বরিশাল অঞ্চলের কাঠের নৌকা বেশ নিপুণতার দাবি রাখে।
জামদানি শাড়ির বিশেষত্বের জন্য তা বর্তমানে শুধু দেশে-বিদেশে পরিচিতই নয়, আমাদের গর্বের বস্তু।
এক সময় ঢাকাই মসলিনের খ্যাতি ছিল দুনিয়াজোড়া। মসলিন আজ বিলুপ্ত হয়ে গেলেও জামদানি শাড়ি কিছুটা সেই স্থান দখল করে আছে। শাড়ির বুননকৌশল, কাপড়ের বিশেষত্বের কারণে ঢাকাই জামদানি বিখ্যাত। এই শাড়ির কারণে বিদেশেও বাংলাদেশের একটি সুনাম তৈরি হয়েছে, যা আমাদের গর্বের বস্তু। প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা জামদানি শাড়ির বিশেষত্বের দিকটি বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকের কলিদের দেখা বস্তুগুলো 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে বর্ণিত আমাদের দেশের ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের উপাদানকে নির্দেশ করে।
আমাদের লোকশিল্পগুলো আমাদের জাতীয় ঐহিত্যের ধারক বাহক। এক সময় এ শিল্পের অনেক কদর ছিল। তবে বর্তমানে এ শিল্পের ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে।
'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বাংলার লোকশিল্প এবং লোকঐতিহ্যের নানা দিক তুলে ধরেছেন। লেখক মাটির তৈরি শিল্প, মসলিন, জামদানি, নকশিকাঁথা, তাঁতশিল্প, কাঁসা-পিতলের তৈরি জিনিসপত্র, সিলেটের শীতলপাটি ইত্যাদির বর্ণনা দিয়েছেন। এ জিনিসগুলো আমাদের সবার কাছেই অতি পরিচিত। গ্রামবাংলার এ লোকশিল্পগুলো আমাদের গর্বের বস্তু। উদ্দীপকেও বাংলাদেশের লোকশিল্পের বিভিন্ন নিদর্শনের পরিচয় পাওয়া যায়। কলিদের বিদ্যালয় থেকে সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরে গিয়ে মাটির তৈরি জিনিসপত্র, নকশিকাঁথা, মসলিন, সুন্দর আসবাবপত্র দেখে সবাই মুগ্ধ হয়। তাদের দেখা বস্তুগুলোর সঙ্গে আমাদের লোকশিল্পের ঐতিহ্যবাহী উপাদানের সাদৃশ রয়েছে।
"উদ্দীপকের শিহাব স্যারের বক্তব্যে 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের লেখকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
আমাদের লোকশিল্পগুলো আমাদের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। গুণগত মান ও বৈশিষ্ট্যের কারণে এগুলো দেশ-বিদেশে সমানভাবে সমাদৃত হয়েছিল। বর্তমানে এগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে।
উদ্দীপকে কলিদের স্কুল থেকে সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরে বেড়াতে যায় এবং মাটির তৈরি জিনিসপত্র, নকশিকাঁথা, ঢাকাই মসলিনসহ অনেক সুন্দর সুন্দর আসবাবপত্র দেখে শিক্ষার্থীরা মুগ্ধ হয়। শিহাব স্যার লোকশিল্পগুলো হারিয়ে যাওয়ার কথা ব্যক্ত করে এসব হারানো ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার দিকটি তুলে ধরেন। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে লেখক কামরুল হাসান লোকশিল্প এবং লোকঐতিহ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। লোকশিল্পের বিভিন্ন জিনিসের বর্ণনায় লোকশিল্পের প্রতি লেখকের গভীর মমত্ববোধের পরিচয় পাওয়া যায় ।
তার মতে বর্তমানে এই লোকশিল্পগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। আমাদের দেশের ঐতিহ্য ও জীবনের প্রতিনিধিত্বকারী লোকশিল্পগুলো সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব আমাদের সকলের।
Related Question
View Allখুলনা এলাকার 'মাদুর' সকলের কাছে পরিচিত।
'ঢাকাই মসলিনের কদর ছিল দুনিয়া জুড়ে' বলতে ঢাকাই মসলিনের জনপ্রিয়তার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।
একসময় ঢাকা শহরের অদূরে ডেমরা এলাকার তাঁতিদের দ্বারা ঢাকাই মসলিন তৈরি হতো। মসলিন তৎকালীন মোগল বাদশাহদের বিলাসের বস্তু ছিল। এ কাপড়টি অতি সূক্ষ্ম সুতা দিয়ে বোনা হতো বলে ছোট্ট একটি আংটির ভিতর দিয়ে অনায়াসে কয়েকশ গজ মসলিন কাপড় প্রবেশ করানো সম্ভব ছিল। কারিগরি দক্ষতা নয়, কাপড় বোনার জন্য শিল্পীমন থাকা প্রয়োজন।
স্বামীর মৃত্যুর পর রহিমার কাজটি 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের 'নকশিকাঁথা'র প্রতিনিধিত্ব করে।
আমাদের লোকশিল্পের একটি অন্যতম উপাদান হলো নকশিকাঁথা। নকশিকাঁথা একদিকে যেমন আমাদের ঐতিহ্যের পরিচয় দেয় অন্যদিকে তেমনই অনেক মানুষের জীবিকার উপায় হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে রহিমা স্বামী মারা যাওয়ার পর উপায়ান্তর না দেখে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজ শুরু করে। সে নকশি তোলা কাঁথার মধ্যে নিজের জীবনের সুখ-দুঃখের স্মৃতি, নানা রকম ফুল ও নকশার মধ্যে দিয়ে সাজিয়ে তোলে। একটি বেসরকারি সংগঠনের মাধ্যমে সেগুলো বিদেশে পাঠানোর সুযোগ পেয়ে সে অনেক টাকা আয় করে। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধটিতে যা বলা হয়েছে তা হলো- বর্ষাকালে যখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে, ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া যায় না, এমন মৌসুমে নকশিকাঁথা সেলাই করা হতো। মেয়েরা সংসারে কাজ শেষ করে দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে পাটি বিছিয়ে পানের বাটাটি পাশে নিয়ে পা মেলে বসতেন এ বিচিত্র নকশা তোলা কাঁথা সেলাইয়ের জন্য।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণ এবং হাতে-কলমে কাজের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রাখা প্রয়োজন। তা হলে নিজের উন্নতির পাশাপাশি দেশের উন্নয়ন হয়।
আলোচ্য প্রবন্ধে বলা হয়েছে, আমাদের লোকশিল্প শুধু আমাদের বিলাসিতা বা শৌখিনতার জন্যই নয়। বিশ্বের বহু উন্নত দেশের কাছে এ শিল্প সমাদৃত। অতীতে মোগল বাদশাহরা এ ধরনের শিল্পকে সাদরে গ্রহণ করতেন। বর্তমানেও বহু উন্নত জাতি-গোষ্ঠীর মানুষ আমাদের লোকশিল্প অনেক মূল্য দিয়ে কিনে নিচ্ছে। 'আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধের এদিক বিবেচনায় উদ্দীপকের রহিমা একজন লোকশিল্প সংরক্ষণ ও উন্নয়নের প্রতিনিধি। রহিমার মতো হাজারো নারী এ শিল্পের সাথে জড়িত থেকে বিদেশি মুদ্রা নিয়ে আসছে দেশে। তারা দেশের অর্থনীতিকে শক্তি পার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আমাদের লোকশিল্প' প্রবন্ধে শিল্পী কামরুল হাসান নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার এবং দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য যেসব কুটিরশিল্পের কথা বলেছেন নকশিকাঁথা সেগুলোর মধ্যে অন্যতম। উদ্দীপকের রহিমা ছোটবেলা থেকেই বাঁশ-বেত দিয়ে সংসারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরি করত। আচমকা স্বামী মারা গেলে নকশিকাঁথা সেলাইয়ের কাজই তার সংসারে আয় করার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই বলা যায়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রহিমার অব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিল্পগুণ বিচারে আমাদের কুটিরশিল্প লোকশিল্পের মধ্যে পড়ে।
বর্ষাকাল নকশিকাঁথা তৈরির উপযুক্ত সময়। কারণ এ সময় বৃষ্টি থাকায় ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া যায় না এবং কৃষকবধূরা অবসর থাকে।
নকশিকাঁথা লুপ্তপ্রায় গ্রামীণ লোকশিল্প। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে এ নকশিকাঁথা তৈরির রেওয়াজ ছিল। বর্ষাকালে যখন চারদিকে পানি থৈ থৈ করে, ঘর থেকে বের হওয়া যায় না, এমন মৌসুমই ছিল নকশিকাঁথা সেলাইয়ের উপযুক্ত সময়। মেয়েরা সংসারের কাজ শেষ করে পাটি বিছিয়ে পানের বাটাটি পাশে নিয়ে পা মেলে বসতেন, মনের মতো করে নকশিকাঁথা সেলাই করতেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!



