যে তন্ত্রের মাধ্যমে প্রাণী তার বাইরের পরিবেশের সাথে সমন্বয় সাধন এবং অঙ্গসংস্থানিক কার্যকলাপকে নিয়ন্ত্রণ করে সুসংবদ্ধ জীবনযাপনে সক্ষম হয় তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
মস্তিষ্ক শাখার উপর অবস্থিত মাসা ইন্টারমিডিয়া দ্বারা সংযুক্ত দুই অংশবিশিষ্ট স্ফীত সম্মুখ মস্তিষ্কের অংশকে থ্যালামাস বলা হয়। এটিকে সংবাদ প্রেরক কেন্দ্রও বলা হয়।
থ্যালামাস বিভিন্ন ইন্দ্রিয় থেকে সংবাদ গ্রহণ করে এবং মস্তিষ্কের ঊর্ধ্বতন কেন্দ্রসমূহে তা প্রেরণ করে থাকে। তাই একে রিলে কেন্দ্র বা সংবাদ প্রেরক কেন্দ্র বলা হয়।
উদ্দীপকে নদীর হাত সরে আসার ঘটনাটি ছিল প্রতিবর্তী ক্রিয়ার ফলাফল।
নদী, কাপড় ইস্ত্রি করার সময় গরম ইস্তিতে হাতের স্পর্শ লাগার সাথে সাথেই হাতটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরে আসে। তাই এটিকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া হিসেবেই শনাক্ত করা যায়। এই ধরনের ক্রিয়ার বৈশিষ্ট্যসমহ নিয়ে ব্যাখ্যা করা হলো।
প্রতিবর্তী ক্রিয়াসমূহ ব্যক্তির সচেতন ইচ্ছা বহির্ভূত, তাৎক্ষণিক উপযোজন ক্ষমতা থেকে উদ্ভুত এবং বিশেষ উদ্দীপকের প্রতি অভিসম্ভাবীরূপেই সংঘটিত হয়। এগুলো সুনির্দিষ্ট উদ্দীপকের প্রতি সহজাত আচরণ এবং এদের প্রতিক্রিয়াকাল সংক্ষিপ্ত হয়ে থাকে। উদ্দীপকে নদীর আচরণটিতে উপরের বৈশিষ্ট্যাবলি লক্ষণীয়। তাই এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রতিবর্তী ক্রিয়া ছিল।
উদ্দীপকে সাগরের পালিয়ে যাওয়া এবং সৈকতের পাল্টা আক্রমণের বিষয়টিতে এড্রিনাল গ্রন্থির প্রভাব বিদ্যমান।
একজন মানুষের প্রতিটি বৃক্কের উপরে একটি করে মোট দুটি এড্রিনাল গ্রন্থি রয়েছে। যার প্রতিটিতে 'এড্রিনাল কর্টেক্স' ও 'এড্রিনাল মেডুলা' নামে দুটি অংশ আছে।
এড্রিনাল মেডুলা থেকে এড্রিনালিন ও নরএড্রিনালিন নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। এড্রিনালিন হরমোন অত্যন্ত উত্তেজক। এই হরমোনটির প্রভাবে শরীরে তীব্র ভাবানুভূতি ও উত্তেজনার সমস্ত লক্ষণ প্রকাশ পায়। এটি সমবেদী স্নায়ুমণ্ডলীকে উত্তেজিত করে। এর সাথে আবেগের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। অত্যধিক ভয়, ক্রোধ, উদ্বেগ প্রভৃতি আবেগের ক্ষেত্রে এড্রিনালিন অতিরিক্ত মাত্রায় ক্ষরিত হয়। আবেগের ক্ষেত্রে এই রস অতিরিক্ত সক্রিয়তা ও শারীরিক শক্তি যুগিয়ে থাকে। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে আক্রমণ করার জন্য অথবা ভয়ে ভীত হয়ে আত্মরক্ষা করতে পলায়নের জন্য উপযুক্ত শক্তি সৃষ্টির কাজে এই গ্রন্থি সহায়তা করে থাকে।
ছিনতাইকারী পথরোধ করলে সাগরের আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে যাওয়া এবং সৈকতের ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে পাল্টা আক্রমণ উভয় ক্ষেত্রে এড্রিনাল গ্রন্থির নিঃসৃত এড্রিনালিন হরমোনের প্রভাব বিদ্যমান।
Related Question
View Allকোনো বাহ্যিক উদ্দীপনা ইন্দ্রিয়কে উদ্দীপিত করলে প্রাণী তার প্রতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে যে প্রতিক্রিয়া করে তাকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে।
পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের কারণে মানুষ লম্বা বা বেঁটে হয়।
পিটুইটারি গ্রন্থির সম্মুখভাগ থেকে শরীরবর্ধক হরমোন নামে এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন যদি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্ষরিত হয় তাহলে মানুষ দৈত্য আকৃতির হয়। এমনকি একটি অল্প বয়স্ক কিশোরকেও ৬ থেকে ৮ ফুট লম্বা বলে মনে হয়। আবার এ হরমোনের ক্ষরণ কম হলে দেহ খর্বাকৃতি হয়। এ ধরনের ব্যক্তিকে পিটুইটারি বামনও বলা হয়। তাই বলা যায়, হরমোনের প্রভাবের কারণেই মানুষ লম্বা বা বেঁটে হয়।
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্র-১ এ স্নায়ুকোষ বা নিউরনের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে, যার গঠন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্নায়ুকোষ বা নিউরন হলো স্নায়ুতন্ত্রের তথ্যের বাহক। সব স্নায়ুকোষের গঠন ও আকৃতি একই রকম নয়। কতকগুলোর দৈর্ঘ্য ও ঘনত্ব এতই ছোট যে দেখার জন্য শক্তিশালী অনুবীক্ষণ যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। আবার কতকগুলো স্নায়ুকোষ তিনফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। সাধারণ কোষের ন্যায় স্নায়ুকোষেরও তিনটি অংশ রয়েছে। যথা- কোষ দেহ, কোষ কেন্দ্র ও কোষ আবরণ। তবে সাধারণ কোষ থেকে স্নায়ুকোষের আরও দুটি অংশ বেশি রয়েছে তা হলো স্নায়ু কেশ ও স্নায়ু শাখা।
কোষ দেহ: সাইটোপ্লাজম নামক অপেক্ষাকৃত তরল পদার্থ নিয়ে গঠিত অংশের নাম হলো কোষ দেহ। সাইটোপ্লাজমের মধ্যে রয়েছে ক্রোমোফিল, গলজিবডি, মাইটোকন্ড্রিয়া, ভ্যাকুউল, লাইসোজম ইত্যাদি। কোষ কেন্দ্র: কোষের মধ্যে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত ঘন গোলাকার ক্ষুদ্র পিন্ডকে বলা হয় কোষ কেন্দ্র। কোষ কেন্দ্রের মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদার্থকে বলা হয় নিউক্লিউলাই। কোষ আবরণ: কোষদেহের বাহিক্য আবরণকে বলে কোষ প্রাচীর বা কোষ আবরণ। কোষের অন্যান্য অংশের তুলনায় অপেক্ষাকৃত শক্ত অংশ হলো কোষ আবরণ। এগুলো ছাড়াও প্রতিটি স্নায়ুকোষে এক বা একাধিক স্নায়ুকোষ থাকে। স্নায়ুকোষগুলো উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং কোষদেহে তা প্রেরণ করে। আবার প্রতিটি স্নায়ুকোষে রয়েছে স্নায়ুশাখা যা সাধারণত পেশি বা গ্রন্থি অথবা অন্য কোনো বার্তা গ্রহণকারী স্নায়ুকোষের সাথে সংযুক্ত থাকে। একে স্নায়ুকোষের প্রস্থান দ্বার বলা হয়ে থাকে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্র-১ এবং চিত্র-২ এ চিত্রিত যথাক্রমে স্নায়ুকোষ
বা নিউরন এবং সন্নিকর্ষকে দেখানো হয়েছে যেগুলো শারীরবৃত্তীয় কাজে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।
স্নায়ুকোষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পন্ন করে থাকে। সংবেদী বা অন্তর্মুখী স্নায়ুকোষ শরীরের বিভিন্ন ইন্দ্রিয় থেকে সংবেদন বা উদ্দীপনা বহন করে মস্তিষ্কে উৎপন্ন স্নায়ুপ্রবাহ বহন করে মাংসপেশি বা গ্রন্থিসমূহে নিয়ে যায়। স্নায়ুকোষের মধ্যে গতিবাহী স্নায়ুকোষ মাংসপেশির সাথে যুক্ত থেকে পেশির সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। ক্ষরণশীল স্নায়ুকোষ গ্রন্থির সাথে সংযুক্ত থেকে গ্রন্থিকে রাসায়নিক পদার্থের ক্ষরণের জন্য উত্তেজিত করে এছাড়াও কার্যবর্ধক ও
অবদমনকারী স্নায়ুকোষ গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলি সম্পাদনের সাথে সংযুক্ত। আবার সংযোজক স্নায়ুকোষগুলো কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ভেতর অবস্থান করে এবং অন্তর্মুখী স্নায়ুকোষের সাথে বহির্মুখী স্নায়ুকোষের সমন্বয় ও সংযোগ স্থাপন করে। স্নায়ুকর্ষ হলো একটি স্নায়ুকোষের সাথে আরেকটি স্নায়ুকোষের সংযোগস্থল। একটি স্নায়ুকোষ থেকে সংকেত বা স্নায়বিক উদ্দীপনা অন্য কোষে রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়, যা সন্নিকর্ষমূলক পরিবহন নামে পরিচিত। সন্নিকর্ষের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এক স্নায়ুকোষ থেকে উদ্দীপনা অপর একটি স্নায়ুকোষে হয় সম্পূর্ণ পরিবাহিত হবে, না হয় একেবারেই হবে না। মাঝামাঝি সঞ্চালন হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।
স্নায়ুকোষগুলো পরস্পরের সাথে সংযুক্ত না থাকার ফলে বড় সুবিধা হলো একটি স্নায়ুকোষ থেকে উদ্দীপনা একের বেশি স্নায়ুকোষে সঞ্চালিত হতে পারে। আবার ঠিক একইভাবে অনেক স্নায়ুকোষের উদ্দীপনা একইসাথে একত্রিত হয়ে একটি স্নায়ুকোষে সঞ্চালিত হতে পারে
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, চিত্র-১ ও ২ এ ইঙ্গিতকৃত স্নায়ুকোষ ও সন্নিকর্ষ শারীরবৃত্তীয় কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যে তন্ত্রের মাধ্যমে প্রাণী তার বাইরের পরিবেশের সাথে সমন্বয় সাধন এবং অঙ্গসংস্থানিক কার্যকলাপকে সুনিয়ন্ত্রিত করে সুসংবদ্ধ জীবনযাপনে সক্ষম হয় তাকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
প্রতিবর্তী ক্রিয়া প্রাণীর ইচ্ছার দ্বারা নয়, বরং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংঘটিত হয়।
কোনো বাহ্যিক উদ্দীপক ইন্দ্রিয়কে উদ্দীপিত করলে প্রাণী তার প্রতি যে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়া করে তাকে প্রতিবর্তী ক্রিয়া বলে। এ ধরনের ক্রিয়া প্রাণীকে ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়। যেমন- আগুনে হাত লাগলে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া, তীব্র আলোতে চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রভৃতি। যেহেতু প্রাণীর ইচ্ছার ওপর এ ধরনের ক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেই, তাই একে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়াই বলা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!