“কাছে থেকে দূরে যারা তাহাদের বাণী যেন শুনি” কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এরকম প্রত্যাশিত সাহিত্যকর্মই যেন উদ্দীপকের হরিশংকর জলদাসের রচনার বিষয়বস্তু।— অভিমতটি যাচাই কর।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানবতাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তাঁর সাহিত্যকর্মে সমাজের প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষের প্রতি গভীর মমতা ও সংবেদনশীলতা প্রকাশের কথা বলেছেন। তাঁর "কাছে থেকে দূরে যারা তাহাদের বাণী যেন শুনি" উক্তিটি এমন এক সাহিত্যিক চেতনারই প্রতিফলন, যেখানে সাহিত্য কেবল অভিজাত শ্রেণির মনোরঞ্জনের মাধ্যম নয়, বরং তা সমাজের নিম্নবর্গের মানুষের জীবন সংগ্রাম, দুঃখ-কষ্ট ও আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে। উদ্দীপকের কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাসের রচনার বিষয়বস্তু এই প্রত্যাশিত সাহিত্যকর্মের সার্থক দৃষ্টান্ত।

উদ্দীপকে উল্লিখিত হরিশংকর জলদাস চট্টগ্রামের জেলেপাড়ায় জন্মগ্রহণ করে নিজেই দারিদ্র্যপীড়িত জেলে জীবনের সদস্য ছিলেন। তিনি স্বীয় প্রতিভাবলে প্রতিষ্ঠিত কথাসাহিত্যিক হলেও তাঁর লেখনী কৃত্রিমতার আবরণে ঢাকা নয়। বরং গভীর মমতায় চিত্রায়িত নিম্নবর্ণের সমাজ জীবনের চালচিত্র বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদে পরিণত হয়েছে। তিনি জেলেপাড়ার সুবিধা বঞ্চিত, অনাহারক্লিষ্ট মানুষের দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত বিপন্নতার এক বৈচিত্র্যময় ভাষাচিত্র অংকন করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি রবীন্দ্রনাথের প্রত্যাশা অনুযায়ী, সমাজের "কাছে থেকে দূরে থাকা" সেই জেলে সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিচ্ছবি এবং তাদের না বলা কথাকে সাহিত্যের মূলধারায় নিয়ে এসেছেন।

হরিশংকর জলদাস তাঁর সাহিত্যকর্মে এমন এক শ্রেণিকে তুলে ধরেছেন, যারা সাধারণত সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রান্তিক এবং যাদের জীবনযাপন ও সংস্কৃতি প্রায়শই উপেক্ষিত থাকে। বাংলা সাহিত্যে "অনাদৃত জেলে জীবন" নিয়ে গল্প-উপন্যাস ও গবেষণা কর্মের জন্য তিনি একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে তাঁর সাহিত্য সমাজের এই অবহেলিত অংশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাঁর লেখনী এই পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতি শুধু সহানুভূতির প্রকাশ নয়, বরং তাদের অস্তিত্ব, সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদাকে স্বীকার করে নেওয়ার একটি দৃঢ় প্রয়াস। এই কারণেই তাঁর রচনা রবীন্দ্রনাথের মানবিক দৃষ্টির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে।

অতএব, উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "কাছে থেকে দূরে যারা তাহাদের বাণী যেন শুনি" – এই প্রত্যাশিত সাহিত্যকর্মই হরিশংকর জলদাসের রচনার মূল বিষয়বস্তু, যা তাঁর সাহিত্যকে মহৎ ও সমাজ-সচেতন করে তুলেছে। তাঁর সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে প্রান্তিক মানুষের ভাষাকে মূলধারায় যুক্ত করার সফল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Satt AI
Satt AI
1 month ago
534

 


বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানি । 
দেশে দেশে কত-না নগর রাজধানী- 
মানুষের কত কীর্তি, কত নদী গিরি সিন্ধু মরু, 
কত-না অজানা জীব, কত-না অপরিচিত তরু
 রয়ে গেল অগোচরে। বিশাল বিশ্বের আয়োজন; 
মন মোর জুড়ে থাকে অতি ক্ষুদ্র তারি এক কোণ । 
সেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণবৃত্তান্ত আছে যাহে
অক্ষয় উৎসাহে – 
যেথা পাই চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী 
কুড়াইয়া আনি । 
জ্ঞানের দীনতা এই আপনার মনে 
পূরণ করিয়া লই যত পারি ভিক্ষালব্ধ ধনে।
 আমি পৃথিবীর কবি, যেথা তার যত উঠে ধ্বনি 
আমার বাঁশির সুরে সাড়া তার জাগিবে তখনি, 
এই স্বরসাধনায় পৌঁছিল না বহুতর ডাক -
রয়ে গেছে ফাঁক ।
প্রকৃতির ঐকতানস্রোতে
নানা কবি ঢালে গান নানা দিক হতে; 
তাদের সবার সাথে আছে মোর এইমাত্ৰ যোগ- 
সঙ্গ পাই সবাকার, লাভ করি আনন্দের ভোগ,
পাই নে সর্বত্র তার প্রবেশের দ্বার, 
বাধা হয়ে আছে মোর বেড়াগুলি জীবনযাত্রার ৷ 
চাষি খেতে চালাইছে হাল,
তাঁতি বসে তাঁত বোনে, জেলে ফেলে জাল- 
বহুদূর প্রসারিত এদের বিচিত্র কর্মভার 
তারি পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার ।
 অতি ক্ষুদ্র অংশে তার সম্মানের চিরনির্বাসনে 
সমাজের উচ্চ মঞ্চে বসেছি সংকীর্ণ বাতায়নে ।
 মাঝে মাঝে গেছি আমি ও পাড়ার প্রাঙ্গণের ধারে, 
ভিতরে প্রবেশ করি সে শক্তি ছিল না একেবারে । 
জীবনে জীবন যোগ করা 
না হলে কৃত্রিম পণ্যে ব্যর্থ হয় গানের পসরা।
তাই আমি মেনে নিই সে নিন্দার কথা 
আমার সুরের অপূর্ণতা ।
 আমার কবিতা, জানি আমি,
 গেলেও বিচিত্র পথে হয় নাই সে সর্বত্রগামী । 
কৃষাণের জীবনের শরিক যে জন,
 কর্মে ও কথায় সত্য আত্মীয়তা করেছে অর্জন,
 যে আছে মাটির কাছাকাছি, 
সে কবির বাণী-লাগি কান পেতে আছি। 
এসো কবি অখ্যাতজনের 
নির্বাক মনের ৷
মর্মের বেদনা যত করিয়া উদ্ধার-
 প্রাণহীন এ দেশেতে গানহীন যেথা চারি ধার, 
অবজ্ঞার তাপে শুষ্ক নিরানন্দ সেই মরুভূমি
 রসে পূর্ণ করি দাও তুমি । 
অন্তরে যে উৎস তার আছে আপনারি 
তাই তুমি দাও তো উদ্‌বারি । 
সাহিত্যের ঐকতানসংগীতসভায় 
একতারা যাহাদের তারাও সম্মান যেন পায় - 
মূক যারা দুঃখে সুখে, 
নতশির স্তব্ধ যারা বিশ্বের সম্মুখে, 
ওগো গুণী, 
কাছে থেকে দূরে যারা তাহাদের বাণী যেন শুনি ।
[সংক্ষেপিত]

Related Question

View All
উত্তরঃ 'ঐকতান' কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'জন্মদিনে' কাব্যের অন্তর্গত।
Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
450
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews