যাকাত প্রদানের নির্ধারিত খাতকে ইসলামি পরিভাষায় মাসারিফ বলে।
সদ্য মুসলমান হওয়া ব্যক্তির সমস্যা দূরীকরণে এবং ইসলামের ওপর অবিচল আস্থা রাখার উদ্দেশ্যে তাদের যাকাত প্রদান করা যায়। ইসলামি পরিভাষায় তাদের 'মুয়াল্লাফাতুলকুলুব' বলে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে এ জাতীয় লোককে যাকাত দেওয়ার বিধান ছিল।
জনাব বাবুলের ইবাদত যাকাত আদায় হয়নি। কেননা তিনি তার সম্পদের হিসাব করে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত হিসেবে আদায় করেননি।
যাকাত ইসলামের ফরজ বিধান। কারও নিকট নিসাব পরিমাণ সম্পদ ১ বছর গচ্ছিত থাকলে উক্ত সম্পদের ৪০ ভাগের ১ ভাগ অর্থাৎ শতকরা ২.৫ টাকা হারে যাকাত আদায় করতে হয়। নিসাব পরিমাণ সম্পদ বলতে বোঝায়- সাড়ে সাত তোলা সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা অথবা এ দুটোর কোনো একটির নগদ বাজার মূল্যের সম্পদ থাকা।
উদ্দীপকের বাবুল নিম্নোক্ত হিসাবে যাকাত প্রদান করলে যাকাত আদায় হবে।
আমরা জানি,
১০০ টাকায় যাকাত দিতে হয় ২.৫ টাকা
১ ‘’ ‘’ ‘’ ‘’
৪৫,০০,০০০ ‘’ ‘’ ‘’ ‘’ ‘’
= ১,১২,৫০০ টাকা
অতএব, বাবুল সাহেবকে ১,১২,৫০০ টাকা যাকাত আদায় করতে হবে।
জনাব নুরুল ইসলামের হজের অন্যতম ফরজ বিধান আরাফায় অবস্থান করার বিধানটি লঙ্ঘন করেছেন। এজন্য তার হজ যথার্থ হয়নি।
নির্দিষ্ট দিনসমূহে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র কাবাঘর ও সংশ্লিষ্ট স্থানসমূহে বিশেষ কার্যাদি সম্পাদন করাকে হজ বলে। হজের ফরজ তিনটি। এর মধ্যে অন্যতম হলো আরাফায় অবস্থান। জিলহজের নবম তারিখে আরাফার দিবস এদিন সকলে আরাফায় অবস্থানের উদ্দেশ্যে মিনায় ফজরের নামাজ আদায় করেন। আরাফার ময়দানের দিকে রওয়ানা দিতে হয়। উদ্দীপকের জনাব নুরুল ইসলাম হজের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ ফরজটি পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
উদ্দীপকের জনাব নুরুল ইসলাম ইহরাম বাঁধার পর তাওয়াফ করলেও তার কয়েকদিন পর অনুষ্ঠিত আরাফার ময়দানে মহাসমাবেশে যোগদান করেননি। এতে হজের একটি ফরজ আদায় হয়নি। আরাফায় অবস্থান করা হজের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আরাফায় ইমামের পিছনে একসাথে যোহরের ওয়াক্তে যোহর ও আসর উভয় নামাজ একত্রে আদায় করবে। অতঃপর ইমামের খুতবায় হজের বাকি কাজ জানবেন। আরাফায় এক মুহূর্তের জন্য হলেও অবস্থান করতে হবে, অন্যথায় হজ হবে না।
সুতরাং জনাব নুরুল ইসলামের হজ অসম্পূর্ণ রয়েছে বলা যেতে পারে। যদিও তিনি কাফফারা হিসেবে দশটি রোযা রেখেছেন।
Related Question
View Allহজে মহিলাদের চুলের অগ্রভাগের কিছুটা কাটলেই চলে।
নামাজের উদ্দেশ্যে যেমন তাহরিমা বাঁধতে হয়, হজের জন্যও তেমনি ইহরাম বাঁধতে হয়। সালাতে তাকবিরে তাহরিমার পর যেমন সকল দুনিয়াবি চিন্তা বন্ধ হয়ে যায় তদ্রুপ ইহরাম বাঁধার পর দুনিয়ার বৈধ কাজ অবৈধ হয়ে যায়। শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ থেকে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত যেকোনো দিন ইহরাম বাঁধা যায়। এ সময় ছাড়া অন্য সময় ইহরাম বাঁধলে হবে না।
আমিরুল সাহেবের কাজটিতে আকিকার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
'আকিকা' আরবি শব্দ। এর অর্থ ভাঙা, কেটে ফেলা ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায় সন্তান জন্মের পর সপ্তম দিনে তার কল্যাণ কামনা করে আল্লাহর নামে কোনো হালাল গৃহপালিত পশু জবাই করাকে আকিকা বলা হয়। আকিকা করা সুন্নাত। এর মাধ্যমে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়। সন্তানের বিপদাপদ দূর হয়। কাজেই প্রত্যেক পিতামাতার উচিত নবজাত সন্তানের যথাসময়ে আকিকা করা। হাদিসে আছে, "প্রতিটি নবজাত সন্তান আকিকার সাথে সম্পৃক্ত তার জন্মের সপ্তম দিনে তার নামে পশু জবাই করতে হবে। তার নাম রাখা হবে, তার মাথার চুল মুন্ডন করা হবে।" (নাসায়ি)
উদ্দীপকের আমিরুল সাহেব পুত্র সুহানের জন্মের সপ্তম দিনে দুটি ছাগল জবাই করেছেন। যাকে ইসলামি শরিয়তে আকিকা বলে। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, 'ছেলে সন্তানের জন্য-দুটি ছাগল ও মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল জবেহ করাই যথেষ্ট।' (নাসায়ি)
খাইরুল সাহেবের কাজটিতে কুরবানি পালিত হয়েছে। আর এতে মানবজাতির জন্য ত্যাগের শিক্ষা রয়েছে।
কুরবানির সমার্থক শব্দ 'উযহিয়্যাহ'। এর আভিধানিক অর্থ ত্যাগ, উৎসর্গ ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় জিলহজ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১২ তারিখ সন্ধ্যা পর্যন্ত আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য যে পশু জবাই করা হয় তাকে কুরবানি বলে। কুরবানি আল্লাহর নবি হযরত ইবরাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর অতুলনীয় ত্যাগের স্মৃতি বহন করে। এর মাধ্যমে মুসলমানগণ ঘোষণা করেন যে, তাদের কাছে নিজ জানমাল অপেক্ষা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মূল্য অনেক বেশি।
প্রদত্ত উদ্দীপকে ইমাম সাহেব বলেন, কুরবানিতে আমাদের জন্য ত্যাগের শিক্ষা রয়েছে। কেননা কুরবানি বলতে শুধু গরু, ছাগল, মহিষ, দুম্বা ইত্যাদি জবাই করা বোঝায় না। বরং এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন বোঝায়।
সুতরাং কুরবানির ত্যাগের শিক্ষা আমাদেরকে পরোপকারে উৎসাহিত করবে ও মানবতাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটাবে। যা ইমাম সাহেবের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে।
রাসুলুল্লাহ (স.) নবি হওয়ার পর নিজের আকিকা নিজেই করেছিলেন।
যাকাতের মাধ্যমে সমাজে ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার বিরাজমান বৈষম্য দূর হয়। আল্লাহর নির্দেশমতো যথাযথভাবে যাকাত প্রদান করলে সমাজের কোনো লোক অন্নহীন, বস্ত্রহীন, গৃহহীন থাকবে না। কেউ বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পাবে না। সম্পদশালী ব্যক্তিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যাকাত ও সদকার অর্থে অভাবীদের প্রয়োজন মিটিয়েও অনেক জনহিতকর এবং কল্যাণমূলক কাজ করা যায়। বহু দরিদ্র ব্যক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা যায়। যারা কর্মক্ষম তাদের উপযোগী বিভিন্ন উপকরণ দেওয়া যেতে পারে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!