উদ্দীপকের কামালের গ্রামের পরিবার অর্থাৎ যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ার পেছনে আর্থ-সামাজিক কারণ অনেকাংশে ভূমিকা রেখেছে।
যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে যাওয়ার অর্থনৈতিক কারণটির সাথে শিল্পায়ন ও নগরায়ণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাধারণত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো নগরকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে। ফলে নতুন কর্মসংস্থানের খোঁজে বহু মানুষ গ্রাম ছেড়ে শহরে আসে। তাছাড়া গ্রামীণ আর্থিক কাঠামো মূলত কৃষিনির্ভর। ফলে পেশাগত জীবনে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সচ্ছলতা অর্জনে অনেক মানুষ শহরে পাড়ি জমায় এবং এর প্রভাব পড়ে যৌথ পরিবার ব্যবস্থার ওপর। ফলে দিন দিন যৌথ পরিবার ব্যবস্থা সংকুচিত হচ্ছে।
যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভাঙনের সামাজিক কারণগুলোর মধ্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী মনোভাব, উন্নত জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা ইত্যাদি ক্রীয়াশীল। তাছাড়া বর্তমান সময়ে মানুষ নিজেকে সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করার যুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলস্বরূপ মানুষ উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা, উন্নত জীবনযাপন ইত্যাদির প্রত্যাশায় যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার গঠন করছে। যেমনটি উদ্দীপকের কামালের ক্ষেত্রেও লক্ষ করা যায়। উন্নত জীবন যাপনের স্বপ্ন তথা ভাইদের চাকরি পাওয়ার প্রত্যাশাই তার গ্রামের যৌথ পরিবারটিকে ভেঙে শহর কেন্দ্রিক করেছে।
উপরের আলোচনার ওপর ভিত্তি করে তাই এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভাঙনে আর্থ-সামাজিক কারণ দায়ী।
Related Question
View Allনৈতিকতা হলো মানুষের অন্তর্নিহিত সূক্ষ্ম অনুভূতি।
আদিম সমাজে মানুষে মানুষে সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল। আদিম সমাজে সংহতি ও সম্প্রীতিবোধ ছিল দৃঢ়। ঐ সময় সংগৃহীত খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য জিনিসপত্র জ্ঞাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দান ও উপহার হিসেবে লেনদেন চলত। জিনিসপত্র ক্রয় বা সঞ্চয় করে রাখার মন- মানসিকতা মানুষের মধ্যে গড়ে উঠে নি। এ ধরনের লেনদেন। সমাজের সংহতি রক্ষায় বেশ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকে মানিকের কাজের মধ্যে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
পরিবারের ভরণপোষণ করার জন্য আয় ও উৎপাদন করতে হয় এবং তা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। আয়ের কিছু অংশ দুর্দিনের জন্য জমা করেও রাখা হয়। জীবন বিমা, শিল্পে লগ্নি, ব্যবসা, জমি ক্রয় অথবা চাকরি ইত্যাদি যেভাবেই হোক, কিছু না কিছু সঞ্চয় করতেই হয়। এসব আয় ব্যয় ও সঞ্চয় মূলত পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত। মানিক সংসারের অর্থ উপার্জনের জন্য একটি বেসরকারি অফিসে কাজ করে। আর এ কাজ পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
তাই বলা যায়, মানিকের কাজে পরিবারের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ইঙ্গিত রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থাৎ বিবাহ ও পরিবার সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত- আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণভাবে একমত।
মানবসমাজের সবচেয়ে আদিম সংগঠন হলো পরিবার। প্রাচীনকালে পরিবারকে কেন্দ্র করেই মানবসমাজের সব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। সমাজবিজ্ঞান হলো এমন একটি বিজ্ঞান যা সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং এগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করে।
সমাজবিজ্ঞানের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হলো পরিবার সমাজবিজ্ঞান। পরিবারের উৎপত্তি, বিবর্তন, বিকাশ, ধরন, পরিবর্তনশীল পরিবারের কার্যাবলি ও পরিবারের সমস্যা সম্পর্কে সমাজবিজ্ঞানের এ শাখায় আলোচনা করা হয়। তাছাড়া পরিবার গঠিত হওয়ার মূল ভিত্তি বিবাহ নিয়েও সমাজবিজ্ঞানের এ শাখা আলোচনা করে। বিবাহ সম্পর্কিত আলোচনায় স্থান, কাল ও পাত্রভেদে বিবাহের ধরন, প্রকৃতি, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয় প্রাধান্য লাভ করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, বিবাহ ও পরিবার নিশ্চিতভাবেই সমাজবিজ্ঞানের পরিধিভুক্ত।
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো সুসংবদ্ধ জ্ঞান আহরণ।
একটি সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে দুই বা ততোধিক সামাজিক ঘটনা বা প্রপঞ্চের মধ্যে কার্য-কারণ সম্পর্ক নির্ণয় করার পদ্ধতিকে সমাজ গবেষণায় ব্যবহৃত পরীক্ষণ পদ্ধতি নামে অভিহিত করা হয়।
সমাজ গবেষণায় দুটি চলকের মধ্যকার সম্পর্কের রূপ-প্রকৃতি সম্পর্কে কোনো কল্পনা, যাচাই বা পরীক্ষা করে দেখার জন্য পরীক্ষণ পদ্ধতির সাহায্য নেয়া হয়। এর একটি চলক হলো স্বাধীন, যার প্রভাব লক্ষ করা যায় আরেকটি নির্ভরশীল চলকের ওপর। যেমন- পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে স্বাধীন চলক এবং এর ফলে পরিবর্তনকে নির্ভরশীল চলক বলে আখ্যায়িত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!