কার্বন ট্রেডিং (Carbon Trading) বলতে কী বুঝেন? বাংলাদেশের পরিবেশ দূষণ রোখে এর গুরুত্ব এবং সম্ভাবনা সংক্ষেপে উল্লেখ করুন।

Updated: 5 hours ago
উত্তরঃ

কার্বন ট্রেডিং বা কার্বন বাজার হলো একটি আন্তর্জাতিক বাজারভিত্তিক কৌশল যা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কাজ করে। এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট দেশ বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নিঃসরণের একটি সর্বোচ্চ সীমা বা 'ক্যাপ' নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং কেউ সেই সীমার চেয়ে কম নিঃসরণ করলে সাশ্রয়কৃত অংশকে 'কার্বন ক্রেডিট' হিসেবে গণ্য করা হয় (১ ক্রেডিট = ১ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড)। যেসব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সীমার বেশি দূষণ করে, তারা জরিমানা এড়াতে অন্য প্রতিষ্ঠানের সাশ্রয়কৃত ক্রেডিট অর্থ দিয়ে কিনে নিতে পারে।

গুরুত্ব: বাংলাদেশের পরিবেশ দূষণ রোখে কার্বন ট্রেডিংয়ের গুরুত্ব বাংলাদেশের দেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশে পরিবেশ দূষণ কমাতে কার্বন ট্রেডিং বহুমুখী ভূমিকা পালন করতে পারে:

সবুজ প্রযুক্তির প্রসার: কার্বন ট্রেডিং পদ্ধতিটি ইটভাটা, টেক্সটাইল এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে প্রচলিত পদ্ধতির বদলে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে, কারণ কার্বন সাশ্রয় করলে তা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আর্থিক লাভ বা কার্বন ক্রেডিট এনে দেয়।

শিল্প কারখানার আধুনিকায়ন: কার্বন ক্রেডিটের সুবিধা পেতে শিল্প মালিকরা তাদের কারখানায় উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে আগ্রহী হয়, যা সরাসরি শিল্পাঞ্চলের বায়ু ও পানি দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে জনপ্রিয় করা: কয়লা বা তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির বদলে সৌরশক্তি বা বায়ুশক্তির ব্যবহার বাড়লে কার্বন ক্রেডিট অর্জন সহজ হয়, যা জ্বালানি খাতে গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ শূন্যের কোঠায় নামাতে এবং গ্রিন এনার্জি প্রজেক্টের খরচ কমাতে সাহায্য করে।

বনায়ন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা: যেহেতু গাছ কার্বন শোষণ করে, তাই কার্বন ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে বনায়ন কর্মসূচিকে একটি লাভজনক মডেলে রূপান্তর করা সম্ভব; এটি সুন্দরবনসহ দেশের প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষা এবং উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী তৈরিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে।

মিথেন গ্যাস নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বর্জ্য থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়েও ক্ষতিকর। কার্বন ট্রেডিংয়ের আওতায় 'বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ' প্রকল্পের মাধ্যমে মিথেন সাশ্রয় করে পরিবেশ রক্ষা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও মিথেন হ্রাস: ধানের জমিতে 'AWD' পদ্ধতির মতো পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে মিথেন নিঃসরণ কমিয়ে কৃষকরা কার্বন বাজারের সুবিধা নিতে পারেন, যা মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও দূষণ রোধে সহায়ক।

সম্ভাবনা: বাংলাদেশ কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক তালিকায় খুব নিচের দিকে থাকলেও, 'ক্লিন ডেভেলপমেন্ট মেকানিজম' (CDM)-এর আওতায় এখান থেকে বিশাল অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনাগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

বু- কার্বন ও সুন্দরবনের সম্ভাবনা: সুন্দরবন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম 'কার্বন সিঙ্ক' (Carbon Sink) হিসেবে পরিচিত। এই বনের ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ সাধারণ বনের তুলনায় বহুগুণ বেশি কার্বন শোষণ করে যা 'বু-কার্বন' নামে অভিহিত। এই বিশাল কার্বন শোষণ ক্ষমতাকে কার্বন সার্টিফিকেটে রূপান্তর করে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা আয় করতে পারে।

সোলার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসার: বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষ সোলার হোম সিস্টেম চালু রয়েছে, যা বিশ্বে অন্যতম বৃহৎ একটি নেটওয়ার্ক। এই বিশাল প্রকল্পের মাধ্যমে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হচ্ছে, তা যথাযথভাবে আন্তর্জাতিক কার্বন বাজারে উপস্থাপন করতে পারলে বাংলাদেশ বড় অংকের কার্বন ক্রেডিট অর্জন করতে সক্ষম হবে।

টেকসই শিল্পায়ন ও গ্রিন ফ্যাক্টরি: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প খাতে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক 'LEED' সার্টিফাইড সবুজ কারখানা (Green Factory) রয়েছে। এই পরিবেশবান্ধব কারখানাগুলোর কার্বন সাশ্রয়ী সক্ষমতাকে কার্বন ক্রেডিটে রূপান্তর করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নেওয়া এবং অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) ও জলবায়ু তহবিল: উন্নত দেশগুলো তাদের কার্বন নিঃসরণ কমানোর বাধ্যবাধকতা পূরণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী থাকে। কার্বন ট্রেডিংয়ের একটি সুসংগঠিত আইনি ও কারিগরি অবকাঠামো থাকলে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও টেকসই প্রযুক্তিতে বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষি খাতের আধুনিকায়ন: বাংলাদেশের বড় শহরগুলোর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষি খাতে মিথেন নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে নতুন ধরনের কার্বন ক্রেডিট তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর এবং উন্নত কৃষি পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে একদিকে পরিবেশ দূষণ কমবে, অন্যদিকে কার্বন বাজার থেকে অর্থনৈতিক লাভ নিশ্চিত হবে।

উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ: কার্বন ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন করে বনায়ন সৃষ্টিতে ব্যয় করা সম্ভব। এটি একদিকে কার্বন শোষণ বাড়াবে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূল রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আর্থিক ভিত্তি যোগাবে।

1

Related Question

View All
উত্তরঃ

লবণ পাঁচ প্রকারের -

Neutral Salt- তীব্র অম্ল ও তীব্র ক্ষার র প্রশমন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় যেমন table salt(NaCl)

Acidic Salt- তীব্র অম্ল ও মৃদু ক্ষার র প্রশমন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় যেমন NH4Cl, CuSO4

Basic Salt -  মৃদু অম্ল ও তীব্র ক্ষার র প্রশমন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয় যেমন Na2S, CH3COONa

Mixed Salt - মিশ্র লবণে একাধিক cation ( H*+ ব্যতীত) বা anion থাকে যেমন bleaching powder Ca(OCl)Cl, NaKCO3

Double Salt - যখন দুটো সরল বা সাধারণ লবণকে সমমোলার ( equimolar) অনুপাতে কেলাসিত বা crystallized করা হয় তখন যে লবন উৎপন্ন হয় তখন সেটাকে double salt বলে। Doubled salt জলে দ্রবীভূত হয়ে দুটো সরল লবন হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়

পটাশ অ্যালাম K2SO4.Al2(SO4)3.24H2O, খনিজ লবণ  Dolomite CaCO3.MgCO3 

Complex Salt - এই ধরনের লবণকে complex compound ও বলা হয়। এই ধরনের লবণে কেন্দ্র একটা ধাতুর পরমাণু থাকে যেটা চারধারে অন্য জটিল আয়ন র সাথে coordinate bond র সাথে যুক্ত হয়ে একটা আয়ন তৈরি করে। এই জটিল লবণ জলে পুরোপুরি বিশ্লেষিত হয় না। Potassium ferrocnide,

K4[ Fe(CN)6]. কেন্দ্রে Fe পরমাণুর সাথে cyanide ion CN^- cordinate bond দ্বারা যুক্ত, Fe(CN)6^4-- anion 4K^+1 cation. Anion বিশ্লেষিত হয়ে Fe^+2 ও CN^-1 হয় না। Tetra amino cupric sulphate [ Cu(NH3)4]SO4

109
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews