তারিখ: ২৫ জানুয়ারি, ২০২২
বার: সোমবার
স্থান: রাজশাহী
আজকের দিনটি আমার জীবনের এক স্মরণীয় এবং আবেগঘন দিন। কলেজ জীবনের শেষ অধ্যায় শেষ করে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি নতুন একটি অধ্যায়ের দিকে—এইচএসসি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে। কিন্তু শেষ বিদায়ের মুহূর্তগুলো যে এতটা হৃদয়স্পর্শী হবে, তা আগে কল্পনাও করিনি।
প্রতিবছরের মতো এবারও কলেজের পক্ষ থেকে আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার পরিবেশে। সকাল থেকেই পুরো কলেজ প্রাঙ্গণে ছিল এক অন্যরকম আবহ। আমরা, বিদায়প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা, একে অপরকে বারবার জড়িয়ে ধরছিলাম—কে জানে আর কবে দেখা হবে?
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় জাতীয় সংগীত পরিবেশনা ও পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এরপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত এবং গীতা পাঠ করা হয়। মূল অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আমাদের জুনিয়রদের পক্ষ থেকে পাঠ করা হয় বিদায়পত্র। আমাদের ব্যাচের প্রতিনিধিরা দুই বছরের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
আমাদের প্রিয় শিক্ষকরাও একে একে মঞ্চে উঠে আমাদের উদ্দেশ্যে হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য রাখেন। অধ্যক্ষ মহোদয় ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত এলাকার সম্মানিত চেয়ারম্যানও আমাদের জীবনের পথচলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেন। শিক্ষকদের বিদায় বাণীতে ফুটে উঠেছিল অন্তরের গভীর ভালোবাসা। বিশেষ করে যখন তাঁরা বলছিলেন, “চলে যেতে হয় ঠিকই, কিন্তু হৃদয়ে রেখে যেতে হয় হাজারো স্মৃতি,” তখন কারও চোখের জল লুকিয়ে রাখা যায়নি।
শেষে ছিল দোয়া মাহফিল ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময়। শিক্ষক ও সহপাঠীদের সঙ্গে ছবি তোলার মাধ্যমে আমরা সেই মুহূর্তগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করেছিলাম।
কলেজ ভবন ছেড়ে আসার সময় মনে হচ্ছিল—এই ইট-পাথরের গাঁথুনি নয়, এই প্রাঙ্গণ যেন আমাদের আবেগের অংশ। আজ আমরা চলে যাচ্ছি, কিন্তু রেখে যাচ্ছি হাজারো স্মৃতি। ভবিষ্যতের আলোকে এগিয়ে যেতে হবে ঠিকই, কিন্তু এই দিনের আবেগ আর ভালোবাসা চিরকাল হৃদয়ে গেঁথে থাকবে।
Related Question
View All১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বুধবার
রাত ১০টা
ঢাকা
আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। শীতের পরে বসন্ত এসে প্রকৃতিকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়, বসন্তের প্রকৃতি আমার খুব ভালো লাগে। আমাদের কলেজে প্রতিবছরই বসন্তবরণে একটি অনুষ্ঠান হয়। আজ সকালে আমি বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়েছিলাম। কলেজের মাঠে একটি মন্ঞ্চ বানিয়ে সেখানে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে গান, কবিতা, নাচ ইত্যাদি পরিবেশনার সঙ্গে চলছিল বসন্ত বন্দনা। একজন গেয়েছিল লগ্নজিতার 'বসন্ত এসে গেছে' গানটি। তবে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আহা আজি-এ বসন্তে' গানটির পরিবেশনা। আমার ফন্ধু সাদিয়া 'ফুলে ফুলে ঢোলে, ঢোলে...' গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছিল। অনুষ্ঠান শেষে একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে সংগীত পরিবেশন করেছিল শিল্পী অর্ণব। কনসার্ট শেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন আমাদের কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি তার বক্তব্যে বসন্তবরণের সঙ্গে বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলেন। কিছুক্ষণ আগেই বাসায় এসেছি। আজ সারা দিন খুব আনন্দে কেটেছে, আবার কবে বসন্ত আসবে তার জন্য আমি অপেক্ষা করছি।
পদ্মাসেতু দর্শনের অনুভূতি
তারিখঃ ২৬ শে জুন, ২০২৫
সময়ঃ রাত ১০ঃ০০ টা
স্থানঃ ঢাকা
চমৎকার একটি দিন কাটালাম আজ। কলেজের কয়েকজন বন্ধু মিলে গিয়েছিলাম পদ্মা সেতু দেখতে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সীগঞ্জের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হয়েছে এই সেতু। পদ্মা সেতু প্রথম দেখাতেই মনের মধ্যে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। এই সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। বাংলাদেশের তিন কোটিরও অধিক মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে এই সেতুটির মাধ্যমে। দেশের পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এ সেতু খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সেতুর ফলে দেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সারকথা, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পদ্মা সেতু সমগ্র দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। পদ্মা সেতু ও আমাদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি উপলব্ধি করে এক অজানা আনন্দে মন পুলকিত হয়ে আছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!