রানারের কাজ হচ্ছে ডাক বহন করা এবং নতুন খবর বয়ে আনা।
ঘরে অভাবের কারণে রানারের কাছে পৃথিবীটা 'কালো ধোঁয়া' মনে হয়।
রানার শ্রমজীবী মানুষ। দায়িত্বের কারণে তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। রাতের ঘুম বিসর্জন দিয়ে রানার ছুটে চলে। নির্জন রাতে বন্ধুর পথ সে অতিক্রম করে অসীম সাহসিকতায়। রানারের ঘামের চিহ্ন পড়ে থাকে পথের তৃণের উপর। কিন্তু প্রতিদানে রানার তেমন কিছুই পায় না। অভাবের কথা মনে হলে রানারের কাছে পৃথিবীটা কালো ধোঁয়ার মতো মনে হয়।
উদ্দীপকের ফুলি ও 'রানার' কবিতার রানারের সাদৃশ্য রয়েছে দায়িত্ববোধ এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেতনতায়।
জীবন-জীবিকার তাগিদে মানুষ নানা রকম কাজ করে। কোনো কাজই তুচ্ছ নয়। কাজের প্রতি যত্নবান এবং দায়িত্বশীলতাই মানুষকে মর্যাদাবান করে। জগতে শ্রম ও শ্রমের মর্যাদা যত বৃদ্ধি পায়, সভ্যতারও তত অগ্রগতি সাধিত হয়।
উদ্দীপকে বাসার কাজে নিয়োজিত দশ বছরের এক বালিকার দায়িত্ববোধ, কর্মদক্ষতা এবং তার প্রতি গৃহকর্তার পরিবারের লোকদের মানবিক আচরণের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। এখানে ফুলি রোগীকে ওষুধ খাওয়ানো, কাপড় কাচা, চা বানানো প্রভৃতি কাজ করে। বাড়ির সবার প্রতি সে সমান যত্ন ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে। এই দায়িত্বশীলতা ও কর্মসচেতনার দিকটি 'রানার' কবিতার রানারের দায়িত্ববোধ ও কর্মসচেতনতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। রানারও সর্বদা সজাগ থাকে সূর্য ওঠার আগেই খবরের বোঝা নিয়ে শহরে পৌছে যাওয়ার জন্য; নিজে কষ্ট স্বীকার করে কিন্তু দায়িত্বে অবহেলা করে না।
'উদ্দীপকের বাড়ির লোকজন যেন 'রানার' কবিতার রচয়িতার চেতনারই ধারক।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
মানুষ সামাজিক জীব। পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার ভিত্তিতেই সমাজ উন্নত ও গতিশীল হয়। সমাজের মানুষ নানা রকম কাজে নিয়োজিত থাকে। কর্মে দায়িত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠার পরিচয় দিলে সবাই তাকে ভালোবাসে এবং তার সঙ্গে মানবিক আচরণ করে।
উদ্দীপকে বাসা-বাড়ির কাজে নিয়োজিত ফুলি নামের দশ বছরের এক বালিকার দায়িত্ব সচেতনতা এবং তার প্রতি বাড়ির লোকের সহানুভূতিশীল আচরণের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে বাড়ির সবার প্রতি দায়িত্বশীল থাকার কারণে সে ঐ বাড়িরই একজন হয়ে উঠেছে। কাজের মেয়ে ফুলির অসুস্থতায় বাড়ির সবাই অস্থির হয়ে ওঠে। কাজের লোকের প্রতি এই মানবিকতার দিকটি 'রানার' কবিতার রচয়িতার চেতনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ 'রানার' কবিতায় কবি রানারের কষ্টকর জীবনের অবসান এবং তার প্রতি অন্যের সহানুভূতি প্রত্যাশা করেছেন।
'রানার' কবিতায় কবি রানারের ক্লান্তিকর কষ্টের জীবনে অন্যদের সহানুভূতি যে প্রত্যাশা করেছেন তা উদ্দীপকের বাড়ির লোকদের মধ্যে দেখা যায়। তারা বাড়ির কাজের মেয়ে ফুলির অসুস্থতায় অস্থির হয়ে উঠেছে, তার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছে। 'রানার' কবিতার কবিও অনুরূপ সহানুভূতি প্রত্যাশা করেছেন ক্লান্তিতে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাওয়া রানারের জীবনের জন্য। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নোত্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!