চিত্রশিল্পী এস, এম, সুলতানকে বাংলাদেশ সরকার রেসিডেন্ট আর্টিস্টের সম্মান প্রদান করেন। শিল্পকলার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি এ সম্মান লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের চিত্রকলাকে পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে ইউরোপ এবং আমেরিকায় তুলে ধরতে গুরুত্বপূ ভূমিকা পালন করেন।
Related Question
View Allমাত্র সাঁইত্রিশ বছরের জীবনে তিনি পৃথিবীতে রেখে গেছেন অমূল্য সব শিল্পকর্ম উক্তিটির শিল্পীর নাম ভিনসেন্ট ভ্যানগগ। নিচে তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো- ১৮৫৩ সালের ৩০ মার্চ হল্যান্ডের ছোট্ট একটি গ্রামে ভ্যানগগ জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন গ্রাম্য দরিদ্র পাদরি। সাতাশ বছর বয়সে ভ্যানগগ চিত্রশিল্পীর জীবন গ্রহণ স্থির করে তাঁর ছোট ভাই থিওকে প্যারিসে চিঠি লেখেন। এরপর থেকে ছোট ভাই-এর সাহায্য-সহযোগিতায় ভ্যানগগ অনেক ছবি আঁকলেন। কিন্তু জীবদ্দশায় তিনি মাত্র দু'খানি ছবি বিক্রি করেছিলেন। ভ্যানগগ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন একদিন তাঁর ছবির সমাদর হবে। তার সে ধারণা সত্যি হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর আজ কোটি কোটি ডলারে ছবি বিক্রি হচ্ছে। তাঁর বিখ্যাত ছবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দিনমজুর, আত্মপ্রকৃতি, পোস্টম্যান, তাঁতি, একটি গাছ, আলোর দৃশ্য, বাতির রেননদী, সূর্যমুখী ইত্যাদি। নিজের কুৎসিতমুখশ্রী ও জীবনের প্রতি তীব্র হতাশা তাঁকে ক্রমশ উন্মাদ করে তোলে। ফলে মাত্র সাঁইত্রিশ বছর বয়সে একদিন আত্মহত্যা করে ইহধাম ত্যাগ করেন।
রবীন্দ্রনাথের চিত্রকর্ম সম্পর্কে যতটুকু জানি তা নিচে বর্ণনা করা হলো-সাধারণত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে আমরা কবিগুরু হিসেবেই চিনি।
সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর অবদান সর্বজন স্বীকৃত। কিন্তু এর বাইরেও তাঁর এক ভিন্ন পরিচয় রয়েছে আর তাহলো তিনি একজন চিত্রশিল্পী। রবীন্দ্রনাথ শেষ বয়সে এসে অনেকটা পেশাদার শিল্পীর মতোই ছবি আঁকতে থাকেন। রবীন্দ্রনাথের ছবি আঁকার পূর্বকথা ও ইতিহাস কোনো আকস্মিক ঘটনা নয় বরং ছবি আঁকার বাসনা তাঁর দীর্ঘদিনের। ঠাকুরবাড়ির ভেতরে বাইরে 'বিচিত্রা' সভা ও অন্যান্য সংগঠনের সুবাদে রবীন্দ্রনাথ নিজে চিত্র চর্চার কাজে খববদাবি করেছেন। তাছাড়া সেসময়ে ঠাকুর বাড়িতে বড় ভাই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ, ভ্রাতুষ্পুত্র, অবনীন্দ্রনাথ ও গগনেন্দ্রনাথসহ অনেকেই ছবি এঁকেছেন। রবীন্দ্রনাথের মতে, চোখের সামনে যা আছে বা প্রতিদিন আমরা যা কিছু দেখছি তাই যথেষ্ট নয়। শিল্পীকে দেখতে হবে একটা বিশেষ কিছু যা তাকে সৃষ্টিশীল করে তুলবে। শেষ দশ বছরে তিনি এরকম অনেক ছবি এঁকেছেন। সাহিত্যকর্মের ধারায় কখনো বা তিনি শিল্পকর্মের মধ্যেও প্রবেশ করেছেন যার পরিচয় পাওয়া যায় তাঁর কবিতার মাঝে শব্দ কেটে কেটে বিচিত্র সব জীবজন্তুর ছবি আঁকার দ্বারা। রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি
লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির পর শিল্প জগতের ইতিহাসে বহু প্রতিভার অধিকারী হিসেবে শিল্পী পাবলো পিকাসোকে আখ্যায়িত করা হয়। নিচে তার সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো।
পাবলো পিকাসো ২৫ অক্টোবর ১৮৮:১ সালে স্পেনের মালাগা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। শিশুকালেই ছবি আঁকার হাতেখড়ি তাঁর বাবার কাছ থেকে। পিকাসোর মধ্যে ছিল ছবির প্রতি গভীর অনুরাগ। তিনি যখন তিন বছরের শিশু, হাতের কাছে পেনসিল কিংবা কাঠকয়লা পেলে কাগজ কিংবা মেঝের উপরেই ছবি আঁকতে আরম্ভ করে দিতেন। তার বিখ্যাত কাজের মধ্যে রয়েছে গুয়ের্নিকা, তিন নর্তকী, দি গ্রেসেস একারেডিওনিস্ট, গার্ল বিফোর মিরর, ইয়ং রেডিজ অভ এভিগনন এবং আরও অনেক। তিনি ভাস্কর্য, কারুশিল্প, মঞ্চসজ্জা, পোশাক পরিকল্পনা, পোস্টার, এচিং, লিথোগ্রাফ, বই-এর অলঙ্করণ প্রতিটি ক্ষেত্রে ছিলেন অসাধারণ। পিকাসো শুধু শিল্পীই নন করিও ছিলেন। ১৯৭৩ সালের ৮ এপ্রিল, ফ্রান্সে পিকাসোর শিল্পজীবনের চিরসমাপ্তি ঘটে। প্রকৃতপক্ষে পিকাসোর জীবনটাই ছিল এক বিরাট শিল্প, মৃত্যুতেও সে শিল্পের শেষ হয় না।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
স্কুলের লেখাপড়া শেষ করে তিনি ভর্তি হন কলকাতা আর্ট স্কুলে। অল্প দিনেই ভালো ছাত্র হিসেবে সুনাম অর্জন করেন এবং শিক্ষাশেষে সেখানেই শিক্ষকতার নিয়োগ পান। তরুণ বয়সেই জয়নুল আবেদিন ছবি আঁকায় প্রচুর জনপ্রিয়তা ও খ্যাতি অর্জন করেন। ব্রিটিশ শাসকদের অবহেলা ও অমানবিকতার কারণে ১৩৫০ সালে বাংলায় যে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় তাঁর উপর তিনি কালো রেখায় অনেক ছবি আঁকেন। এ ছবিগুলো পরবর্তীকালে দুর্ভিক্ষের চিত্র নামে পরিচিত হয়। দুর্ভিক্ষের চিত্র নিয়ে ভারতসহ পৃথিবীর নামকরা ব্যক্তিরা পত্র-পত্রিকায় তাঁর প্রশংসা করেন। জয়নুল আবেদন ভালোবাসতেন বাংলার মাটি ও মানুষকে। এ কারণে তার শিল্পকর্মে শ্রমজীবী মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, তাদের জীবন ও যন্ত্রণা, বিত্তবানদের দ্বারা অত্যাচার ও অবিচারের চিত্র ফুটে উঠতে দেখা যায়। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও সংগ্রাম ছিল তাঁর ছবির বিষয়বস্তু। শ্রমজীবী মানুষের কর্মময় জীবন ও তাদের সংগ্রাম ছিল তাঁর ছবির বিষয়বস্তু। 'গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউট' নামে শিল্পচর্চার যে প্রথম 'প্রতিষ্ঠান এ দেশে গড়ে ওঠে তার প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন জয়নুল আবেদিন। শিল্পকলার ক্ষেত্রে তার বিশেষ অবদানের জন্য বাংলাদেশের মানুষ তাঁর নাম দিয়েছেন 'শিল্পাচার্য'। শিল্পাচার্যের শ্রেষ্ঠ শিল্পকর্মের মধ্যে রয়েছে- দুর্ভিক্ষের চিত্র ১৯৪৩, সংগ্রাম, গরুর গাড়ি, গুনটানা, সাঁওতাল, প্রসাধন, মনপুরা-৭০ ইত্যদি। এ মহান শিল্পী ১৯৭৬ সালে ২৮ মে ৬২ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক)
প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী কামরুল হাসান। নিচে তার সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-শিল্পী কামরুল হাসান ১৯২১ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষাগ্রহণ করেন কলকাতায়। ১৯৪৭ পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশে আসেন। ১৯৪৮ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সাথে ঢাকার চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রায় ১২ বছর এ মহাবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রতচারী আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন। ব্রতচারী আন্দোলনে খাঁটি বাঙালি গড়ে তোলার প্রত্যয়ে তিনি মুকুল ফৌজ গড়ে তোলেন। কামরুল হাসানের . সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হলো স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আঁকা ছবি-ইয়াহিয়ার জানোয়ারের মতো মুখ। এছাড়াও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও রাষ্ট্রীয় প্রতীকের নকশা নির্মাণ করেন তিনি। বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করেন। তাঁর বিখ্যাত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, নবান্ন, তিনকন্যা, উঁকি, বাংলার রূপ, জেলে, পেঁচা, গণহত্যার আগে ও পরে ইত্যাদি। ১৯৮৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি কবিদের এক প্রতিবাদী সভায় হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে সেই কবিতা মঞ্চে জীবনের শেষ স্কেচ করেছেন, যার শিরোনাম ছিল 'দেশ আজ বিশ্ব বেহায়ার খপ্পরে'।
এস. এম. সুলতান (পুরোনাম শেখ মোহাম্মদ সুলতান) ১৯২৩ সালে তৎকালীন যশোর জেলার নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মা-বাবা ও গ্রামের লোকেরা তাঁকে লালমিয়া নামে ডাকত। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি তাঁর ছিল দারুন অনীহা। এ কারণে পড়ালেখা থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য কলকাতা আর্ট স্কুলে যান ছবি আঁকা শিখতে। এরপরে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশ বিদেশে। একজন খেয়ালী মানুষ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ চিত্রশিল্পী হিসেবে সুলতান বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
তাঁর ছবির বিষয়বস্তু ছিল গ্রাম্যজীবন, চাষবাস, কৃষক, জেলে ও খেটে খাওয়া মানুষ। তাঁর ছবির মানুষেরা বেশ বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী ও. শক্তিশালী। কৃষকরাই দেশের আসল শক্তি, তাই তাদের ভেতরের শক্তিশালী রূপটিকেই তিন ফুটিয়ে তুলেছেন। জোর করে নয় বরং আপন মনের আনন্দে শিশুরা যাতে লেখাপড়া করতে পারে, ছবি আঁকতে পারে, গান গাইতে পারে, জীব-জন্তুর সাথে আপন হয়ে মিশে যেতে পারে, এজন্য তিনি বিশেষ ধরনের স্কুল গড়ে তোলেন, যার নাম 'শিশুস্বর্গ'।
শিল্পী সুলতান নিজে অনেক পশুপাখি পালতেন। তাঁর বিখ্যাত একটি শিল্পকর্ম হলো 'হালচাষ'। তাঁর বিখ্যাত অনেক শিল্পকর্ম দেশ বিদেশের বিভিন্ন চিত্রশালায় সংরক্ষিত আছে। শিল্পকলার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে রেসিডেন্ট আর্টিস্টের সম্মান প্রদান করেন। তিনি স্বাধীনতা পদকও লাভ করেন। শেষ জীবনে সুলতান নিজের জন্মস্থান নড়াইলে বসবাস করেন। অবশেষে ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর ৭১ বছর বয়সে এই মহান শিল্পী ইহলোক ত্যাগ করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!