ফসলের মাঠে পাখিদের হাত থেকে ফসল রক্ষা করার জন্য বাঁশের কাঠি, হাঁড়ি ও জামা দিয়ে তৈরি মানুষের কৃত্রিম অবয়ব হচ্ছে কাকতাড়ুয়া।
গ্রাম এলাকায় কাকতাড়ুয়া একটি সাধারণ বস্তু। ফসলের মাঠে সচরাচর এটি চোখে পড়ে। সাধারণত ছোট দানার শস্য যেমন- ধান ডাল, তিল, সূর্যমুখী এবং বিভিন্ন ধরনের সবজি যেগুলো পাখি ও পোকামাকড়ের আক্রমণের শিকার হয়, সেই জাতীয় ফসল ও শাকসবজি সার্বক্ষণিক পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কাকতাড়ুয়া তৈরি করা হয় যা, একজন মানুষের পক্ষে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সহজ কাজ নয়। তাই মানুষের আকৃতি দিয়ে পাখি ও পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রাচীনকাল থেকে কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার প্রচলিত। কাকতাড়ুয়া তৈরি খুবই সহজ কাজ। মাঝারি আকৃতির একটি বাঁশ শক্ত করে পুঁতে নিতে হবে। তারপর বাঁশের উপরের দিক থেকে খানিকটা নিচে বাঁশের কঞ্চি বা যেকোনো কাঠি আড়াআড়ি করে বেঁধে নিতে হবে। এবার অব্যবহৃত পুরাতন পোশাক জামা, শার্ট, ফতুয়া কিংবা পাঞ্জাবি আড়াআড়ি বাঁধা কঞ্চির দুপাশে গলিয়ে দিতে হবে ওই কাপড়ের আস্তিন দুটোর মধ্যে। এবার ব্যবহার্য কালি মাখা হাঁড়ি চড়িয়ে দিতে হবে বাঁশের মাথায়। হাঁড়ি উপুড় করার পর কালো হাঁড়ির ওপর সাদা রং দিয়ে চোখ ও মুখ এঁকে দিলেই হয়ে যাবে কাকতাড়ুয়া।
কাকতাড়ুয়ার উপকারিতার দিক অনেক। এটি ফসলি ক্ষেতের সার্বক্ষণিক পাহারাদার। এটি পাখি ও পোকামাকড়ের হাত থেকে ফসলকে রক্ষা করে। ফসল সংরক্ষণ ও গুণগত মান বজায় রেখে তোলায় এটি ভূমিকা রাখে। প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন দেশে কাকতাড়ুয়ার ব্যবহার দেখা যায়। কাকতাড়ুয়া একটি উপকারী কৃত্রিম মানুষ। রাতের বেলায় চোরও বিভ্রান্ত হয়ে যেতে পারে এই কৃত্রিম অবয়ব দেখে।
Related Question
View Allমৃগাঙ্কবাবু দুর্গাপুর ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সম্মাননা স্মারক নিতে গিয়েছিলেন।
মৃগাঙ্কবাবু একজন খ্যাতনামা সাহিত্যিক। দুর্গাপুরের একটি ক্লাবের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাকে সাহিত্য সম্মাননা তথা মানপত্র গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। ট্রেনের রিজার্ভেশন পাওয়া যায়নি বলে তিনি মোটরে যাত্রা করেছেন। মোটর চালানো শুরুর পূর্বে তিনি তার চাকর সুধীরকে বলেছিলেন পেট্রোল যা আছে তা দিয়ে হবে না। কিন্তু সুধীর সেই কথা বিশ্বাস করেনি। কারণ পেট্রোলের ইনডিকেটর যে পরিমাণ তেলের নমুনা জানিয়েছিল, তাতে তাদের ভ্রমণ নিঃসন্দেহে শেষ করা সম্ভব। কিন্তু মৃগাঙ্কবাবু জানতেন এই ইনডিকেটর ঠিক তথ্য দিচ্ছে না, বেশ কিছুদিন যাবৎ এটায় গোলমাল দেখা দিয়েছে। তবু তিনি সুধীরের কথার ভরসায় পেট্রোল না নিয়েই যাত্রা করেছিলেন। তাই যাত্রাপথের মাঝখানে পেট্রোল ফুরিয়ে যাওয়ায় গাড়ি থেমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মৃগাঙ্কবাবুর সন্দেহটাই ঠিক হলো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!