা জানি,
গড় মুনাফার হার (ARR) = গড় করপরবর্তী নিট মুনাফা/গড় বিনিয়োগ/× ১০০
= ১৯.৫০%
সুতরাং উদ্দীপকের প্রকল্পটির গড় মুনাফার হার ১৯.৫০%।
উদ্দীপকের প্রকল্পটির নিট বর্তমান মূল্য নির্ণয় :
নগদ আন্তঃপ্রবাহ নির্ণয় :
| বিবরণ | টাকার পরিমাণ | |||
| ১ম বছর | ২য় বছর | ৩য় বছর | ৪র্থ বছর | |
করপরবর্তী নিট মুনাফা ('গ' নং থেকে প্রাপ্ত) যোগ: অবচয় নগদ আন্তঃপ্রবাহ | ১৮,০০০ ৫০,০০০ | ১২,০০০ ৫০,০০০ | ১৮,০০০ ৫০,০০০ | ৩০,০০০ ৫০,০০০ |
| ৬৮,০০০ | ৬২,০০০ | ৬৮,০০০ | ৮০,০০০ | |
আমরা জানি
নিট বর্তমান মূল্য
= ১৮,৭৮৮.৩৪ টাকা
সুতরাং প্রকল্পটির নিট বর্তমান মূল্য ১৮,৭৮৮.৩৪ টাকা অর্থাৎ ধনাত্মক। ধনাত্মক নিট বর্তমান মূল্য প্রকল্পের লাভজনকতা নির্দেশ করে। এমতাবস্থায় বলা যায়, উদ্দীপকের প্রকল্পটি গ্রহণযোগ্য
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে মূলধন বাজেটিং বলে।
মূলধনের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রকল্পের লাভজনকতা বিচার করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থাপনা কর্তৃক প্রকল্পে মূলধন বরাদ্দ দেওয়াকে মূলধন রেশনিং বলে।
মূলধন রেশনিংয়ের ক্ষেত্রে মূলধন বাজেটিং পদ্ধতি যেমন : নিট বর্তমান মূল্য, আন্তঃআয় হার ইত্যাদি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকল্পের লাভজনকতা নির্ণয় করা হয়। পরবর্তীতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লাভজনক প্রকল্পের ক্রমানুসারে বরাদ্দকৃত মূলধন পর্যন্ত প্রকল্প গ্রহণ করা হয় এবং অবশিষ্ট প্রকল্প বিলম্ব বা বাতিল করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!