পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো Civics
যে চিন্তাভাবনা মানুষের আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত করে সেটি হলো পৌরনীতি বিষয়ক চিন্তাভাবনা। পৌরনীতি নাগরিকের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নাগরিক জীবনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকার ক্রিয়াকলাপ নিয়ে অনুশীলন চালায়। পৌরনীতিতে নাগরিক ও নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত সকল বিষয় আলোচিত হয় এবং পৌরনীতি নাগরিকের এ সমস্ত বিষয়কে আলোচনা করার মাধ্যমে মানুষের চিন্তাভাবনা, আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি দ্বারা পৌরনীতি ও সুশাসনকে বোঝানো হয়েছে। এ বিষয়টি পাঠের ফলে যেসব সুফল লাভ করা যায় সেগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
- একজন ব্যক্তি নাগরিক হিসেবে তার বেশকিছু অধিকার ও কর্তব্য রয়েছে। পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন যায়।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠ একজন নাগরিকের মধ্যে সুনাগরিকের গুণাবলি বিকাশে বিশেষ সহায়তা করে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান পরিপক্ক হয়। ফলে একজন নাগরিক রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞান লাভ করবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে রাষ্ট্র, সংবিধান এবং দেশের রাজনীতির সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করা যায়।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে একজন নাগরিক বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ হয়ে ওঠে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে রাষ্ট্রের শাসন পরিচালনা সংক্রান্ত জ্ঞানলাভ করা সম্ভব হয়।
- এভাবে পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে উপরিউক্ত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানলাভের মাধ্যমে সুফল লাভ করা যায়।
উদ্দীপকের সর্বশেষ বক্তব্য হলো 'ঐতিহাসিক তথ্যসমূহ উক্ত। বিষয়টিকে পূর্ণতা দান করে'। এখানে উক্ত বিষয়টি দ্বারা পৌরনীতি ও সুশাসনকে বোঝানো হয়েছে।
পৌরনীতি ও সুশাসনের মূলে আছে ইতিহাস। পৌরনীতি ও সুশাসনের ক্রমবিবর্তনের ধারা সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য ইতিাহস থেকে সংগ্রহ করা হয়। ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে পৌরনীতি ও সুশাসন উপাদান সরবরাহ করে। ঐতিহাসিক জ্ঞানের দ্বারা সমৃদ্ধ হয়েই পৌরনীতি রাষ্ট্রদর্শনের কাঠামো রচনা করে। নাগরিক ও রাজনৈতিক জীবনের অতীত গতিপ্রকৃতি সম্বন্ধে ধারণা না থাকলে বর্তমান রাজনৈতিক মতবাদের ভিত্তি কল্পনাশ্রয়ী ও অবাস্তব হয়ে পড়ে। ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহ বর্তমান পৌরনীতি ও সুশাসনের মতবাদকে পরীক্ষিত সত্যের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। ঐতিহাসিক তথ্য যত বেশি সংগৃহীত হবে পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচনা হবে তত সত্যাশ্রয়ী ও বৈজ্ঞানিক। ইতিহাসের আলোচনা ছাড়া পৌরনীতি ও সুশাসনেরপ্রতিষ্ঠানসমূহের গঠন ও কার্যাবলি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞানলাভ করা যায় না। ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে রাষ্ট্রের স্বরূপ, সরকারের প্রকৃতি, প্রাচীন শাসকদের রাষ্ট্র পরিচালনা এসব বিষয়ে যাবতীয় তথ্য ইতিহাসই পৌরনীতি ও সুশাসনকে দিতে সক্ষম। এছাড়াও পৌরনীতি ও সুশাসন ইতিহাসের নিকট থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে বর্তমান সময়ের ঘটনাসমূহ বিশ্লেষণ করে তাদের কার্যপরিধিকে ব্যাপক ও বিস্তৃত করছে। উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে একথা বলতে পারি যে, ঐতিহাসিক তথ্যসমূহ পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টিকে পূর্ণতাদান করে এ বক্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!