'কাকতাড়ুয়া' গল্পে সত্যজিৎ রায় কুসংস্কারের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেছেন।
'কাকতাড়ুয়া' গল্পটি একটি উপদেশমূলক গল্প। খ্যাতনামা সাহিত্যিক মৃগাঙ্কবাবু এ গল্পের প্রধান চরিত্র। সাহিত্য সভায় সম্মাননা পেয়ে ফেরার পথে মাঝখানে এসে পেট্রোল ফুরিয়ে যাত্রায় বিঘ্ন ঘটে তার।
চাকর সুধীর তেল আনতে পানাগড়ে গেলে গাড়িতে বসে আড়াই ঘণ্টা কাটানো তার পক্ষে অসহ্যকর হয়ে ওঠে। তাই তিনি চারপাশ ঘুরে ঘুরে দেখতে শুরু করেন। কিন্তু দুর্গম এই অঞ্চলটি প্রায় জনবসতিহীন। একেই মাঘ মাস, ফসল তোলার পর কর্মব্যস্ততা নেই; তার ওপর দুর্গম। মৃগাঙ্কবাবু কেবল পাশে একটি খেতে একটি কাকতাড়ুয়া দেখতে পেলেন যার গায়ে জড়ানো একটি লাল-কালো ছিটের শাট। শার্ট দেখে তার বিভ্রম ঘটে এবং তিনি গাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।
বিশেষ পরিস্থিতিতে মানবমনে বিচিত্রসব অনুভূতির প্রকাশ ঘটতে পারে। ছিটের সাদা-কালো শার্টটির মতো একটি শার্ট মৃগাঙ্কবাবু তাদের পূর্বতন চাকর অভিরামকে উপহার দিয়েছিলেন। অভিরাম তাদের বাড়ির বিশ বছরের পুরাতন চাকর। কিন্তু বুড়ো বয়সে সে স্বর্ণের ঘড়ি চুরি করেছে বলে দাবি করে বসেন মৃগাঙ্কবাবুর বাবা। মৃগাঙ্কবাবুর বিয়েতে পাওয়া স্বর্ণের ঘড়ি হারিয়ে গেলে সবাই সন্দেহ করে অভিরামকে। কিন্তু নিরপরাধ অভিরাম তা অস্বীকার করে। ফলে মৃগাঙ্কবাবুর বাবা চোর ধরার জন্য ওঝা ডেকে নিয়ে আসেন। ওঝা কুলোয় চাল ছুড়ে দিয়ে প্রমাণ করে দেয় অভিরাম চোর। স্বর্ণের ঘড়ি চুরির দায়ে অভিরামের চাকরি চলে যায়। অভিরাম আর কোথাও চাকরি পায় না। শেষ বয়সে অর্থের অভাবে কষ্টে ধুকে ধুকে তার মৃত্যু হয়।
মৃগাঙ্কবাবু গাড়ির মধ্যে ঘুমিয়ে পড়লে অবচেতনে দেখতে পান কাকতাড়ুয়া বেশধারী অভিরামকে। অভিরাম তাকে আলমারির নিচে পড়ে থাকা ঘড়িটির কথা বলে যায়। বাড়ি গিয়ে ঠিক সেখানেই ঘড়িটি পান মৃগাঙ্কবাবু। তখন থেকে তিনি শপথ করেন ভবিষ্যতে কোনো কিছু হারানো গেলে আর ওঝার কাছে যাবেন না।
এ গল্পে প্রকাশ পেয়েছে, সত্য কোনোদিন চাপা থাকে না। সত্য নিজগুণে প্রকাশ পায়। আর কুসংস্কারের প্রতি বিশ্বাস কখনো ভালো ফল বয়ে আনতে পারে না, এ সত্যটিই এ গল্পে সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
Related Question
View Allচোর শনাক্ত করার জন্য মৃগাঙ্কবাবুর বাবা ওঝার সাহায্য নেন।
'কাকতাতুয়া' গল্পের প্রধান চরিত্র মৃগাঙ্কবাবু। তিন বছর আগে আর স্বর্ণের ঘড়িটি চুরি হয়েছিল বাড়ি থেকে। মৃগাঙ্কবাবুর বাড়িতে কাজ করত অভিরাম নামের এক চাকর। অভিরাম বিশ বছর ধরে সততার সাথে কাজ করলেও মৃগাঙ্কবাবুর বিয়েতে পাওয়া স্বর্ণের ঘড়িটি খুঁজে না পেয়ে অভিরাম সেটা চুরি করেছে ভেবে সন্দেহ করে। সেটা বহুবার জিজ্ঞাসাবাদের পরও অভিরাম অস্বীকার করে। তাই চোরকে শনাক্ত করার জন্য মৃগাঙ্কবাবুর বাবা কুসংস্কারের পরিচয় দেন। তিনি ওঝা ডেকে নিয়ে আসেন চোর ধরার জন্য। ওঝা কুলোতে চাল ছুড়ে মেরে প্রমাণ করে যে, অভিরামই চোর। চুরির অভিযোগে তারা অভিরামকে চাকরিচ্যুত করে। মৃগাঙ্কবাবুর বিয়েতে পাওয়া ঘড়ি উদ্ধারে ওঝার সাহায্য নিয়ে অভিরামকে চোর সাব্যস্ত করার প্রক্রিয়া মৃগাঙ্কবাবুর বাবার কুসংস্কারের পরিচয় বহন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!