একজন ব্যবসায়ী মুনাফা অর্জনের আশায় অর্থ বিনিয়োগ করেন
ব্যবসায়ের ঝুঁকিগত বাধা দূর করার উপায় হলো বিমা।
এটি বিমাগ্রহীতা ও বিমাকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তি এক্ষেত্রে বিমাকারী বিমাগ্রহীতাকে নির্দিষ্ট প্রিমিয়ামের বিনিময়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি বা বিপদে ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তা দেয়। ব্যবসায়িক কাজ সম্পাদনের সাথে জড়িত ঝুঁকি হলো- চাহিদা ও দাম কমে যাওয়া, পণ্য পচন, দুর্ঘটনা, চুরি, ডাকাতি প্রভৃতি। এসব ঝুঁকির কারণে আর্থিক 'ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিমা করা হয়। আর বিমাগ্রহীতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিমাকারী নির্দিষ্ট বিষয়ের ক্ষতিপূরণ দেয়। এভাবে বিমা ব্যবসায়ের ঝুঁকিগত বাধা দূর করে।
কালু মিয়ার চারা উৎপাদনের কাজটি প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত।
এ শিল্পে উদ্ভিদ ও প্রাণির বংশবিস্তার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উৎপাদন কাজ পরিচালিত হয়। গাছপালা ও প্রাণীর বংশ বাড়ানো এ শিল্পের প্রধান কাজ। নার্সারি, পোলট্রি ফার্ম, ডেইরি ফার্ম, মৎস্য উৎপাদন, হ্যাচারি প্রভৃতি প্রজনন শিল্পের উদাহরণ
। উদ্দীপকের কালু মিয়া একখণ্ড জমিতে বিভিন্ন জাতের গাছের চারা উৎপাদন করছেন। এ চারাগুলো বড় গাছে পরিণত হলে ফল ও বীজ পাওয়া যাবে। এ বীজ থেকে আবার চারা উৎপাদন করা যাবে। এভাবে কালু মিয়ার উৎপাদিত গাছের চারা পুনরায় উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত হবে। তাই বলা যায়, কালু মিয়ার চারা উৎপাদনের কাজটি প্রজনন শিল্পের অন্তর্গত।
কালু মিয়ার ব্যবসায়ে লাভবান হওয়ার ক্ষেত্রে পরিবহন ব্যবস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে আমি মনে করি।
সাধারণত পণ্যসামগ্রী উৎপাদিত হয় নির্দিষ্ট একটি স্থানে। আর তা ভোগ করে বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। পরিবহন ব্যবস্থা উৎপাদিত পণ্য ভোগকারীর কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করে। এ ব্যবস্থা যত সহজ ও কম খরচে হয়, তত ব্যবসায়ে সফলতা অর্জন করা যায়।
উদ্দীপকের কালু মিয়ার পদ্মা নদীর তীরে একখণ্ড জমি আছে। তি জমিতে বিভিন্ন জাতের চারা উৎপাদন করছেন। কিন্তু বাজারে নেঞ্জ জায়বহুল হওয়ায় তিনি উৎপাদিত চারা বিক্রি করে সফল হ পারছিলেন না। এজন্য তিনি নিজস্ব পরিবহনের ব্যবস্থা করেছেন। কালু মিয়া এখন ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাধ্যমে উৎপাদিত চারা কম ঘরছ দূর-দূরান্তের বাজারে পৌঁছাতে পারছেন। পরিবহন খরচ কম হওয়ায় তিনি চারার দামও কম নির্ধারণ করতে পারছেন। ফলে তার ব্যবসায়ে বিক্রি বেড়েছে এবং তিনি বেশি মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।
অতএব, কালু মিয়ার ব্যবসায়ে লাভবান হওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা নেওয়া সম্পূর্ণ যৌক্তিক হয়েছে।
Related Question
View Allমসলিন বস্ত্রের জন্য বাংলাদেশের খ্যাতি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ব্যবসায়ের গঠন, পরিচালনা ও সম্প্রসারণের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এমন সব পারিপার্শ্বিক উপাদানের সমষ্টি হলো ব্যবসায় পরিবেশ।
একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল বা এলাকার পারিপার্শ্বিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায় গড়ে ওঠে। এসব পারিপার্শ্বিক অবস্থা (আবহাওয়া ওজলবায়ু, অর্থ ব্যবস্থা, শিক্ষা-সংস্কৃতি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সরকারি আইন প্রভৃতি) ব্যবসায়ের ওপর প্রভাব ফেলে। এগুলো ব্যবসায়ের ওপর কখনো অনুকূল, আবার কখনো প্রতিকূল প্রভাব ফেলে। এসব প্রভাব বিস্তারকারী উপাদান মিলে ব্যবসায় পরিবেশ গড়ে ওঠে।
সামাজিক পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে উদ্দীপকে উল্লিখিত শ্রমিক ও কারিগরদের সৃজনশীল রচনামূলকতা বিকাশ সম্ভব।
কোনো দেশের জনসংখ্যা, তাদের ধর্ম, বিশ্বাস, শিক্ষা-সংস্কৃতি, রীতি- নীতি ও দেশীয় ঐতিহ্য প্রভৃতির সমন্বয়ে সামাজিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। এসব উপাদান মূলত মানুষের সৃষ্টি ও তাদের কাজের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়। এটি ব্যবসায়ের লাভ-ক্ষতিকে প্রভাবিত করে।
উদ্দীপকে মসলিন বস্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এদেশের মানুষ ঐতিহ্যগতভাবে এ বস্ত্র উৎপাদনে দক্ষ ছিল। বর্তমানে এ বস্ত্র উৎপাদনের জন্য দক্ষ শ্রমিক ও কারিগরের অভাব দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে কর্মমুখী করা গেলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সহজ হবে। এতে শ্রমিক ও কারিগররা পুরনো ঐতিহ্য মসলিন কাপড় সম্পর্কে জানতে পারবে। পাশাপাশি উপযুক্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাকরলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হবে। এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা ও মানবসম্পদ সামাজিক পরিবেশের উপাদান। সুতরাং, সামাজিক পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে শ্রমিক ও কারিগরদের সৃজনশীল রচনামূলকতা বিকাশ সম্ভব।
বর্তমানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে উদ্দীপকে উল্লিখিত ব্যবসায়ের জন্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশের উন্নয়ন জরুরি বলে আমি মনে করি।
আর্থিক সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে অর্থনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। উন্নত যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠে প্রযুক্তিগত পরিবেশ। দেশের সার্বভৌমত্ব, সরকারি নীতিমালা, আইনশৃঙ্খলা প্রভৃতি উপাদানের সমন্বয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে ওঠে। আর অদক্ষ কর্মী ও অস্থিতিশীল রাজনীতি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। এছাড়া সুষ্ঠু রাজনীতির চর্চা দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে আমাদের দেশে মসলিন কাপড়ের ব্যবসায় প্রসারের জন্য অনুকূল পরিবেশ আছে। কিন্তু মূলধনের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা, হরতাল, ধর্মঘট ও দক্ষ কর্মীর অভাব আছে। এসব কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগে উৎসাহী হচ্ছেন না। ফলে প্রচুর বৈদেশিক চাহিদা থাকার পরও মসলিন কাপড়ের ব্যবসায়ের প্রসার হচ্ছে না। শিল্প ও বাণিজ্যের উন্নতির জন্য সুষ্ঠু ব্যবসায় পরিবেশ আবশ্যক। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহী হবেন। ফলে ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ হবে। সরকার অনুকূল শিল্পনীতি প্রণয়ন করলে নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এভাবে পরিবেশের উন্নয়নের মাধ্যমে মসলিন কাপড়ের ব্যবসায়ের প্রসার করা যাবে।
ব্যবসায় বা শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদকের কাছে পৌঁছানো কিংবা শিল্পে উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর সব কাজ (ক্রয়, বিক্রয়, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, বিজ্ঞাপন) হলো বাণিজ্য।
উৎপাদনের বাহন হলো শিল্প।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও কাঁচামালকে প্রক্রিয়াজাত করে মানুষের ব্যবহার উপযোগী পণ্য উৎপাদন করা হয়। আর এ উৎপাদন সংক্রান্ত কাজ শিল্পের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। তাই শিল্পকে উৎপাদনের বাহন বলা হয়
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
