পলাশীর যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন।
ডুপ্লে ছিলেন ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠিত ফরাসি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহের গভর্নর।
ফরাসি সরকার জোসেফ ফ্রান্সিস ডুপ্লেকে ভারতবর্ষে তাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহের গভর্নর নিযুক্ত করে। ডুপ্লে ছিলেন অতিমাত্রায় সাম্রাজ্যবাদী। কিন্তু ইংরেজদের সাথে প্রতিযোগিতায় তিনি টিকে থাকতে পারেননি। তাছাড়া ফরাসি কোম্পানির সাংগঠনিক দক্ষতার অভাব ছিল। ভারতবর্ষে ফরাসি কোম্পানির শক্তিশালী নৌবহর ছিল না। ভারতবর্ষে ফরাসি উপনিবেশ প্রতিষ্ঠায় ডুপ্লে ব্যর্থ হয়েছিলেন।
উদ্দীপকের অনুরূপ ভারতে যে সকল ইউরোপীয় জাতি আগমন করে তাদের মধ্যে প্রথম হলো পর্তুগিজরা। তারা নানা ইতিবাচক এবং নেতিবাচক কর্মকাণ্ড দ্বারা ভারত উপমহাদেশে পরিচিত হয়ে আছে।
১৪৯৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামার ভারতীয় জলপথ আবিষ্কারের মধ্যদিয়ে এদেশে ইউরোপীয় বণিক হিসেবে পর্তুগিজদের আগমন ঘটে, যেমনটি দেখা যায়, কলম্বাসের আমেরিকা প্রবেশের জলপথ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে ইউরোপীয় জাতিসমূহের আমেরিকায় পাড়ি জমানোর ক্ষেত্রে।
বণিকবেশে আগমন করে পর্তুগিজরা এদেশে রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় লিপ্ত হয়। ১৫০৫ সালে ভারতে প্রথম পর্তুগিজ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫০৯ সালে তারা ফিউর যুদ্ধে জয়ী হয়ে ভারত মহাসাগরের কৌশলগত কর্তৃত্ব দখল করে। এরপর তারা একে একে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। বিভিন্ন স্থানে কুঠি নির্মাণ করে ব্যবসায়িক প্রাধ্যান্য সৃষ্টি করে। তারা বাংলায় ব্যাপকভাবে খ্রিষ্টীয় মিশনারি কার্যক্রম শুরু করে। তারা বাংলার নবাবের আইন ভঙ্গ করে বিনা শুল্কে বাণিজ্য করতে থাকে। তারা জোর করে এদেশের মেয়েদের বিয়ে করত। এরা নানা অত্যাচার-নির্যাতন করে এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে বিদেশে দাস-দাসী হিসেবে বিক্রি করত। তবে বাংলায় এদের অবদানও কম নয়। খাদ্য, পোশাক, শিক্ষা, ধর্ম-ভাষা প্রভৃতি ক্ষেত্রে এদের যথেষ্ট অবদান পরিলক্ষিত হয়। তারা এদেশে নানা ধরনের কৃষিপণ্যের প্রচলন শুরু করে। বাংলা ভাষায় এখনও বহু পর্তুগিজ শব্দ সুপ্রচলিত। সুতরাং দেখা যায়, ভালো-মন্দ উভয়ের সংমিশ্রণে, পর্তুগিজরা এদেশে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে।
পর্তুগিজ বণিকদের অনৈতিক কর্মকাণ্ডই তাদের ভারতবর্ষ থেকে বিতাড়নের পথকে সুগম করেছিল।
১৪৯৮ খ্রিষ্টাব্দে পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন। এরপর বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে পর্তুগিজ বণিকরা এদেশে আসতে থাকে। তারা ভারতবর্ষের পশ্চিম উপকূলের বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দিউ এসব স্থানে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে।
ব্যবসা-বাণিজ্য করার পাশাপাশি অনেক পর্তুগিজরা নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিল। তারা অনেক সময় দিল্লির মুঘল সম্রাট কিংবা বাংলার নবাবের আইন অমান্য করে শুল্ক না দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করত। সুযোগ পেলেই তারা স্থানীয় সাধারণ মানুষকে অত্যাচার ও তাদের ওপর লুঠপাট চালাত। পর্তুগিজ জলদস্যুরা ডাকাতির পাশাপাশি এদেশের মানুষদের ধরে নিয়ে বিদেশের বাজারে দাস-দাসী হিসেবে বিক্রি করত। তাছাড়া পর্তুগিজ 'সেনারা অনেক সময় জোর করে এদেশের মেয়েদের বিয়ে করত। পাশাপাশি মিশ্র বিবাহনীতি, শাসনব্যবস্থায় অনিয়ম, বালক-বালিকাদের জোর করে খ্রিষ্টান বানানো এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্তুগিজদের পতনকে ত্বরান্বিত করে। পর্তুগিজরা মুঘল সম্রাটদের আনুগত্য স্বীকার করত না। চট্টগ্রাম ও হুগলির পর্তুগিজ উপনিবেশ প্রায় স্বাধীনভাবেই চলত। তাদের আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং শক্তিশালী নৌবাহিনী একপর্যায়ে মুঘল সম্রাট এবং বাংলার নবাবদের কাছে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পর্তুগিজদের দস্যুতা ও অত্যাচার বেড়ে গেলে সম্রাট শাহজাহানের নির্দেশে কাসিম খান পর্তুগিজদের হুগলি কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন। এমন প্রেক্ষাপটে এদেশে ইংরেজসহ ইউরোপের অন্য শক্তিগুলোর উত্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত পর্তুগিজরা ভারতে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়।
Related Question
View Allপলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ৫০টি কামান ব্যবহার করেন।
নবাবের আদেশ অমান্য করে দুর্গ নির্মাণ করা ও মসনদে বসার পর তাকে প্রথামত সম্মান না জানানোয় ইংরেজদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা।
সিরাজ-উদ-দৌলা ক্ষমতায় বসার সময় ইংরেজরা কলকাতায় এবং ফরাসিরা চন্দননগরে দুর্গ নির্মাণ করছিল। ব্যবসায়ীদের দুর্গের দরকার নেই এবং নবাবের বাহিনী নিরাপত্তা দেবে এ কথা বলে নবাব তাদের দুর্গ নির্মাণের কাজ বন্ধের আদেশ দেন। এ আদেশ ফরাসিরা মানলেও ইংরেজরা অমান্য করে। তাছাড়া নতুন নবাব হিসেবে মসনদে বসার পর ইংরেজরা সিরাজ-উদ-দৌলাকে প্রথামত সম্মান জানায়নি। এজন্য নবাব তাদের ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন।
উদ্দীপকে বর্ণিত আফ্রিকার দেশটিতে পাঠ্যপুস্তকের ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ব্যবসার প্রতিচ্ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথের (Elizabeth I of England) কাছ থেকে সনদ নিয়ে ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে বাণিজ্য করতে আসে। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের এক ফরমানবলে ইংরেজ বণিকরা সুরাটে (বর্তমান গুজরাটে) বাণিজ্যকুঠি স্থাপনের অনুমতি পায়। তারা ক্রমে উড়িষ্যার হরিহরপুর, বালাসোর, বিহারের পাটনা এবং পশ্চিমবঙ্গের কাশিমবাজারে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাৎসরিক ১২০০ টাকার বিনিময়ে কলকাতা, সুতানটি এবং গোবিন্দপুর নামের তিনটি গ্রামের জমিদারি লাভ করে।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে ১৬৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আইন প্রণয়নের মাধ্যমে স্যার উইলিয়াম নরিসের নেতৃত্বে অপর একটি নতুন কোম্পানি গঠন করা হয়। উইলিয়াম নরিসের নেতৃত্বে গঠিত নতুন কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে। কিন্তু উইলিয়াম নরিস মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভে ব্যর্থ হন। পরে ইংল্যান্ডের মন্ত্রিসভার চাপে নতুন ও পুরাতন কোম্পানি দুটি একত্রিত করে একটি যৌথ কোম্পানি গঠন করা হয়। এ নতুন কোম্পানি 'The Urfited Company of Merchants of England Trading to the East India' নামে পরিচিতি লাভ করে। এ যৌথ কোম্পানি ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উপমহাদেশে একচেটিয়া বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা লাভ করে।
উদ্দীপকের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের গঠিত বাণিজ্য কোম্পানির প্রতি আফ্রিকার দেশটির শাসকরা উদারতা দেখিয়েছেন। তবে এর সুযোগে ওই কোম্পানির প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট দেশটিতে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে আগ্রহী হতে পারে বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকের এ বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের দিয়ে ভারতে বাণিজ্য করতে আসা চতুর ব্রিটিশ বণিকদের কার্যকলাপের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইংরেজ বণিকদের গঠিত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে বাণিজ্য করার জন্যেই এসেছিল। পরে ভারতীয় শাসকদের উদারতা ও দুর্বলতার সুযোগে তারা উচ্চাভিলাষী হয়ে ওঠে চূড়ান্ত পর্যায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে বসে।
ইংরেজদের প্রতি দিল্লি ও বাংলার আঞ্চলিক শাসকরা উদার ছিলেন। তাদের উদারতার সুযোগ নিয়ে ইংরেজ ব্যবসায়ীরা ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও
ফরমানবলে সুরাটে ইংরেজদের বাণিজ্যকুঠি নির্মাণের অনুমতি দেন। মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ারও ইংরেজদের প্রতি উদারতা প্রদর্শন করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি জন সুরম্যান বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা
রাষ্ট্রবিরোধী কাজকর্মে লিপ্ত হয়। মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর এক লাভের জন্য মুঘল সম্রাট ফররুখশিয়ারের দরবারে হাজির হন। এ সময় সম্রাট অসুস্থ ছিলেন। ইংরেজ চিকিৎসক হ্যামিলটনের চিকিৎসায় সম্রাট ফররুখশিয়ার সুস্থ হন। এতে তিনি ইংরেজদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে তাদের বাংলা, বিহার, মাদ্রাজ এবং বোম্বাইয়ে বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার সনদ প্রদান করেন। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ইংরেজদের অনেক অন্যায়-আচরণ ও ষড়যন্ত্রের বিষয়ে অবহিত হওয়ার পরও সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেননি। এ সব কারণে ইংরেজরা ধীরে ধীরে বাংলা তথা গোটা ভারতে নিজেদের শক্তি বাড়ায় এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে থাকে। এর ধারাবাহিকতায়ই তারা ষড়যন্ত্র করে প্রহসনমূলক পলাশী যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার ক্ষমতা নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম হয়।
পরিশেষে পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বলা যায়, আফ্রিকার দেশটির শাসকদের উদারতা উচ্চাভিলাষী ইংরেজ বণিকদের মতোই আশরাফ ও সাহাবুদ্দীন সাহেবদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও রাষ্ট্রবিরোধী আচরণে উৎসাহিত করতে পারে
পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ভারতের কালিকট বন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন।
ইংরেজদের ব্যবসায় সম্প্রসারণসহ আধিপত্য বিস্তারের পথ সুগম হওয়ার কারণে সম্রাট ফররুখশিয়ারের ফরমান ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল।
ভারতবর্ষে ব্যবসায়িক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে ১৭১৫ সালে ইংরেজ দূত জন সুরমান সম্রাট ফররুখশিয়ারের দরবারে হাজির হন। তিনি সম্রাটের চিকিৎসা করে তাকে কঠিন রোগ থেকে মুক্ত করেন। ফররুখশিয়ার এতে খুশি হয়ে ফরমান জারি করে সব সুবাদারকে ইংরেজদের সব ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার আদেশ দেন। সম্রাট ফররুখশিয়ারের এ ফরমান জারির কারণে ইংরেজদের আধিপত্য আরও বেড়ে যায়, যা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!