দিনলিপি
তারিখ: ১ জুলাই ২০২৫
দিন: মঙ্গলবার
স্থান: আমার রুম
আজ আমার জীবনের একটি বিশেষ দিন—কলেজে আমার প্রথম দিন। সকাল থেকেই মনে এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছিল। একদিকে নতুন পরিবেশে যাওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে অপরিচিত মুখগুলোর মাঝে কেমন যেন একটু ভয়ের মতোও লাগছিল।
সকাল সাতটার দিকে আমি তৈরি হয়ে নিলাম। নতুন পোশাক পরে আয়নায় নিজেকে দেখে মৃদু একটা হাসি দিয়ে নিলাম। বাবা আমাকে কলেজ পর্যন্ত পৌঁছে দিলেন। কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, জীবনের এক নতুন অধ্যায়ে পা রাখছি।
কলেজের চত্বর ছিল প্রাণচঞ্চল। কেউ কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মশগুল, কেউবা নিজের মতো একা একা হেঁটে চলেছে। আমি একটু দ্বিধাগ্রস্তভাবে চারপাশে তাকিয়ে দেখছিলাম। হঠাৎ এক সহপাঠী এগিয়ে এসে হাসিমুখে পরিচিত হলো। তার নাম রায়হান। ওর সঙ্গে কথাবার্তা বলতে বলতে কিছুটা স্বস্তি পেলাম।
প্রথম ক্লাস ছিল বাংলা। শিক্ষক ছিলেন মৃদুভাষী ও অভিজ্ঞ। তিনি শুধু পাঠ্যসূচির কথা বললেন না, কলেজজীবনের গুরুত্ব, সময়ের সঠিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা এবং কীভাবে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়—তা নিয়েও সুন্দর আলোচনা করলেন। কথাগুলো মনে গভীর ছাপ ফেলল।
এরপর একে একে ইংরেজি, গণিত ও তথ্যপ্রযুক্তির ক্লাস হলো। প্রত্যেক শিক্ষকই নতুন পরিবেশে আমাদের স্বাগত জানালেন এবং পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী হওয়ার অনুরোধ করলেন। তাদের আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করল।
বিরতির সময় অনেক নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় হলো। কেউ এসছে মফস্বল শহর থেকে, কেউবা একেবারে গ্রামাঞ্চল থেকে। সবাই এতটা সহজভাবে মিশে গেলাম যেন বহুদিনের পরিচয়।
কলেজের লাইব্রেরিতে ঢুকেও মন ভালো হয়ে গেল। এত বই দেখে মনে হলো, জ্ঞান ও স্বপ্নের এক বিশাল ভান্ডারে পা রেখেছি। নিজেকে একটু গর্বিতও লাগল—এত বড় একটা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হতে পেরে।
সারাদিনে ক্লান্তি থাকলেও মনটা ছিল ভরপুর আনন্দে। মনে হচ্ছিল, আজ নতুনভাবে জীবন শুরু হলো। এই কলেজজীবনই একদিন আমার ভবিষ্যতের ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবে—এই বিশ্বাস আজ আরও দৃঢ় হলো।
আজকের দিনটি আমি কোনোদিন ভুলব না। জীবনের এই নতুন অধ্যায়ের প্রথম পাতাটি আজ খুলে গেল। আল্লাহর কাছে দোয়া করি—এই পথ যেন সুন্দর হয়, সফল হয়।
Related Question
View All১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
বুধবার
রাত ১০টা
ঢাকা
আজ ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। শীতের পরে বসন্ত এসে প্রকৃতিকে নতুনভাবে সাজিয়ে দেয়, বসন্তের প্রকৃতি আমার খুব ভালো লাগে। আমাদের কলেজে প্রতিবছরই বসন্তবরণে একটি অনুষ্ঠান হয়। আজ সকালে আমি বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়েছিলাম। কলেজের মাঠে একটি মন্ঞ্চ বানিয়ে সেখানে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে গান, কবিতা, নাচ ইত্যাদি পরিবেশনার সঙ্গে চলছিল বসন্ত বন্দনা। একজন গেয়েছিল লগ্নজিতার 'বসন্ত এসে গেছে' গানটি। তবে সবচেয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আহা আজি-এ বসন্তে' গানটির পরিবেশনা। আমার ফন্ধু সাদিয়া 'ফুলে ফুলে ঢোলে, ঢোলে...' গানটির সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেছিল। অনুষ্ঠান শেষে একটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছিল সেখানে সংগীত পরিবেশন করেছিল শিল্পী অর্ণব। কনসার্ট শেষে সমাপনী বক্তব্য রাখেন আমাদের কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি তার বক্তব্যে বসন্তবরণের সঙ্গে বাঙালি জাতির ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলেন। কিছুক্ষণ আগেই বাসায় এসেছি। আজ সারা দিন খুব আনন্দে কেটেছে, আবার কবে বসন্ত আসবে তার জন্য আমি অপেক্ষা করছি।
পদ্মাসেতু দর্শনের অনুভূতি
তারিখঃ ২৬ শে জুন, ২০২৫
সময়ঃ রাত ১০ঃ০০ টা
স্থানঃ ঢাকা
চমৎকার একটি দিন কাটালাম আজ। কলেজের কয়েকজন বন্ধু মিলে গিয়েছিলাম পদ্মা সেতু দেখতে। পদ্মা সেতু বাংলাদেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে লৌহজং, মুন্সীগঞ্জের সাথে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হবে, ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ ঘটবে। পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ হয়েছে এই সেতু। পদ্মা সেতু প্রথম দেখাতেই মনের মধ্যে এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। এই সেতুটি দক্ষিণাঞ্চলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প বিকাশে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। বাংলাদেশের তিন কোটিরও অধিক মানুষ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে এই সেতুটির মাধ্যমে। দেশের পরিবহণ নেটওয়ার্ক এবং আঞ্চলিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এ সেতু খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই সেতুর ফলে দেশের জিডিপি ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সারকথা, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় পদ্মা সেতু সমগ্র দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ফসল হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। পদ্মা সেতু ও আমাদের দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়টি উপলব্ধি করে এক অজানা আনন্দে মন পুলকিত হয়ে আছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!