Civitas' শব্দের অর্থ 'নগররাষ্ট্র'।
রাষ্ট্রের সদস্যদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোেলা, তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করার জন্য মানবসমাজের এ বিশেষ দিকটি সুশৃঙ্খলভাবে আলোচনা করে বলে পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়।
বিজ্ঞান যেকোনো বিষয়ে সুশৃঙ্খলভাবে তত্ত্ব প্রদান করে। পৌরনীতিতে নাগরিকতার অর্থ ও প্রকৃতি, প্রকার, নাগরিকের কর্তব্য, নাগরিকতা অর্জন ও বিলুপ্তি, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার প্রভৃতি নাগরিকতাসংক্রান্ত বিষয়াবলির তত্ত্বগত আলোচনা করা হয়। এ কারণেই পৌরনীতিকে নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়।
উদ্দীপকে প্রথম বিষয় বলতে পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টিকে। বোঝানো হয়েছে। পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি নাগরিক জীবনের। সাথে সম্পৃক্ত সকল বিষয় সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে কামালকে। সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
উদ্দীপকের কামালের বাবা কামালকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে দুটি বিষয়ে পড়াতে চান। প্রথম বিষয়টি কামালকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার পাশাপাশি রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে। আমরা জানি, পৌরনীতি হলো নাগরিকতা বিষয়ক সামাজিক বিজ্ঞান। নাগরিকের জীবন ও কার্যাবলি যতদূর বিস্তৃত, পৌরনীতির আলোচনার পরিধিও ততদূর প্রসারিত। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিক দৃষ্টিভঙ্গি উদার করে, নাগরিকের মধ্যে কর্তব্যবোধ জাগ্রত করে, নাগরিক অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে, সুযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলার শিক্ষা প্রদান করে। শুধু তাই নয়, পৌরনীতি ও সুশাসন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও তত্ত্ব নিয়েও আলোচনা করে। এজন্য রাষ্ট্র ও সরকার সম্পর্কেও ভালো ধারণা পাওয়া যায় পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে। এটি আইন, স্বাধীনতা, সাম্য ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করে। মোটকথা, সুন্দর ব্যক্তিজীবন, সমাজজীবন ও রাষ্ট্রীয় জীবন সম্পর্কে জ্ঞান প্রদান ও সচেতন করে পৌরনীতি ও সুশাসন কামালকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় বিষয় বলতে পৌরনীতি ও সুশাসন এবং ইতিহাস বিষয় দুটিকে বোঝানো হয়েছে। আর এ দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক অতি ঘনিষ্ঠ।
উদ্দীপকের কামালের বাবা সন্তানকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দুটি বিষয় অর্থাৎ পৌরনীতি ও সুশাসন এবং ইতিহাসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি মনে করেন, পৌরনীতি ও সুশাসন কামালকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি রাষ্ট্র, সরকার, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা দেবে। আর ইতিহাস রাষ্ট্রের অতীত ঘটনাবলির আলোকে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সহায়তা করে।
পৌরনীতি ও সুশাসন' এবং 'ইতিহাস' বিষয় দুটির মধ্যে শুধু ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই বিদ্যমান নয়, বরং বিষয় দুটি পরস্পরের পরিপূরক ও সহায়ক। দুটি বিষয়ই সামাজিক বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টির জ্ঞান ছাড়া ইতিহাস পাঠ যেমন অসম্পূর্ণ থাকে, তেমনি ইতিহাসের তথ্য ছাড়া পৌরনীতি অপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক জন সিলি বলেন, "রাষ্ট্রবিজ্ঞান (পৌরনীতি) ছাড়া ইতিহাসের আলোচনা নিষ্ফল আর ইতিহাস ছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান (পৌরনীতি) ভিত্তিহীন।" ঐতিহাসিক ঘটনাসমূহ বর্তমান পৌরনীতি ও সুশাসনের মতবাদকে পরীক্ষিত সত্যের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করে। ঐতিহাসিক তথ্য যত বেশি পরিমাণে সংগৃহীত হবে, পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টির আলোচনাও তত বেশি নির্ভরযোগ্য হবে। এজন্য উইলোবি মনে করেন, ইতিহাস পৌরনীতিকে গভীরতা দান করে।
সুতরাং আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকে উল্লিখিত পৌরনীতি ও সুশাসন এবং ইতিহাসের সম্পর্ক অতি নিবিড় এবং উভয় শাস্ত্র একে অন্যের পরিপূরক ও সহায়ক।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!