কোনো আকারের অনুরূপ বিষয়কে বলা হয় আকারিক বিষয়।
কোনো বিষয় যখন কোনো কিছুর নির্দেশ বা আভাস দেয়, তখন তাকে সংকতে বলে। সংকেত দুই প্রকার; যথা- স্বাভাবিক সংকেত ও কৃত্রিম সংকেত। দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে সংকেত ব্যবহার করে থাকি, তাকে 'কৃত্রিম সংকেত' বলে। যে সংকেত প্রকৃতির রাজ্যে অবস্থান করে, তাকে স্বাভাবিক সংকেত বলে।
উদ্দীপকে কানাডার বইমেলায় বেড়াতে গিয়ে মীম হারিয়ে যায়। স্থানীয় মাম্পি নামের এক মহিলা মীমকে পেয়ে বাসায় নিয়ে যায়। কিন্তু মীম তার নাম-ঠিকানা বলতে অক্ষমতা প্রকাশ করে। এক পর্যায়ে মীম বাংলাদেশের পতাকা এঁকে দেখালে বুঝতে পারে মীম বাংলাদেশি। এখানে মীমের পতাকা আঁকার মধ্যে যুক্তিবিদ্যার প্রতীকের ইঙ্গিত রয়েছে। কোনো বস্তুকে নির্দেশ করার, বোঝার এবং ব্যক্ত করার জন্য যে লিখিত বা কথিত চিহ্ন ব্যবহার করা হয় তাকে 'প্রতীক' বলে। যেমন- কোনো দেশের পতাকা সে দেশের প্রতীক, রাস্তার লাল বাতি গাড়ি থামানোর প্রতীক, গাড়িতে লাল রঙের '+' চিহ্ন চিকিৎসা সেবার প্রতীক। তাই যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের ব্যবহার একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তিবিদ্যায় A, E, I, O যুক্তিবাক্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য হয় এবং গণিত শাস্ত্রে =, +, -, X, ইত্যাদি চিহ্ন প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মূলত প্রতীক হলো এমন বিষয়, যা সংক্ষিপ্তরূপে ব্যবহৃত হয়ে কোনো কিছুর অর্থকে স্পষ্ট করে, ভাষার ত্রুটি দূর করে।
উদ্দীপকে মীম তার পরিচয় প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পতাকা অঙ্কন করে যা যুক্তিবিদ্যায় প্রতীক রূপে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত প্রতীক হলো কোনো কিছুকে নির্দেশ করার, বোঝার এবং ব্যক্ত করার জন্য যে লিখিত বা কথিত চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। প্রতীক সর্বদা মানুষের ব্যবহার ও ব্যাখ্যার উপর নির্ভরশীল। মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে যেকোনো চিহ্নকে প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। মূলত প্রতীক হলো এমন বিষয়, যা সংক্ষিপ্ত রূপে ব্যবহৃত হয়ে কোনো কিছুর অর্থকে স্পষ্ট করে, ভাষার ত্রুটি দূর করে। প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে সাধারণ ভাষার অস্পষ্টতা ও দ্ব্যর্থকতা জাতীয় দোষ-ত্রুটি এবং ভাষার সীমাবদ্ধতা দূর করা যায়। প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে জটিল যুক্তিকে সংক্ষেপে প্রকাশ করা যায়। ভাষার দোষ-ত্রুটি এড়িয়ে চলা যায় এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা যায়। প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে চিন্তা ও শ্রমের দিক থেকে মিতব্যয়ী হওয়া এবং বক্তব্যের সারমর্মের প্রতি মনোযোগী হওয়া যায়। প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আবশ্যকীয় বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব এবং অনাবশ্যকীয় বিষয়কে অপনয়ন করতে পারি। সুতরাং, মীম তার অঙ্কিত পতাকা দ্বারা বা প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে ভাষার ত্রুটি পরিহার করেছে।
Related Question
View Allযে সংকেত প্রকৃতির রাজ্যে অবস্থান করে তাকে স্বাভাবিক সংকেত বলে।
সংকেত দুই ধরনের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে স্বাভাবিক সংকেত, অন্যটি কৃত্রিম সংকেত। স্বাভাবিক সংকেত হলো তাই যা প্রকৃতির রাজ্যে অবস্থান করে। যেমন- ঝড়-ঝঞ্ঝার সংকেত। কৃত্রিম সংকেত বলতে দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে সংকেত ব্যবহার করে থাকি। যেমন- ট্রাফিকের লালবাতি- গাড়ি থামানোর সংকেত। এই সংকেত আমরা নিজেদের প্রয়াজনে ব্যবহার করে থাকি এবং একে আমরা তথা মানুষ সৃষ্টি করেছে। সুতরাং কৃত্রিম সংকেত হলো যা দৈনন্দিন জীবনে আমরা ব্যবহার করে থাকি।
প্রতীক বলত আমরা বুঝি যে কোনো কিছু নির্দেশ করার, বোঝার এবং ব্যক্ত করার জন্য যে লিখিত বা কথিত চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। কোনো কিছুর পাশে যখন (√) টিক চিহ্ন দেই তখন তা সঠিক বলে আমরা জানি। প্রতীককে মানুষ নিজ ইচ্ছা ও সুবিধা অনুযায়ী ব্যাখ্যা করে থাকে। লাল বাতিকে গাড়ি থামানোর সংকেত হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এটি মানুষের ব্যবহার ও ব্যাখ্যার উপর নির্ভরশীল। প্রতীক যেহেতু লিখিত বা কথিত রূপ সুতরাং এর সাথে এর অর্থের সরাসরি বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। যেমন 'লালবাতি' প্রতীককে আমরা সব সময় সর্বক্ষেত্রে জানি। এটিকে জানার জন্য প্রত্যক্ষণের প্রয়োজন হয় না। অর্থাৎ এটি লিখিত রূপ বলেই সরাসরি প্রত্যক্ষণের প্রয়োজন হয় না।
লালবাতি হচ্ছে একটি প্রতীক যা মানুষের ব্যাখ্যা ও ব্যবহার এর উপর নির্ভরশীল। লালবাতি প্রতীকটি প্রত্যক্ষ হলে সংকেতের রূপ নিবে। লালবাতিকে আমরা গাড়ি থামানোর প্রতীক হিসাবে জানি। যখন এটি রাস্তার ট্রাফিক মোড়ে জ্বলে তখন গাড়ি থামানোর সংকেত হিসাবে বোঝানো হয়। সুতরাং লালবাতি- যেমন প্রতীক, তেমন সংকেতও বটে। লালবাতি যখন প্রতীকরূপে থাকে তখন তা কোনো ধরনের প্রত্যাশা জাগায় না। সুতরাং উদ্দীপকে যে লালবাতির কথা বলা হয়েছে তা মূলত প্রতীক এবং গাড়ি থামানোর সময় সংকেত হিসাবে ব্যবহৃত হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে লালবাতি গাড়ি থামানোর প্রতীক। অর্থাৎ লালবাতি যদি রাস্তার ট্রাফিক মোড়ে জ্বালানো হয় তবে গাড়ি থেমে যায়। সুতরাং এর উপযোগিতা আছে। অর্থাৎ প্রতীকের উপযোগিতা রয়েছে। প্রতীক বলতে এমন কিছু লিখিত বা কথিত চিহ্নকে বোঝায় যা কোনো কিছু নির্দেশ করে। লালবাতি একটি চিহ্ন যা জ্বলে উঠলেই গাড়ি থেমে যায়। প্রতীকের উপযোগিতা ব্যাপক। প্রতীকের ফলে জটিল বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপন করা যায়। যেমন কোনো গাড়িকে ট্রাফিক পুলিশ থামাতে চাইলে লালবাতি জ্বালায় এবং গাড়িটি থেমে যায়। কিন্তু লালধাতির প্রতীক ব্যবহারের পরিবর্তে সে যদি চিৎকার করে তবে তা থামানো কষ্টসাধ্য বটে। সুতরাং প্রতীকের উপযোগিতা রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতীকের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। যেমন-যুক্তিবিদ্যায় প্রতীকের ব্যবহার অতীব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক জটিল যুক্তিকে প্রতীকের মাধ্যমে আমরা সহজে প্রকাশ করতে ও বুঝতে পারি। গণিতের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো প্রাসঙ্গিক বিষয়ের দিকে মনোযোগ আকর্ষণের জন্য প্রতীক গুরুত্বপূর্ণ ভূকিা রাখে। কোনো বিষয় যখন ভাষায় প্রকাশ করা হয় তখন দুর্বোধ্য মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতীকের মাধ্যমে তা সহজ করা হয়।
সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, রাজু ও মিনার বাবার উত্তরের মাধ্যমে প্রতীকের উপযোগিতা প্রকাশ পেয়েছে।
যে যুক্তিবিদ্যায় যুক্তিকে ভাষার মাধ্যমে প্রকাশ করা হয় তাকে 'সাবেকি যুক্তিবিদ্যা' বলে।
যে বাক্যকে বিশ্লেষণ করলে আর কোনো অঙ্গবচন বা উপাদান পাওয়া যায় না মূলত সেটিই হলো সরল বাক্য। যেমন- রাসেল হন একজন দার্শনিক। এ বাক্যটিকে ভেঙ্গে আর কোনো বাক্য আমরা পাই না। তাই একে পারমাণবিক বাক্যও বলা হয়। সুতরাং সরল বাক্যকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বাক্যে ভাগ করা যায় না। যেমন ভাবে পরমাণুকে ভাগ করা যায় না। অবশ্য এই ধারণা (পরমাণুকে ভাগ করা যায় না) আগের। সরল বাক্যকে 'নিরপেক্ষ বাক্য'ও বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!